মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বেতন কেমন?

আসসালামুআলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন সবাই? আশা করি মহান আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।

 

চাকরি সোনার হরিন এর থেকে কম কিছু নয়। প্রায় প্রতিটি মানুষের একটাই লক্ষ্য থাকে আর তা হল চাকরি। আর সে চাকরি যদি হয় কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে তাহলে তো কোনো কথাই নাই।

 

আজকার অধিকাংশ মানুষেরই একটা স্বপ্ন থাকে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে জব করার কারণ অন্যান্য অফিসের তুলনায় এতে বেতন অনেক বেশি পাওয়া যায় এবং একটা আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক ফিল পাওয়া যায় এরকম কোম্পানিতে। একই সাথে সুযোগ সুবিধাও অনেক থাকে।

 

বেতন বেশি হবার কারনে এর প্রতি মানুষের ঝোঁকও অনেক বেশি৷ যেহেতু এই সব কোম্পানিতে বেতন ও সুযোগ সুবিধাও বেশি তাই এইসব জবের ক্ষেত্রে আপনাকে বেশ যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হয়।

 

আপনি যেহেতু চাকরিপ্রার্থী তাই ধরে নেয়া যাক আপনি যোগ্যই। কারন সাধারণত এসব মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোতে চাকরি করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে আপনার বাস্তবমুখী কাজের যোগ্যতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় । অনেকে হয়তো ভয় পাচ্ছেন আবার অনেকে হয়তো এজন্য খুশিই হচ্ছেন। কারণ আমাদের বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো সার্টিফিকেট ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারছেন না। সার্টিফিকেট ছাড়া আপনাকে অযোগ্য বলা হয় সেখানে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আপনাকে অনেক বড় সুযোগ দিছহে তাই খুসি হবারই কথা।

তবে বাড়তি যোগ্যতা স্বরূপ আপনাকে ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। কারণ আপনাকে বাইরের অনেক দেশের মানুষের সাথে ডিল করতে হবে তাই আপনার ইংরেজি জানা খুবই জরুরি। আপনার পক্ষে সব দেশের ভাষা জানা প্রায় অসম্ভব। আর ইংরেজি ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ তাই সবাই এই ভাষা ভালো জানে তাই অতি জরুরি আপনার এই ভাষা জানা।

এরপর ভাষা জানার পর যেটি জানা জরুরি তা হল টেকনোলজি সম্পর্কে জানতে হবে এবং সব সময় আপডেট থাকতে হবে। আমরা অনেকে অনলাইন মানে বুঝি শুধু ফেসবুক বা ইউটিউব কিন্তু এইটা আপনার ভুল ধারনা। আসলে আপনাকে জানতে হবে এবং অনলাইন দুনিয়ার খোঁজখবর সম্পর্কে জানা আবশ্যক। আপনাকে মেইল সম্পর্কে জানতে হবে। মোটামুটি অফিস রিলেটেড যে সকল কাজ আছে তা সম্পর্কে জানতে হবে তা হলে আপনার চাকরি পাকাপোক্ত হবে ইনশাআল্লাহ।

এরপর এই সকল জিনিস যখন আপনার ভিতর আপনার ভিতর থাকবে এবং আপনি বিবেচনা করে দেখলেন যে আপনি যোগ্য এই চাকুরির জন্য তখন আপনি এপ্লাই করবেন। এই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি গুলো সব সময় অনলাইন বেসড হয়। তাই এই প্রতিষ্ঠান গুলির চাকরির আবেদন অনলাইনে গ্রহণ করা হয় এবং প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকে। তাদের ওয়েবসাইটগুলো সব সময় আপডেট থাকে। সেখানেই তারা তাদের চাকরির খবর প্রকাশ করে। সুতরাং আপনি যদি তাদের ওয়েবসাইটগুলো ভালো করে দেখেন তবে তাদের কাজকর্ম সম্পর্কে যেমন জানতে পারবেন। এবং সেখানেই সব ডিটেইলস দেওয়া থাকবে।

