ফ্রিল্যান্সিং এর কাজসমূহ। কি কি কাজ করা যায়?

ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জানার পর অধিকাংশ মানুষ একটা জিনিসের উত্তর খুঁজতে থাকেন আর তা হল এই যে ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায়। এর কারণ হল অনেক অনেক কাজের মাঝে আপনাকে একটা কাজ খুঁজে বের করতে হবে যেটার প্রতি আপনার ঝোঁক রয়েছে।

 

এমন কোন ফ্রিল্যান্সিং কাজ বেছে নেওয়া যাবে না যেটা আপনার কাছে বোরিং লাগে, কিন্তু শুধুমাত্র চাহিদা বেশি আছে বিধায় করছেন। তাই সবসময় মনে রাখতে হবে যে ফলো ইয়োর হার্ট অর্থাৎ মন থেকে যেটা ভালো লাগবে সেটা করলেই ভাল ফল পাবেন।

 

যাই হোক আর কথা না বাড়িয়ে মূল প্রসঙ্গে চলে যাই অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি।

 

আমার ইউটিউব চ্যানেল লিংক (এখানে ক্লিক করুন)

 

ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ

নিচে আমি একে একে বিভিন্ন ধরণের কাজের কথা উল্লেখ করে তার বিস্তারিত জানাচ্ছি।

 

ডিজাইনিং

ডিজাইনিং বা নকশা করা হল ফ্রিল্যান্সিং এর অন্যাতম জনপ্রিয় ও চাহিদাসম্পন্ন একটি কাজ। আপনি আপনার আশেপাঁশে যতকিছু দেখেন না কেন সেটায় বিভিন্ন ডিজাইন করা থাকে, একটা কোম্পানির দিকে তাকালে তাদের থাকে লোগো।

 

একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার মেনু দেখার সময় দেখবেন যে খাবার এর ছবি দিয়ে বিভিন্নভাবে তা ডিজাইন করা। তাই বিশ্বব্যাপী ডিজাইন করার কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে আর তা দিনে দিনে বাড়ছে কারণ দিনে দিনে ব্যবসার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর যত ব্যবসা বাড়ছে ততো নিত্যনতুন ডিজাইন করারও প্রয়োজন পড়ছে, কিন্তু একজনকে আলাদাভাবে ডিজাইনিং এর জন্য রাখা সব ব্যবসার জন্য লাভজনক নয়। তাই প্রয়োজন পড়ে সাময়িকভাবে কাউকে হায়ার করে ডিজাইনিং এর কাজটি করিয়ে নেওয়ার।

ডিজাইনিং ফ্রিল্যান্সিং কাজ

এই দেখেন এখানে একটি ব্রোশার ডিজাইনিং এর কাজ দেখতে পাচ্ছেন যেটা আমি একটি ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম থেকে নিয়েছি। এখানে একটি ডিজাইনিং এর জন্য ক্লায়েন্ট বাজেট রেখেছে ১০৭ ডলার।

 

অনেক ধরণের ডিজাইনিং এর কাজ রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে লোগো, পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট, ফ্লায়ার, ব্রোশার, ইনফোগ্রাফিক, প্রেজেন্টেশন ডিজাইন ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

ছোটবেলা থেকে আমার ডিজাইনিং এর প্রতি আকর্ষণ থাকার কারণে আমি অনলাইনে আমি বেশকিছু ডিজাইনও করেছি তবে সেটা প্রফেশনালি নেইনি কারণ ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যান্য কাজগুলো আমার কাছে বেশি মনে ধরেছিল।

 

রাইটিং বা লেখালেখি

অনলাইনে বিভিন্ন ধরণের কাজের ক্ষেত্রে টেক্সট সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ আমরা এর মাধ্যমেই ওয়েব কন্টেন্ট তৈরি করে থাকি। বর্তমানে যদিও ভিডিও ও আরো অনেক ধরণের ওয়েব কন্টেন্ট তৈরি হচ্ছে তথাপি এসবের স্ক্রিপ্ট তৈরির জন্য সেই মৌলিক লেখার পেছনেই ক্লায়েন্টদের ছুটতে হয়।

 

আপনি কোন একটা তথ্য ইন্টারনেট থেকে পেতে চাচ্ছেন তখন আপনি কি করেন? গুগল করে তা সম্পর্কে জানতে চান আর তখন হাজার হাজার আর্টিকেল আপনার সামনে হাজির হয় যার অধিকাংশই বিভিন্ন লেখালেখি।

 

এজন্য অনলাইন লেখালেখির কাজ দিনে দিনে বেড়েই চলেছে কারণ নতুন নতুন ওয়েবসাইট ও ব্লগ তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়তই। তাই আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্স রাইটার হিসেবে আত্নপ্রকাশ করতে চান তাহলে কাজের অভাব হবে না যদি তা ভালভাবে করতে পারেন।

