কিভাবে সুখী হওয়া যায়? অনন্য উপায়সমূহ

কি করলে জীবনে সুখী হওয়া যায় প্রসঙ্গ এলে মনের অজান্তেই মান্না দের সেই জনপ্রিয় গানটি “সবাই তো সুখী হতে চা…য় সবাই তো সুখী হতে চা…য় তবু কেউ সুখী হয় কেউ হয়না জানিনা বলে যা লোকে সত্যি কিনা… জানিনা বলে যা লোকে সত্যি কিনা কপালে সবার নাকি সুখ সয়না মনে পড়ে যায়।

 

যাই হোক আজ আমি আপনাদেরকে দশটি উপায় সম্পর্কে জানাবো যার সাহায্যে আপনি জীবনে সুখী হতে পারবেন ইনশা আল্লাহ।

 

তাহলে আর দেরি কেন? জেনে নেওয়া যাক কি সেই ১০ টি উপায় যার মাধ্যমে একজন দুঃখী মানুষ ও নিজেকে পৃথিবীর সবথেকে সুখী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে!

 

কিভাবে সুখী হওয়া যায়

উপায় ১|| সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানানো

জীবনে সুখী হওয়ার উপায় হিসেবে সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানানো একটি অনন্য মাধ্যম। তারাই সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানান যারা নিজেদেরকে সুখী হিসেবে মনে করেন আর যারা নিজেদেরকে অসুখী হিসেবে গণ্য করেন তারা সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানানো ভুলে যান।

 

একইভাবে আপনি যদি অসুখী থেকেও সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানানো শুরু করেন এবং নিয়মিত তা করেন তবে দেখবেন সৃষ্টিকর্তা (আল্লাহ) আপনার দুঃখ দূর করে আপনাকে সুখী করে দিয়েছেন। আসল কথা হল সৃষ্টিকর্তার কাছে সুখ আনয়ন করা কোন ব্যাপারই না, কিন্তু তিনি মাঝে মাঝে আমাদের দুঃখ কষ্টে নিপতিত করে পরীক্ষা করে দেখেন।

 

আবার অনেক সময় তিনি অপেক্ষা করেন এই ভেবে যে কখন আমার বান্দা আমার কাছে কিছু চাইবে ও আমার নেয়ামতের শোকর গুজার করবে।

 

উপায় ২||  নিজের যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা

অধিকাংশ মানুষই ভাবে যে কি করলে জীবনে সুখী হবে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই অখুশি এ কারণে যে তাদের যা আছে তা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন। তারা মনে করেন যে তাদের কাঙ্খিত বস্তু যদি তারা পেয়ে যান তবে তারা সুখী হয়ে যাবেন, কিন্তু মূল কথা হলো টাকা-পয়সা, অর্থ-সম্পদ বা কোন বস্তু কখনোই সুখের কারণ হতে পারে না।

 

এটি আপনার একটি ভুল ধারণা মাত্র। যদি তাই হতো তাহলে পৃথিবীর সকল ধনী ব্যক্তি সব থেকে সুখী হতেন, কিন্তু আদতে অনেকেরই অর্থ-সম্পদ কম থাকলেও তারা অনেক সুখী জীবন যাপন করছেন।

উপায় ৩|| কারো সাথে তুলনা না করা

আর তুলনা যদি করতেই হয় তবে এমন কারো সাথে তুলনা করুন যার ধন-সম্পদ, খ্যাতি ইত্যাদি আপনার থেকে অপেক্ষাকৃত কম।

 

বর্তমান সময়ে অন্যের সাথে তুলনা করে দুঃখ ডেকে আনা একটি ভয়ঙ্কর ব্যধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। আপনি একটু খেয়াল করলে দেখবেন যে আপনি মনে করছেন যে ওর এটি আছে আমার তা নাই, আমার অমুক বন্ধুর ওই জিনিসটি আছে আমার সেই জিনিসটি নাই। এভাবে চিন্তা করে আপনি প্রতিনিয়ত দুঃখের সাগরে ভেসে যাচ্ছেন।

 

আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার বিভিন্ন বন্ধুবান্ধবের সাফল্য দেখেও আপনি তাদের সাথে নিজের অজান্তেই নিজেকে তুলনা করছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই দুঃখী হয়ে পড়ছেন।

 

উপায় ৪|| সব সময় হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করা ও নিজের দুঃখের কথা সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত আর কাউকে না জানানো

এটি একটি রহস্যময় ব্যাপার!

