ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো? ফ্রিল্যান্সিং শেখার সঠিক উপায়

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে মানুষ যখন আগ্রহী হন তখন একটা জিনিস মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকে আর তা হল এই যে আমি ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো। এটা এ কারণে যে এই কাজের সম্ভাবনা জানা মানুষগুলো খুব দ্রতই তা শুরু করে আয় করতে চান।

 

যাই হোক আমি এর আগে ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি তবে ফ্রিল্যান্সিং শেখার বিষয় নিয়ে অতটা আলোচনা করিনি। তাই আজ আমি সেই বিষয়ে স্টেপ বাই স্টেপ প্রথম থেকে সমস্ত কিছু আলোচনা করবো যাতে করে যে কেউই এই পোস্ট থেকে বিষয়টি সম্পর্কে একেবারে নখদর্পণে বুঝতে পারে।

 

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো তার গাইড

ফ্রিল্যান্সিং হল মুক্ত একটি পেশা যেখানে আপনি বিভিন্ন ক্লায়েন্টের কাজ ঘরে বসে অনলাইনেই করে দিতে পারছেন এবং এর বিনিময়ে তিনি আপনাকে পে করছেন। এখানে আপনাকে ধরাবাঁধা দীর্ঘমেয়াদী কোন কন্ট্রাক্টে যেতে হচ্ছে না ফলে আপনি কারো কাছে আটকা পড়ে যাচ্ছেন না এবং এই সুবিধার কারণে একইসাথে আপনি অনেক ক্লায়েন্টের কাজ করতে পারছেন।

 

যাই হোক এখন আমি ফ্রিল্যান্সিং শেখার উপায় একে একে উপস্থাপন করছি। বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বসহকারে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখবেন বলে আশা করছি।

 

ধাপ ১। মানসিক প্রস্তুতি

যেকোন কাজ করার আগে মানসিকভাবে সেটআপ হওয়াটা খুবই জরুরি একটি বিষয়। প্রথমেই আপনাকে প্রশ্ন করুন যে আপনি কেন ফ্রিল্যান্সিং পেশায় যুক্ত হতে চাইছেন। এটা কি শুধুমাত্র অর্থ উপার্জন করা নাকি এ পেশাটি সম্পর্কে জানার পর তা আপনার ভালো লেগেছে?

 

যদি উত্তর হয় যে আপনি শুধুমাত্র ভালো আয় করার উদ্দেশ্যেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তাহলে দেখা যাবে যে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই তা ছেড়ে দেবেন যখন দেখবেন যে কাজ পাচ্ছেন না বা ভালো করতে পারছেন না। এর কারণ হলো প্রত্যেকটি কাজেরই সহজ ও কঠিন দিক রয়েছে। আপনি যখন ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জেনেছেন তখন শুধু এর ভালো দিকগুলোই শুনেছেন।

 

আর যখন সত্যি সত্যি কাজে নামছেন তখন যদি দেখেন যে প্রথম কাজ পেতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে তখন শুরু হবে ডিমোটিভেটেড হওয়া। অর্থাৎ আপনি তখন হাঁপিয়ে উঠবেন। কাজ ছেড়ে দেওয়ার টেন্ডেন্সি তৈরি হবে।

 

অন্যদিকে ফ্রিল্যান্সিং কাজটি যদি আপনার এমনিতেই ভালো লাগে অর্থাৎ বাসায় থেকেই অনলাইনে এমন কাজটিকে যদি এনজয় করতে পারেন তাহলে যতদিন টাকা আয় করতে না পারলেও এটি আপনার প্যাশন হওয়ায় তা আপনি চালিয়ে যাবেন কারণ তা করতে আপনার ভালো লাগছে।

 

মনে রাখবেন অর্থ উপার্জন হলো একটি বাই প্রডাক্ট অর্থাৎ আপনি আপনার পছন্দের কাজটি সুন্দরভাবে করতে থাকলে অটোম্যাটিকলি টাকা আসতে থাকবে। তখন আর আয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

