প্যাসিভ ইনকাম কি এবং কিভাবে প্যাসিভ ইনকাম শুরু করা যায়?

একটি প্যাসিভ ইনকাম সোর্স আমাদের জীবনকে স্বাচ্ছন্দময় করে দিতে পারে।

 

তো প্রথমেই জেনে নেয়া যাক প্যাসিভ ইনকাম কি?

 

প্যাসিভ ইনকাম!

প্যাসিভ ইনকাম হলো এমন একটি ইনকাম ব্যবস্থা যেখানে টাকা আয় করতে গেলে আপনাকে সবসময় তার সাথে লেগে থাকতে হয় না। 

 

একটি বাস্তব উদাহরণ দিলে আপনার কাছে প্যাসিভ ইনকাম বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 

ধরুন আপনি একটি বাড়ি বানালেন ভাড়া দেয়ার উদ্দেশ্যে। বাড়ি বানাতে আপনার সময়, শ্রম, ও অর্থ সবই দিতে হয়েছে।

 

এরপর যখন আপনার বাড়ি বানানো হয়ে গেলো, তখন আপনি “TO LET” লাগিয়ে ভাড়াটিয়া উঠিয়ে দিলেন।

 

এবার মাসে মাসে আপনি ভাড়া পাচ্ছেন, কিন্তু আপনার ওই আয়ের জন্য আর কিছুই করতে হচ্ছে না।

 

কি মজার একটি ব্যাপার তাই না?

 

আসলেই তাই!

 

বাড়ি ভাড়া হলো অফলাইনে একটি ভালো প্যাসিভ ইনকামের উদাহরণ।

 

অনলাইনে অজস্র প্যাসিভ ইনকামের উপায় আছে এবং এই কোর্সে আমি সবথেকে ভালো কিছু প্যাসিভ ইনকাম কিভাবে করা যায় তাই দেখাবো।

 

প্রথমেই খুশি হোন এই জেনে যে অনলাইনের প্যাসিভ ইনকাম তৈরী করতে অফলাইনের মতো এতো এতো টাকা, সময়, ও শ্রম দিতে হয় না।

 

প্যাসিভ ইনকাম কেন সব ইনকাম থেকে সেরা?

এবার আমি দেখাবো কেন প্যাসিভ ইনকামই সব থেকে সেরা ইনকাম!

 

নিচে প্যাসিভ ইনকাম সব থেকে সেরা হবার উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ দেয়া হলো –

  • প্যাসিভ ইনকাম সোর্স তৈরী করতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সময়, অর্থ, ও শ্রম দিতে হয়, এরপর কিছুটা সময় দিয়ে শুধু ব্যবসাটি মেইনটেইন করলেই হয়
  • আয় করতে সবসময় ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকতে হয় না
  • সময়, স্থান, ও অর্থের পূর্ণাঙ্গ বা অনেকটাই স্বাধীনতা পাওয়া যায়
  • কারো অধীনে থাকতে হয় না
  • নিজের কাজের রুটিন নিজেই ঠিক করা যায়

ইত্যাদি, ইত্যাদি আরও অনেক সুবিধা থাকার কারণে একটি প্যাসিভ ইনকামই হতে পারে আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ ইনকাম ব্যবস্থা।

 

তাহলে একটু ভেবে দেখুন অফলাইনে বাড়ি ভাড়া বা অনলাইনে একটি প্যাসিভ ইনকাম ব্যবস্থা তৈরী করতে পারলে আপনার নিয়মিত আয় হতে থাকবে, কিন্তু এর জন্য আর সেরকম কষ্ট করতে হবে না।

 

এরপর আপনার আয় যেকোনো সময়ই হতে পারে সে আপনি যেখানে, যেভাবেই থাকুন না কেন আর একারণেই আমরা বলি যে অনলাইন প্যাসিভ ইনকাম ঘুমিয়ে থাকলেও হতে থাকে।

 

প্যাসিভ ইনকাম পেতে হলে আপনার কোনো নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে হয় না, ফলে আপনি চাইলে যেকোনো জায়গায় বেড়াতে যেতে পারেন ও এক আনন্দময় জীবন উপভোগ করতে পারেন।

 

আর অর্থের কথা ভাবছেন?

