মেয়েদের ঘরে বসে আয় রোজগার করার উপায় শিখুন

মেয়েদের ঘরে বসে আয় করার জন্য এই পোস্টে সব ধরণের নির্দেশনা পাবেন তাই মনযোগ সহকারে দেখতে থাকুন।

 

আজকাল দুই কারণে মেয়েরা কোন না কোন কাজ করে আয় করতে চান যার মধ্যে প্রথম কারণ হলো আর্থিক অসচ্ছলতা আর দ্বিতীয় কারণ হলো নিজে নিজে কিছু করার তাড়না।

 

অনেক পরিবারেই দেখা যায় যে বাবা বা যিনি মূল আয় করে থাকেন তিনি অসুস্থ বা কম আয় করায় সন্তান হিসেবে মেয়েরা কোন না কোন কাজে জড়াতে চান। আমার কাছে প্রায়ই ম্যাসেজ আসে যে ভাইয়া আমার পরিবারে অনেক অভাব তাই আমাকে কোন কাজ দেওয়া যাবে।

 

আবার অনেক আর্থিকভাবে সচ্ছল মেয়েরাও নিজেরাই রোজগার করতে চান, সাবলম্বী হতে চান।

 

যাই হোক, অনেক বছর ধরেই আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বে পুরুষের পাশাপাশি মেয়েরাও আয় করছে যদিও বিভিন্ন জায়গায় বৈষম্য দেখা যায়। একইসাথে আমাদের অনেক মেয়েরা জব করতে পারেন না নানা বাধা নিষেধের কারণে। এছাড়াও সমাজ মেয়েদের এই কাজ করতে দেয় না পর্দার খেলাফ হয় বলে।

 

সত্যি বলতে কি বর্তমান সময়ে সমাজের ধর্মীয় ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের ফলে মেয়েরা বাইরে অতটা নিরাপদও নয়। প্রায়ই শোনা যায় নানা রকম নারী নির্যাতনের খবর।

 

তো এসব কারণে কি কোন মেয়ে চাইলে কি কোন কাজ করে স্বাবলম্বী হতে পারবে না? জী হ্যা, অবশ্যই পারবে। ইন্টারনেটের বদৌলতে এখন মেয়েদের ঘরে বসে কাজ করে আয় করাটা হয়ে গেছে অনেক সহজ।

 

তো আজ আমি মেয়েদের ঘরে বসে রোজগার করার কিছু উপায় সম্পর্কে আলোচনা করবো। এই কাজ ঘরে বসে করতে পারবেন যার কারণে আপনি যদি অনেক পর্দাশীল কোন নারী হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রেও কোন সমস্য হবে না।

 

মেয়েদের ঘরে বসে রোজগার

একজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে এখানে আমি বেশকিছু অনলাইন মাধ্যম ও সাথে কিছু অফলাইন মাধ্যম দেখাবো যার মাধ্যমে ভাল আয় করা সম্ভব।

 

ইউটিউব

ইউটিউব এখন সবচাইতে ভালো ইনকামের মাধ্যম। মেয়েদের জন্য বলা যায় এইটাই বেস্ট। কারন ধরুন আপনি রান্না করছেন এইটাই হতে পারে আপনার কনটেন্ট। আপনি যা রান্না করছেন সেটি উপর ভিত্তি করে একটি ভিডিও বানাতে পারেন বা নতুন নতুন সব রান্নার ও ভিডিও বানাতে পারেন। মানুষ এখন খাদ্য প্রেমি হয়ে উঠেছে যার ফলে এরা খাইতে বেশ পছন্দ করে যার ফলে আপনার কনটেন্ট যদি ভালো হয় তাহলে আপনি খুব সহজে ইনকাম করতে পারবেন৷ আমিতো শুধু একটি কনটেন্ট এর কথা বল্লাম এছাড়াও হাজার হাজার কনটেন্ট রয়েছে। কিন্তু ইউটিউবের কিছু বাধা নিষেধ রয়েছে যেমন আপনি কোন এডাল্ট ভিডিও বা সুইসাইডাল টাইপের কোন ভিডিও আপলোড করতে পারবেন না। আপনাকে শিক্ষামূলক বা কমেডিয়ান বা টিউটোরিয়াল বা মিউজিক ভিডিও বা নাটক বা কোনো জিনিসের রিভিউ ইত্যাদি নিজের মত করে বানিয়ে আপলোড করতে পারেন। তবে অন্য কারোর ভিডিও নিজের চ্যানেলে আপলোড করা যাবে না।