 

লেখালেখির জন্য আপনাকে যে খুব বেশি সৃজনশীল হতে হবে তা কিন্তু নয় তবে যে বিষয় সম্পর্কে ভাল জানেন তার ওপর লেখালেখি করলে তার মানও ভাল হবে এবং আপনি এটি করে বোরিং ও হবেন না।

 

ক্লায়েন্ট যে বিষয়ের ওপর আপনাকে লিখতে দেবে তা সম্পর্কে অনলাইনে আগে থেকেই অনেক অনেক আর্টিকেল পাবেন যেখান থেকে আপনি ভাল্ভাবে রিসার্চ করে তারপর আপনার লেখা লিখতে পারবেন। এজন্য যথেষ্ট স্পেইস পাচ্ছেন।

 

তবে মনে রাখবেন অন্যদের লেখা কপি করা যাবে না। কপি করেছেন তো মরেছেন।

 

নিচে বেশকিছু রাইটিং এর কাজের উদাহরণ দিলামঃ

১। আর্টিকেল ও ব্লগ পোস্ট রাইটিং 
২। ক্রিয়েটিভ রাইটিং
৩। একাডেমিক রাইটিং
৪। ওয়েবসাইট কনটেন্ট রাইটিং
৫। টেকনিক্যাল রাইটিং
৬। সিভি ও কভার লেটার রাইটিং
৭। গ্রান্ট রাইটিং
৮। কপিরাইটিং
৯। বিজনেস প্লান রাইটিং ইত্যাদি

 

আমি অনলাইনে লেখালেখির কাজ দিয়েই প্রথম ফ্রিল্যান্সিং কাজ শুরু করেছিলাম। আসলে লেখালেখি করতে আমার ভাল লাগতো। এখানে আপনাকে একটু খেয়াল রাখতে হবে যে রাইটিং এর অধিকাংশ কাজ কিন্তু হয় ইংলিশ ভাষায় তাই ইংলিশে কিছুটা দখল না থাকলে এ কাজের দিকে না যাওয়াটাই ভাল।

 

SEO এবং অন্যান্য ডিজিটাল মার্কেটিং

এসইও বা সার্চ এঞ্জিন অপটিমাইজেশন আগা-গোড়াই একটি অপরিহার্য বিষয়। অনলাইনে কোন লেখা বা ভিডিও অডিয়েন্স এর সামনে এমনি এমনি পৌঁছাবে না বরং এর পেছনে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। অর্থাৎ অনেক পরিশ্রম করে তা গুগল এর প্রথম পাতায় র‍্যাংক করাতে হয়। আর একেই বলে এসইও।

 

এজন্য এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্ট ও অফসাইট এসইও এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় অনেকেই এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

 

আপনি যেকোন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে গেলেই এসইও রিলেটেড অসংখ্য কাজের বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন।

 

অন পেইজ এসইও অনলাইন রাইটিং এর সাথে জড়িত কারণ অনলাইনের লেখাগুলো এসইও ফ্রেন্ডলি হতে হয় আর এজন্য আমাকে লেখালেখির পাশাপাশি এসইও নিয়েও কাজ করতে হয়েছিল।

 

এসইও ছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যান্য ফিল্ড এই যেমন সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, পিপিসি, কন্টেন্ট মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিং ইত্যাদি কাজের জন্য দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের প্রয়োজন পড়ে।

অনলাইনে যারা একটি সুন্দর ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের জন্য আমি এফিলিয়েট মার্কেটিং, ব্লগিং, ফ্রিল্যাসিং, এসইও (SEO), ইউটিউবিংসহ ডিজিটাল মার্কেটিং এর ওপর বেশকিছু কোর্স করাচ্ছি যেখানে আমার লাইভ ক্লাসে অংশগ্রহণ করে হাতে-কলমে বিষয়গুলো শিখে নিতে পারেন। দেশ ও বিদেশে অবস্থানকারী ভাই-বোনদের জন্য লাইভ জুম ক্লাসে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কোর্স এ অংশগ্রহণ করতে ও বিস্তারিত জানতে এক্ষুনি আমার সাথে এই ০১৭৯৭-১৭০২০০ নাম্বারে যোগাযোগ করুন।

 

ছবি, অডিও এবং ভিডিও

দিনকে দিন ভিডিও কন্টেন্ট এর চাহিদা বাড়ছে যার সাথে অডিও সম্পর্কিত। এজন্য অডিও ও ভিডিও নিয়ে কাজ করতে ভাল লাগলে এ সম্পর্কিত অনেক অনেক কাজ পাবেন।