 

অনলাইনে একটি প্যাসিভ ইনকাম তৈরী করতে পারলে আয় নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।

 

প্যাসিভ ইনকামের আরও একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো যে এটা করতে গেলে আপনার কারো অধীনে থাকতে হয় না।

 

ব্যবসা আপনার, আপনিই মালিক, আপনিই সকল কিছুর হর্তা-কর্তা।

 

তাই নিজে কাজ কখন করবেন, কিভাবে করবেন, কতটুকু সময় দেবেন, তা আপনি নিজেই ঠিক করতে পারেন যদি আপনার একটি প্যাসিভ ইনকাম সোর্স থাকে।

 

প্যাসিভ ইনকাম করা যায় এমন একটি ব্যবসা পছন্দ করুন

তো প্যাসিভ ইনকাম কি এবং এর সুবিধাসমূহ সম্পর্কে তো আগের ২ টি পার্টে জানলেন।

 

এবার আপনাকে এক বা একাধিক প্যাসিভ ইনকামক্ষম ব্যবসা বেছে নিতে হবে, তাই জেনে নেয়া যাক অনলাইনে কি কি ব্যবসা আছে যা থেকে প্যাসিভ ইনকাম করা যায়।

 

এখানে ৩ টি উল্লেখযোগ্য প্যাসিভ ইনকামযোগ্য ব্যবসার কথা আপনাকে জানাবো যা থেকে আপনি খুব সহজেই প্যাসিভ ইনকাম শুরু করতে পারেন।

 

৩ টি প্যাসিভ ইনকামক্ষম ব্যবসা নিম্নে দেয়া হলো –

এফিলিয়েট মার্কেটিং

প্যাসিভ ইনকাম করা যায় এমন ব্যবসাগুলির মধ্যে সবথেকে ভালো হলো এফিলিয়েট মার্কেটিং। এটি সব থেকে স্মার্ট ও স্বচ্ছন্দময় একটি প্যাসিভ ইনকাম সোর্স হবার অনেকগুলি কারণ রয়েছে।

 

নিচের পোস্ট ২ টি থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জেনে নিন –

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন?

 

এডসেন্স

গুগলের এডসেন্স হতে পারে আপনার একটি অন্যতম প্যাসিভ ইনকাম সোর্স।

 

এডসেন্স হলো গুগলের এড নেটওয়ার্ক যেখানে গুগল বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে বিজ্ঞাপন নিয়ে তা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের স্বত্বাধিকারীদের কাছে কমিশনের ভিত্তিতে প্রদান করে।

 

নিজস্ব ডিজিটাল প্রোডাক্ট

নিজস্ব ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি হতে পারে আপনার একটি ভালো প্যাসিভ ইনকাম সোর্স।

 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এ আপনি অন্যের ডিজিটাল প্রোডাক্ট কমিশনের মাদ্ধমে বেচতে পারেন, কিন্তু নিজস্ব ডিজিটাল প্রোডাক্ট ও বেচে প্যাসিভ ইনকাম তৈরী করা যায়।

 

তবে এক্ষেত্রে আপনার ডিজিটাল প্রডাক্টি তৈরির একটি ধকল থেকে যায়।

 

বর্তমান সময়ের সবথেকে সহজে যে ডিজিটাল প্রোডাক্টটি তৈরী করা যায় তা হলো ইবুক। আপনি একটি ইবুক তৈরী করে তা আমাজন কিন্ডেল ডিরেক্ট পাবলিশিং ও আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট এর মাদ্ধমে বেচতে পারেন।

 

ওপরের ৩ টি অনলাইন প্যাসিভ ইনকাম আইডিয়াস থেকে যেকোনো একটি বা একাধিক ব্যবসা বেছে নিন ও পরের অধ্যায়টি তে যান ।

 

আপনার পছন্দের নিশটি বাছাই করুন

তাহলে কোনটি বা কোন কোনটি হচ্ছে আপনার বেছে নেয়া প্যাসিভ ইনকামক্ষম ব্যবসা?

 

হয়তো আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং, এডসেন্স, ও নিজস্ব ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর কথা ভাবছেন!