 

এখন কথা হলো আপনি কিভাবে ইনকাম করবেন? সেটিও বলছি এর জন্য আপনার চ্যানেল মাইটাইজ করতে হবে এবং অ্যাডসেন্স অ্যাড করতে হবে। অ্যাডসেন্স অ্যাড করতে হলে   মিনিমাম ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। আর আপনার চ্যানেলের সমস্ত ভিডিও মিলে লাস্ট ১ বছরে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ ভিউ থাকতে হবে।  এই কাজ  যখন আপনার চ্যানেল পরিপূর্ণ করতে পারবে, তখনই আপনি অ্যাডসেন্সের জন্য অ্যাপলিকেশন করতে পারবেন। অ্যাপলিকেশনের পর অ্যাডসেন্স কর্তৃপক্ষ আপনার চ্যানেলটি ভাল করে রিভিউ করবে এবং আপনার চ্যানেলটি অ্যাপ্রুভ করে দেবে। আর অ্যাপ্রুভ হয়ে গেলেই আপনি আপনার ভিডিও গুলো থেকে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

 

এখন মুল কথা হলো অনেকে যে ভুলটি করে তা হল অনেকে ইউটিউবিং শুরু করা আগে ইন্সট্রুমেন্ট কিনে ৪০০০০/ ৫০০০০ টাকা নস্ট করে ফেলেন এটি আসলে আপনাদের মস্তবড় একটি ভুল। আপনাদের উচিত ইউটিউবিং যখন শুরু করবেন প্রথম আপনার যে ডিভাইস গুলি রয়েছে সে গুলি ব্যাবহার করবেন। এরপর আস্তে আস্তে যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি গ্রো করবে এবং মানিটাইজ করে যখন টাকা আসা শুরু করবে তখন আপনি দামি ইন্সট্রুমেন্ট কিনবেন।

 

আর্টিকেল রাইটিং

আর্টিকেল রাইটিং আপনারা হয়তো অনেকে ভাবছেন  আর্টিকেল রাইটিং আবার কি?  আমি বিষয়টি ক্লিয়ার করে বলছি ধরুন আপনি নিউজ পেপার পড়েন একটি খবর আপনি পড়েন এটাই আর্টিকেল। হয়তো তাও অনেকে ক্লিয়ার হতে পারছেন না আমি আরো ক্লিয়ার করছি ধরুন আমাদের এই ওয়েবসাইট এ বিভিন্ন বিষয় এর উপর লেখা যেমন আজকের যা নিয়ে লিখছি মেয়েদের ঘরে বসে রোজগার এইটাই একটা আর্টিকেল। আপনার লেখা যত ভালো হবে ততো বেশি আপনি ইনকাম করতে পারবেন। আপনারা অনেকে হয়তো অনলাইনে নিউজ পড়েছেন। নিউজ পেপারে যে সকল খবর লেখা থাকে সবগুলোই কিন্তু একজন লেখে না। এক একটি বিষয়ের জন্য এক এক জন নির্ধারন করা থাকে। তারা প্রতিদিনই তাদের বিষয়ে কিছু না কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল লিখে। যা পরে পেপারে পাবলিশ করা হয়।

 

পেপারের প্রতিটা নিউজের শেষে বা প্রথমে দেখবেন যে, ঐ নিউজটা যে লিখে পাঠিয়েছে তার নাম দেওয়া আছে। তো যারা এই সকল আর্টিকেল লেখে তারা একটি নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত লোক। যে বেতন দিয়ে থাকে তাদের নিউজ পেপারের মালিক।