 

তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিন যে ফ্রিল্যান্সিং কেন করতে চাইছেন? যদি আপনি মনে করে থাকেন যে কাজটিকে আপনার ভালো লাগছে, শুধু অর্থের জন্য না তাহলে আমি বলবো যে আপনি রাইট ট্র্যাকে আছেন।

 

ধাপ ২। প্রয়োজনীয় ডিভাইস

মানসিকভাবে প্রস্ততি নেওয়ার পর আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য একটি কম্পিউটার বা ল্যাপ্টপ ম্যানেজ করতে হবে। এটি দিয়ে কেন শুরু করলাম? এর কারণ হল আমি অনেককেই দেখেছি যে নিজস্ব একটি পিসি না থাকার কারণে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারছেন না।

 

এখন কথা হলো কেমন মানের ও কেমন দামের পিসি প্রয়োজন!! দেখুন এটা নির্ভর করে আপনি কাজের ধরণের ওপর। যদি শুধু ফ্রিল্যান্স রাইটিং এর কাজ করেন তাহলে কম কনফিগারেশনের একটা পিসি হলেই যথেষ্ট তবে গ্রাফিক্সের কাজ করতে গেলে একটু ভালো মানের পিসি দরকার হবে।

 

তাই ধরাবাঁধা ভাবে বলে দেওয়া যাবে না যে আপনি ওই পিসিটিই যেয়ে কিনে ফেলেন।

 

আগে আপনার কাজটি পছন্দ করবেন তারপর সে অনুযায়ী একটি পিসি কিনবেন। তো কি কাজ পছন্দ করবেন এ জন্য ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ এর লিস্ট সংক্রান্ত এই পোস্টটি পড়তে পারেন যেখানে অনেক ধরণের কাজের উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ধাপ ৩। জায়গা নির্ধারণ

অনেকেই এই ব্যাপারটি একেবারেই আমলেই নেয় না ফলে পরবর্তীতে অনেক ঝামেলা দেখা দেয়। আমি যখন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করি আমার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা হয়েছিল। ভেবেছিলাম ঘরে বসে কাজ করবো তার জন্য আবার আলাদা জায়গা বা রুমের কি দরকার। তাই কাজ করতাম আমাদের ড্রয়িংরুমে বসে। প্রায়ই ওই রুমে বিভিন্ন মানুষের আনাগোনায় আমার কাজে বিঘ্ন ঘটতো।

 

এরপর যখন ব্যাপারটি রিয়েলাইজ করলাম তখন ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য একটি ছোট অফিস তৈরি করি এবং সেখানে পিসফুলি কাজ করতে সক্ষম হই। আপনার প্রথম থেকেই উচিৎ একটি নির্ধারিত নিরিবিলি জায়গা বাছাই করা যেখানে বসে আপনি কাজটি করবেন।

 

ধাপ ৪। স্টাডি

এই কাজটি অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার হতে আগ্রহী মানুষরা স্কিপ করে যায় কারণ কোন কিছু নিয়ে স্টাডি করা অধিকাংশের কাছে কষ্টের মনে হয়। তবে আমি বলবো যে আপনি অবশ্যই আপনার পছন্দের বিষয়ের ওপর স্টাডি করবেন।

 

কিভাবে তা করবেন? দেখুন অনলাইনে হাজার হাজার আর্টিকেল ও ভিডিও পাবেন যেখান থেকে অনেক কিছুই জানতে পারবেন। কমপক্ষে দুই সপ্তাহ স্টাডি করুন এরপর পরবর্তী ধাপ অনুসরন করুন।

 

ধাপ ৫। প্রশিক্ষণ

প্রচুর স্টাডি করার ফলে এখন আপনার মাঝে অনেক ইনফরমেশন থাকার কথা যা আপনাকে পরবর্তী প্রশিক্ষনের ক্ষেত্রে অনেক কাজে দেবে। এবার আপনার প্রশিক্ষন নেবার পালা।