অনেক মানুষ আছে যাদের বর্তমান বেতন ৪ লাখ প্লাস। এই হিউজ বেতন একমাত্র মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির পক্ষেই দেয়া সম্ভব। ইউনিলিভারের সিইও হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন কেদার লেলে। ওনার বেতন আর লাইফ স্টাইল দেখলে আপনি আপনার মাথা ঘুরে যাবে। এবং আপনি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ছাড়া অন্য কোনো চাকরিতে পা বাড়াতেও নিষেধ করবেন। প্রাইভেট জব এতটাই লাক্সারিয়াস হয়।

অনেকেই যানেন না যে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির বেশ কিছু পদ নিয়োগের পরও খালি পড়ে আছে যোগ্য ব্যক্তির অভাবে। সরকারি চাকরির জন্য আজীবন কত এক্সট্রা দক্ষতা অর্জন করেন কিন্তু লিটারেরি ওইটা আপনার কোনো কাজে লাগবে না । আপনি এক্সেলের কাজ পারেন না, ম্যানেজমেন্টে আপনার কোনো ডিপ্লোমা করা নেই, লিডারশীপ কি বুঝেনই না বস তাহলে বড় কোম্পানির লাখ টাকা স্যালারির এপয়েন্টমেন্ট লেটারটি আপনার হাতে কখনই আসবে না

আপনি কোনো কোম্পানির হেড অফ এইচ আর হলে আপনি সম্মান পাবেন। অন্যকে চাকরিও দিতে পারবেন। কারণ এই ডিপার্টমেন্টের কাজই হলো ক্যান্ডিডেট এর সিভি দেখে তাদের নিয়োগ দেয়া। যে ব্যক্তি অন্যদের চাকরি দেয়ার ক্ষমতা রাখে, তার সামাজিক মর্যাদা কোন জায়গায় থাকবে একবার ভেবে দেখুন তো। সরকারি চাকরিতে আপনার বেতন ফিক্সড, যতই যোগ্য হোন নিয়মের বাইরে স্যালারি নেই। আর প্রাইভেট কোম্পানিতে স্যালারি আপনি যা ডিমান্ড করবেন সেটাই আপনার স্যালারি এর জন্য আপনাকে অবশ্যই কোয়ালিফাই হতে হবে তাছাড়া আপনি পাবেন না এমন সুযোগ

আমাদের আশেপাশে এমন অনেক লোক রয়েছে যারা কোম্পানির টাকায় কেনা গাড়িতে কিংবা কোম্পানি থেকে পাওয়া গাড়িতে করে রিলাক্সে অফিসে যায় ঠিক তখনই তার সমবয়সী সরকারি চাকরিজীবী বন্ধুটি লোকাল বাসের জন্য দাঁড়িয়ে অফিসে পৌঁছাতে হয়।

মাল্টিন্যাশনাল কোনো এক কোম্পানিতে আপনি ৩ বছর জব করেছেন মানে ক্যারিয়ারের দিক থেকে আপনি বস । কারণ এই ৩ বছরের এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট নিয়ে আপনি যদি অন্য কোম্পানিতে জয়েন করেন তবে সেটা নিঃসন্দেহে আপনি আগের চেয়ে বড় পদে জয়েন করবেন। কিন্তু আপনি যদি সরকারি চাকরি একটা ৩ বছর করে অন্য চাকরিতে জয়েন করতে চান তবে আরো বড় পদে যাওয়া তো দূরের কথা। আপনাকে আবার প্রথম থেকে কাজ শুরু করতে হবে।

তো আজ এই পর্যন্ত আশা করি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বেতন সম্পর্কে মোটামুটি ক্লিয়ার একটি ধারনা দিতে পেরেছি। এর পরেও যদি কোন বিষয় নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেনএবং পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।
ধন্যবাদ

Leave a Comment