 

খুব ভালো কথা।

 

এখন যে কাজটি করতে হবে সেটি হলো আপনার ব্যবসার নিশ বেছে নিতে হবে।

 

তাহলে নিশ বলতে এখানে কি বোঝাচ্ছে?

 

সহজভাবে বলতে গেলে নিশ হলো আপনার ব্যবসাটি কিসের ওপর হবে বা আপনার ব্যবসার সাবজেক্টটা কি।

 

যেমন আমি আমার এই সাইটটিতে শেখাই কি করে অনলাইনে আয় করা যায়, তাই আমার ব্যবসার নিশ হলো মেক মানি অনলাইন।

 

আপনি হয়তো এমন কিছু নিয়ে কাজ করতে চান না, তাহলে আপনার ব্যবসার নিশ কি হবে?

 

চিন্তা করুন কোন জিনিস সম্পর্কে আপনি ভালো জানেন বা কোন জিনিসের প্রতি আপনার ঝোক আছে। যেমন ধরুন আপনার মোবাইল ফোন খুব ভালো লাগে, তবে আপনি মোবাইল ফোনের ওপর একটি ওয়েবসাইট খুলতে পারেন।

 

ইন্ডিয়ার একটি ফোন সম্পর্কিত ওয়েবসাইট PhoneArena.com যেটি কিন্তু প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করে! ওয়েবসাইটটির মালিকের এখন বসে থাকলেও প্যাসিভ ইনকাম হচ্ছে।

 

এবার আপনি কিসের ওপর ব্যবসা শুরু করবেন তা বেছে নিন।

 

যেকোনো একটি প্রোডাক্টের ওপর ও আপনার ব্যবসা গড়ে উঠতে পারে। এই ধরুন আপনি কফি মেকার এর ওপর একটি ব্যবসা স্টার্ট করতে পারেন।

 

ব্যবসার নিশ সিলেকশনের ক্ষেত্রে আপনার পছন্দটাকেই বেশি প্রাধান্য দিন।

 

আপনার ব্যবসার জন্য একটি সুন্দর ও প্রাসঙ্গিক নাম নির্ধারণ করুন

আপনার ব্যবসার নিশ বাছাই হয়ে গেলে তার নাম নির্ধারণ করাটাও অনেক সহজ হবে।

 

যেমন আপনার ব্যবসাটি যদি হয় কফি মেকার রিলেটেড, তবে আপনার ব্যবসার নামটি হতে পারে বেস্ট কফি মেকার (Best Coffee Maker) বা টপ কফি মেকার (Top Coffee Maker)।

 

এবার দেখতে হবে যে এই নামে ডোমেইন এভেইলেবল আছে কিনা!

 

ডোমেইন টি কিনতে পারবেন কিনা তা নির্ভর করছে এটি আপনার আগে আর কেউ কিনে ফেলেছে কিনা তার ওপর।

 

তো ডোমেইনটি Namecheap  এ চেক করুন এভাবে –

Namecheap.com এ  যান ও ফাঁকা বক্সসে আপনার ডোমেইন এর নামটি লিখুন।

যেমন আমি makemoneywithzaman.com দিয়ে টেস্ট করছি যে ডোমেইন টি আমি কিনতে পারবো কিনা নাকি অন্য কেউ আমার আগে এই নামে কিনে ফেলেছে।

এরপর নিচের বাটনটিতে ক্লিক করলেই বুঝে যাবো যে ডোমেইনটি এভেইলেবল আছে কিনা –

যদি এভেইলেবল থাকে, তবে একটি টিক চিহ্ন দেখাবে।

 

দেখতে পারছেন যে আমার টেস্ট করা ডোমেইনটি কিন্তু এভেইলেবল আছে কারণ এর আগে একটি টিক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে –

তাহলে এখন আপনার ব্যবসার জন্য একটি সুন্দর ও প্রাসঙ্গিক নাম পছন্দ করে ফেলুন ও এই নামে ডোমেইন কেনা যাবে কিনা তা নিশ্চিত করুন।

 

আপনার ব্যবসার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরী করুন

এইবার আপনার ব্যবসার জন্য একটি ভালো ওয়েবসাইট তৈরী করতে হবে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

 

অনেকেরই একটি ভুল ধারণা আছে যে একটি ওয়েবসাইট খোলা মনে হয় খুবই ঝামেলার কাজ ও খরচের ব্যাপার!