 

অনেকেই ফ্রিল্যান্সিং এর বিভিন্ন কাজ শিখিয়ে থাকেন তবে অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সিং শেখার প্রতিষ্ঠান এমন যে তারা নিজেরা হয়তো কখনো ফ্রিল্যান্সিং করেই নি কিন্তু তা মানুষদের শেখাচ্ছেন।

 

তাই আপনাকে বুঝেশুনে ভালো কারো কাছ থেকে কাজগুলো শিখতে হবে। অনেকের ক্ষেত্রে এমনও হয় যে অনলাইন থেকে বিভিন্ন জিনিস স্টাডি করার পর আর কারো কাছ থেকে শেখা লাগে না। সেটা হলে তো ভালো কথা।

 

ধাপ ৬। প্রোফাইল তৈরি

 

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন, তার প্রত্যেকটা বিষয় আমি ধাপে ধাপে বলবো।

 

আমাদের দেশে ফ্রিল্যান্সিং এর যে অনেক ডিমান্ড সেটা আমার অন্যান্য পোস্ট দেখে হয়তো নিশ্চয়ই বুঝেছেন। এমন একটা মার্কেটপ্লেস, যার মাধ্যমে আপনার মেধা অনুযায়ী কাজ করে হিউজ টাকা আয় করতে পারবেন। তবে তার জন্য আপনাকে প্রোপারলি ভাবে কাজ শিখতে হবে। আর আপনি যদি কাজ ভাল না পারেন তাহলে এই মার্কেটপ্লেসে কোন আয়ই করতে পারবেন না।

 

কারণ লক্ষ লক্ষ মেধাবী লোক কাজের আসায় বসে আছে এই মার্কেটপ্লেসে। কিন্তু কাজ পাচ্ছে মাত্র গুটি কয়েক লোক। এর প্রধান কারণ হল, অধিকাংশ লোকেরই অভিজ্ঞতার অভাব। কারণ বেশির ভাগ লোক নিজে নিজে কিছু শিখে বা কোন একটা প্রতিষ্ঠানের লোভ দেখানো অফারের মাধ্যমে কাজ করে ফ্রিল্যান্সিং করতে নেমে যায়। কিন্তু এই সমস্ত লোকজন কাজই পায় না।

 

অনলাইনে অনেকে ভিডিও দেখেই শুরু করে দেয় ফ্লিল্যান্সিং। তাদের বেলায়ও একই প্রব্লেম হয়। সেটা হল, কাজ পায় না। আবার কেউবা কোন একটা অনলাইন মাধ্যম বা প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক টাকা দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য কিছু বই বা সিডি বা ভিডিও কিনে সেটা দেখে নেমে পড়ে ফ্রিল্যান্সিং এ। এরাও কাজ পায় না।

 

কেন এরা কাজ পায় না সেটা আমি যুক্তি সহকারে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

 

কিছু লোক আছে যারা ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সামান্য কিছু জ্ঞান অর্জন করেই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে দেয়। কিন্তু সেখানে বছরের পর বছর পড়ে থেকে যখন কাজ পায় না তখন তাদের মাথায় আসে অন্য চিন্তা। আর সেই চিন্তার ফলশ্রুতিতে তৈরি হয় বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং শেখার প্রতিষ্ঠান। কারণ এরা কাজ না পেয়ে প্রতিষ্ঠান খুলে বসে টাকা ইনকামের জন্য।

 