 

আর ফটোগ্রাফির কাজ তো রয়েছেই। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফি, ফটো জারনালিজম, ভিডিওগ্রাফি, ইমেইজ এডিটিং, ফিল্মমেকিং এসব কাজ আজকাল অনেক কম্পানিই আউটসোর্স করে থাকে তাই ফ্রিল্যান্সারদের জন্য রয়েছে এসব কাজ পাবার অফুরন্ত সুযোগ।

 

অ্যাডমিন জবস

প্রত্যেকটি অফিসেই বিভিন্ন ধরণের এডমিন জব রয়েছে তবে অনলাইনের এই যুগে এখন অনেক অফিসই ভারচুয়ালি এডমিন নিয়োগ করে। এতে যেমন খরচ বেঁচে যায় আবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দক্ষ মানুষও নিয়োগ দেওয়া যায়।

 

এই যেমন ধরেন আমেরিকার একটি অফিসে ইমেইল চেক করে তার রিপ্লাই দেবার জন্য একজন লোক দরকার। এখন ওই অফিস খুব সহজেই একজনকে হায়ার করতে পারে যে কিনা এই কাজটি করে দিতে পারে। আমেরিকার কাউকে ফিজিক্যালি হায়ার করলে অনেক বেশি খরচ পড়তো যেটা তারা বাংলাদেশের একজনকে অনেক কম পারিশ্রমিকে হায়ার করতে পারবে।

 

নিচে বেশকিছু ধরণের এডমিন কাজের উদাহরণ দেখুনঃ

১। ডাটা এট্রি
২। ট্রান্সক্রিপশন
৩। ভারচুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স
৪। প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট
৫। ওয়েব রিসার্চ ইত্যাদি

 

ওয়েব ডিজাইনিং এবং সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট

আপনি যদি কোডিং এ ভাল হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ওয়েব ডিজাইনিং এবং সফটওয়ার ডেভেলপমেন্টের কাজ করতে পারেন। এই ধরনের কাজের পেমেন্টও বেশি হয়ে থাকে। আপনাকে যে কোন ধরনের ওয়েবসাইট ও সফটওয়ার তৈরি করতে হতে পারে। তাই ভাল ভাবে এই বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। হতে পারে মোবাইল সফটওয়ার বা কম্পিউটারের সফটওয়ার।

 

ট্রান্সলেশন

আজকাল এক ভাষার কন্টেন্ট আরো অনেক ভাষায় ট্রান্সলেট করার প্রয়োজন হয় কারণ এর মাধ্যমে অনেক বেশি অডিয়েন্স ওই কন্টেন্ট সম্পর্কে জানতে পারে। এজন্য অনেক ব্যবসা তাদের লেখালেখি, অডিও ও ভিডিও অন্যান্য বিভিন্ন ভাষায় ট্রান্সলেট করে থাকে। এজন্য তারা ফ্রিল্যান্স ট্রান্সলেটর খুঁজে থাকে।

 

তাই আপনি যদি দুই বা ততোধিক ভাষায় পারদর্শী হয়ে থাকেন তাহলে ট্রান্সলেটর হিসেবেও কাজ শুরু করে দিতে পারেন।

 

এছাড়াও ফ্রিল্যান্সিং এ আরো অনেক অনেক কাজ আছে যার পরিধি বলে শেষ করা যাবে না এই যেমনঃ
কনসালটেশন এবং অ্যাকাউন্টিং
ডাটা সাইন্স ও এনালাইটিক্স
আইটি ও নেটওয়ার্কিং
কাস্টমার সার্ভিস
সেলস এবং মার্কেটিং
ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার ইত্যাদি

 

তবে বাংলাদেশে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, কনটেন্ট রাইটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এস.ই.ও), ওয়েব ডিজাইন, অনলাইন ডাটা এট্রি ইত্যাদি ধরনের কাজই বেশি করা হয়ে থাকে।

 

আজ এ পর্যন্তই। তবে একটা কথা। আমার সাইটের অন্যান্য পোস্ট দেখতে ভুলবেন না। কারণ আমি আমার সাইটে সকল কনটেন্টই পূর্ণাঙ্গভাবে পোস্ট করি, যাতে করে সে বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে জানতে কোন কিছু বাদ না থাকে।

 

ধন্যবাদ

 

আরো কিছু জনপ্রিয় পোস্টসমূহঃ

এফিলিয়েট মারকেটিং কিভাবে শুরু করবেন?

ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবেন তার গাইড

3 Comments

  1. md.torikul July 26, 2021
  2. Sayed jamanSharif September 1, 2021
  3. sonjoy December 8, 2021

Leave a Reply