 

আপনি যদি সুখী না থেকেও সুখী থাকার ভান করেন তবে দেখবেন যে আপনি অটোমেটিকলি সুখী হয়ে গেছেন। আর এ জন্য সব সময় হাসিমুখে থাকার চেষ্টা করুন এবং সুদিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে রাখুন।

 

আর কখনোই নিজের দুঃখের কথা একে-ওকে বলে হা-হুতাশ করে বেড়াবেন না। এটি একটি সংক্রামক রোগের মত।

 

আপনি যত আপনার দুঃখের কথা মানুষকে বলে বেড়াবেন দেখবেন তত আপনার দুঃখ বাড়ছে এবং আপনি ততবেশি দুঃখী হয়ে যাচ্ছেন। তবে একজনকে আপনার দুঃখের কথা বলতে পারেন তিনি হলেন আপনার সৃষ্টিকর্তা কারণ তিনি আপনার দুঃখ দূর করতে পারেন।

 

তাই আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন আপনার মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আপনার দুঃখের কথা জানান এবং তা দূর করে দেবার জন্য আর্জি পেশ করুন।

 

উপায় ৫|| অন্যের দোষ দেখা কমিয়ে নিজের দোষ দেখা বাড়াতে থাকুন

ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে Oil Your Own Machine যার মানে হল নিজের চরকায় তেল দিন যা আপনারা সবাই জানেন!

 

এতে করে আপনি অন্যের ব্যাপারে নাক গলানো কমিয়ে দিতে পারবেন আর অন্যের ব্যাপারে যখনই নাক গলানো কমাবেন তখন দেখবেন যে আপনার দুশ্চিন্তা অটোমেটিকলি কমে যাচ্ছে।

 

উপায় ৬|| বাস্তবতা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন

জীবন মানে হলো এখানে সুখ দুঃখ দিন ও রাতের মতো আবর্তিত হতে থাকবে। তাই আপনি কখনোই সবসময় সুখী থাকার আশা করতে পারেন না।

 

এটাই জীবন আর এ বাস্তবতা আপনাকে মেনে নিতেই হবে। আর এটি যদি আপনি মেনে নিতে না পারেন তাহলে আপনার থেকে দুঃখী মানুষ আর কেউ হবে না। তাই মেনে নিন যে আপনি কখনো সুখী এবং কখনো দুঃখী থাকবেন আর এটি যদি আপনি মেনে নিতে পারেন তাহলে দেখবেন যে দুঃখের সময় আপনি সুখের কথা চিন্তা করে ভালো থাকতে পারছেন।

 

উপায় ৭|| সব সময় পজিটিভ মন মানসিকতা নিয়ে প্রস্তুত থাকুন

সুখ হচ্ছে পানির মত আর আপনার মন হচ্ছে পাত্রের মত। আপনি যদি নিজেকে প্রস্তুত না করেন তবে ভাঙা পাত্র থেকে যেমন পানি পড়ে যায় ঠিক তেমনি সুখ আপনার থেকে দূরে সরে যাবে।

 

তাই আশা নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত রাখুন।

 

“আশায় আশায় তবু এই আমি থাকি যদি আসে কখনো সেই সুখ পাখি… আশায় আশায় তবু এই আমি থাকি যদি আসে কখনো সেই সুখ পাখি…” তবে এই লাইন এর পরের অংশটুকু কিন্তু আপনার জীবনে আনা যাবে না যে অংশটিতে আছে যে এই চেয়ে থাকা আর প্রানে সয়না। তার মানে হল ধৈর্য হারা হওয়া যাবে না।

 

উপায় ৮|| বর্তমানকে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তাকে শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে তৈরি করুন

অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বর্তমান সময়ের আপনার যে সমস্যা আছে তা সমাধানের চেষ্টা করুন।

 

এতে করে আপনি সব সময় কাজে ব্যস্ত থাকবেন আর কাজে ব্যস্ত থাকলে আপনার দুশ্চিন্তা আপনার কাছ থেকে পালিয়ে যাবে।

 

আর দুশ্চিন্তা না থাকলে আপনি সুখী হতে বাধ্য।

 

উপায় ৯|| প্রতিদিন কাউকে না কাউকে সুখী করার চেষ্টা করুন

আপনি যতজনকে হাসাবেন আপনি নিজেও ততো পরিমাণে হাসতে পারবেন! এটি আসলে প্রকৃতির নিয়ম।

 

ইটকেলটি মারলে যেমন পাটকেলটি খেতে হয় তেমনি ভালো কাজের প্রতিফল ও কিন্তু ভালই হয়।

 

উপায় ১০|| কারো প্রতি হিংসা না করে সকলের মঙ্গল কামনা করুন

কারো প্রতি হিংসা রাখা যাবে না। আপনি যত বেশি হিংসা করবেন ততবেশি দুঃখ কষ্টে পতিত হবেন। তাই সকলের মঙ্গল কামনা করি।

 

আপনি যেমন আপনার নিজের জন্য ভালো চান ঠিক তেমনি সকল মানুষের জন্য ভালো চান দেখবেন যে আপনি অন্যের আনন্দে অনেক পরিমাণে আনন্দিত হতে পারছেন। এভাবে সব সময় যে আপনার সুখী হতে হবে এমনটি নয়। তবে সকলের খুশিতে আপনি সবসময়ই খুশিতেই থাকবেন।

 

তো বন্ধুরা পোস্টটি কেমন লাগলো আর পরবর্তীতে কি ধরণের পোস্ট পেতে চান তা কমেন্টে জানাবেন

Leave a Reply