অনেক অনেক লোভ দেখানো ছাড় অফার করে এরা লোক ডেকে আনে তাদের প্রতিষ্ঠানে ফ্রিল্যান্সিং শেখানোর জন্য। তারপর নিজেদের ঐ সামান্য কিছু ফ্রিল্যান্সিং জ্ঞান স্টুডেন্টদের মাথায় পুরে দিয়েই কোর্স কম্পিলিট করিয়ে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করে ঐ সকল জ্ঞানহীন ট্রেইনাররা। পরে ঐ স্টুডেন্ট গুলো যখন এই সব প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং করতে শুরু করে দেয়, তখন ঐ সকল ট্রেইনারদের মত এরাও ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ না পেয়ে পড়ে থাকে বছরের পর বছর। মাঝখান থেকে টাকা ইনকাম করে প্রতিষ্ঠানের ট্রেইনারগুলো। কারণ এদের এটা ছাড়া ইনকামের অন্য কোন পথই থাকে না। তাই প্রতিষ্ঠান খুলে বিভিন্ন অফার ক্রিয়েট করে সাধারণ মানুষগুলোকে টার্গেট করে টাকা ইনকামের পথ বেছে নেয়।

 

আবার যারা বিভিন্ন লোভ দেখানো ভিডিও দেখে কাজ শেখে তারা যাস্ট শেখে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং একটা অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, কিভাবে প্রোফাইল সাজাতে হয়ে ইত্যাদি ইত্যাদি। এর বেশি কিছু শিখতে পারে না ভিডিও থেকে। তাই এরাও শেষে কাজ পায় না ফ্রিল্যান্সিং এ।

 

ফ্রিল্যান্সিং শেখার জন্য তাই আমি এমন একটা মাধ্যম সাজেষ্ট করবো, যার মাধ্যমে আপনি ১০০% কাজ শিখে ফ্রিল্যান্সিং এ ইনকাম করতে পারবেন।

 

আমার সাইটে ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ শেখার জন্য একদমই ফ্রি যেসকল পোস্ট এবং ভিডিও আছে সেগুলো ফলো করে গেলে এবং তার সাথে সাথে প্রাক্টিক্যালি কাজে লাগাতে পারলে আপনি ১০০% আয় করতে পারবেন এই জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস থেকে। আমি ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে ব্যসিক ধারণার পাশাপাশি কিভাবে প্রোফাইল ক্রিয়েট করলে বায়ার আকর্ষিত হয় এবং কাজ শেখানোর পাশাপাশি কিভাবে কাজ করলে আপনি কাজ আবশ্যই পাবেন সেটা নিয়ে একটা পূর্নাঙ্গ টিউটোরিয়াল পোস্ট করেছি।

 

আপনি আমার এই পোস্ট এবং ভিডিও দেখে ১০০% সফলতা পাবেন। আর আপনি সফলতা না পেলে আমার সাথেও যোগাযোগ করতে পারেন। আমি সব ধরনের সহযোগিতা করবো অলটাইম। আমি টিউটোরিয়ালটা এমন ভাবে সাজিয়েছি, যেটা ফলো করলে যারা ফ্রিল্যান্সিং ই বোঝে না তারাও ফ্রিল্যান্সিং এ কাজ করতে পারবে। তবে আমাদের মূল শর্ত হল, আমার টিউটোরিয়াল গুলো ধাপে ধাপে ফলো করার পাশাপাশি সেটা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে যতে হবে।

 

হ্যা, আমি পারতাম এই টিউটোরিয়াল গুলো ফ্রি তে না দিয়ে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে। কিন্তু আমি একজন সফল ফ্রিল্যান্সার। আমি আমার ফ্রিল্যান্সিং থেকে যা আয় করি সেটা দিয়ে আমার আরামেই চলে যায়। তাই আপনাদের উপকারের জন্যই আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে এই টিউটোরিয়াল তৈরি করেছি।

 

ছাত্র অবস্থায় আয়: ৮ টি অভাবনীয় পদ্ধতিতে আপনিও আয় করুন

ঘরে বসে আয় করার উপায়: অনেক কয়টি উপায় সম্পর্কে বলছি আজ

বাড়তি আয়ের উপায় ~ ৬ টি উপায়ে আপনিও বাড়তি আয় করতে পারেন 

2 Comments

  1. md.saiful islaĺm November 1, 2021
  2. md.saiful islaĺm November 1, 2021

Leave a Reply