 

কিন্তু এখন কথা হলো নিউজপেপার এর মালিক আপনাকে কেনো টাকা দিবে? আমি এখন আপনাদের এমন কিছু উপায় শেয়ার করবো যা করলে আপনাকে চাকরি করতে হবে না এমনকি আপনি চাকুরি থেকে বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন কথা গুলি মন দিয়ে পড়বেন আশা করি। আপনি হয়তো ওয়েবসাইট নাম শুনেছেন।  এই কাজ করতে হলে আপনাকে প্রথমে একটি ওয়েবসাইট খুলতে হবে এরপর ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করতে ২০০০/৪০০০ টাকা লাগে ডোমেইন কেনার জন্য। ডোমেইন কিনলেই আপনার ওয়েবসাইট ক্রিয়েট হয়ে যাবে। এরপর আপনাকে একটু কস্ট করে এই পেজে কাজ করতে হবে প্রতিনিয়ত আপনাকে কনটেন্ট লিখতে হবে।

 

আপনাকে যে শুধু নিউজ নিয়ে লেখতে হবে এমন কোনো কিছু নয় আপনি অন্যান্য জিনিষ নিয়েই লিখতে পারেন মেইন কথা হল আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে এরপর আপনাকে খুব সুন্দর ভাবে আর্টিকেল লিখে ভিউয়ারদের আকৃস্ট করতে হবে এবং প্রচুর ভিউয়ার আনতে হবে। যখন আপনার ওয়েবসাইটে যখন প্রচুর ভিউয়ার আসবে তখন আপনি গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করতে পারবেন তারপর গুগল আপনার পেজ ভ্যারিফাই করলে আপনার ওয়েবসাইটে এড আসা শুরু হবে যার ফলে তার ইনকাম আসা শুরু হবে।

 

এরপর যত ভিউয়ার আসবে আপনার তত টাকা ইনকাম হবে এবং আপনি অনেক টাকা আয় করতে পারবেন।

 

অ্যাডসেন্স

মেয়েদের জন্য এটি অন্যতম ভালো এবং সহজ কাজ হল অ্যাডসেন্স। এটি এই সময়ে বেশ জনপ্রিয় একটি কাজ এই কাজ গুলি আপনারা চাইলেও করতে পারবেন। আসুন অ্যাডসেন্স সম্পর্কে একটু জেন নিয়া যাক অ্যাডসেন্স মুলত গুগল একটি এড নেটওয়ার্ক। এডসেন্স এর আওতায় আপনি ৬৫% সিপিসি বা কস্ট পার ক্লিক পাবেন যেটার মাধ্যমে অনেক আয় করা সম্ভব যেটা সম্পুর্ণ প্যাসিভ ইনকাম। আপনারা নেট ইউজ করার সময়ে অনেক এড দেখে থাকবেন এই এয়াড যে সাইটে দেখবেন সেই  সাইটের মালিকের আয় হবে আপনিও এই ভাবে আয় করতে পারেন। এই অ্যাডসেন্স থেকে আয়ের জন্য আপনার  ইউটিউব চ্যানেল বা কোন ওয়েবসাইট  থাকতে হবে এবং ওয়েবসাইটের  মালিক হবে শুধুমাত্র আপনিই হবেন । কারণ অন্য কারোর জিনিস অ্যাডসেন্স এপ্রুভ করে না। এরপর  অ্যাডসেন্সে এপ্রুভ করে দিলেই আপনার ঐ সকল মাধ্যমে অ্যাড শো হবে। আর যত বেশি ভিউ আসবে তত বেশিই ইনকাম হবে আপনার। এই ইনকামের টাকাও আপনার অ্যাডসেন্স একাউন্টে এড হবে৷ অ্যাডসেন্সের এর একটি নিয়ম রয়েছে তা হল ১০০ ডলার না হওয়া পর্যন্ত আপনি এই টাকা ক্যাশ করতে পারবেনা এটি একটি খারাপ দিক হলেও খুব সহজে ইনকাম করা যায়। হয়তো আপনারা মোটামুটি ক্লিয়ার হতে পেরেছেন।

 

হাতের কাজ

যারা অনলাইনে কাজ ভালো ভাবে বুঝেতে পারেন না বা অনেকের সামর্থ থাকে না ল্যাপটপ না ওয়াইফাই কানেকশন নিবে তাই তাদের জন্য অন্যতম একটি উপায় হল হাতের কাজ। মেয়েদের হাতের কাজ অনেক রয়েছে যেমনঃ কাঁথা সেলাই, বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরি,দর্জির কাজ ইত্যাদি। এই গুলি ছাড়াও আরো অনেক ধরনের কাজ রয়েছে যা মেয়েরা করতে পারে। কাঁথা সেলাই কাজটি বেশ লাভ জনক একটি কাজ হতে পারে আমদের ঐতিহ্য ছিলো এক সময় এই গুলি কিন্তু আস্তে আস্তে এই গুলি বিলুপ্ত প্রায় যার জন্য এটিকে রক্ষাকরা যেমন জরুরি ঠিক তেমনি এই কাজ গুলি থেকে ভালো টাকা আয় করা সম্ভব।

 

আমাদের দেশে আগে প্রচুর হস্তশিল্প পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আস্তে আস্তে এই গুলি হারিয়ে যাচ্ছে বা হারিয়ে গেছে বল্লেই চলে। কিন্তু এক সময় খুব জনপ্রিয় ছিলো এই জিনিষ গুলি কিন্তু এখন আর এই গুলি দেখা যায় না। এই গুলির কাজ করে মেয়েরা যেমন আয় করতে পারবে ঠিক তেমন রক্ষা হবে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এবং আমাদের বর্তমান সরকার বেশ ভালো উদ্দোক গ্রহন করেছে যার ফলে আমাদের দেশে আয়োজন করা হচ্ছে হস্তশিল্প মেলা এবং এই মেলাতে হারিয়ে যাওয়া সব হস্তশিল্প তুলে ধরা হচ্ছে। তারই সাথে এই কাজে মেয়েরা অংশগ্রহন করে তারাও লাভবান হচ্ছেন তৈরি হচ্ছে মেয়েদের কাজের ক্ষেত্র।

 

এরপর আসি দর্জির কাজ এটি বর্তমানে মেয়েদের আয়ের অন্যতম উৎস৷ এরই সাথে এটি এখন বহুল প্রচলিত মেয়েদের একটি কাজ। এই কাজ আমার থেকে মেয়েরাই ভালো বুঝেন তাই এই সম্পর্কে আমার তেমন কিছু বলার নাই

 

বাসার ছাদে বা ফাঁকা জায়গায় নার্সারি

আমাদের বাসা বাড়িতে বেশ ফাকা যায়গা থাকে বা বাসা বাড়ির ছাদে ফাকা জায়গা থাকে এই সকল জায়গা ফাকা না রেখে এই খানে আপনারা নার্সারি করতে পারেন।

 

অনেকের আবার শখ থাকে নার্সারি করার। এই নার্সারিতে আপনি বিভিন্ন ফুলের চাষ করতে পারেন এখনকার সময়ে ফুলের ব্যাবসা খুবই লাভজনক। আর ফুল চাষ করলে গেলে আপনাকে খুব বেশি কিছু জানতে হয় না এবং সারাদিনে অল্প একটু সময় দিলেও হয়। এছাড়াও আপনি ফুল বাদেও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিও চাষ করতে পারেন এটিও খুব একটা কস্টের কাজ নয় এবং অল্প একটু ফাকা জায়গা থাকলেই কাজ করা যাবে।

 

তো আজ এই পর্যন্ত আশা করি কম পুঁজিতে ব্যাবসায়ের কিছু উপায় সম্পর্কে  মোটামুটি ক্লিয়ার একটি ধারনা দিতে পেরেছি। এর পরেও যদি কোন বিষয় নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে  জানাবেনএবং পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।
ধন্যবাদ

Leave a Reply