 

আসলে এখন আপনি হাতের নাগালেই আপনার মনেরমত একটি ব্যবসায়ীক ওয়েবসাইট পেতে পারেন।

 

শিখে নিন যে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট খোলা যায়।

 

উল্লেখ্য যে নিজেই নিজের সাইটটি খুলতে গেলে কিন্তু আপনার একটি ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারকার্ড বা ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট করা যাবে এমন কোনো উপায় থাকতে হবে!

 

আপনি একটু খোঁজ-খবর নিলেই আপনার আশে-পাশের কারো মাস্টারকার্ড বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আপনার পেমেন্ট করতে পারেন।

 

আর আপনার ওয়েবসাইটটি আপনি নিজেই খুলবেন কারণ এটিই সবথেকে নিরাপদ ও আপনি তাতে পূর্ণাঙ্গ কন্ট্রোলিং সুবিধা পাবেন।

 

তো যেভাবেই হোক না কেন আপনার ব্যবসার নামে একটি ওয়েবসাইট খুলুন।

 

 ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয় কিছু পেইজ তৈরী করুন

ওয়েবসাইটটি আপনার হাতে আসার পর এটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ পেইজ বানাতে হবে।

 

ভয় পাবেন না কারণ এটি খুবই সহজ কাজ।

 

একটি ওয়েবসাইটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পেইজ হলো About Us, Contact Us ইত্যাদি।

 

About Us পেইজে আপনার ওয়েবসাইটটি কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে ও আপনার সম্পর্কে কিছু লিখুন। Contact Us পেইজে আপনার সাথে কন্টাক্ট করার উপায় দিয়ে দিন।

 

চাইলে আপনি একটি কন্টাক্ট ফর্ম ও ব্যবহার করতে পারেন।

 

এবার ওয়ার্ডপ্রেসে একটি পেইজ তৈরী করতে হলে নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন –

  • প্রথমে আপনার সাইটে লগইন করুন। লগইন করতে আপনার ওয়েব ব্রাউজারে xyz.com/wp-admin/ টাইপ করুন ও ব্রাউজ করুন (xyz হলো আপনার ওয়েব এড্রেস)।
  • দেখবেন লগইন করার জন্য ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড চাওয়া হচ্ছে।
  • প্রথম ঘরে আপনার ইউজারনেম বা ইমেইল এড্রেসটি ও দ্বিতীয় ঘরে আপনার পাসওয়ার্ডটি দিন ও Log In বাটনে ক্লিক করুন। এবার আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে পারবেন যেখান থেকে সাইটটিকে কন্ট্রোল করা যাবে।
  • তো একটি পেইজ তৈরী করতে Pages এ যেয়ে Add New এ ক্লিক করুন।
  • একটি পেইজ ওপেন হবে যেখানে আপনার পেইজের বিষয়গুলো লিখুন ও শেষে Publish বাটনে ক্লিক করুন। এবার আপনার তৈরী করা পেইজটি সবাই দেখতে পারবে।
  • তো এভাবে যতগুলি পেইজ দরকার ততগুলি পেজ তৈরী করুন।

 

কন্টেন্ট মানে হলো আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ব্লগ পোস্ট। অডিও, ভিডিও, ইমেজ ও কন্টেন্ট হতে পারে।

 

সুন্দর সুন্দর টাইটেল দিয়ে বিভিন্ন SEO ব্লগ পোস্ট তৈরী করুন।

 

কিভাবে SEO ব্লগপোস্ট তৈরী করবেন তার বিস্তারিত আমি এই গাইডে আলোচনা করেছি।

 

পোস্ট তৈরী করা পেইজ তৈরী করার মতোই সহজ কাজ, শুধুমাত্র Pages এর পরিবর্তে Posts এ যান ও কন্টেন্ট লিখে তারপর Publish বাটনে ক্লিক করুন।

 

খেয়াল রাখবেন আপনার পোস্টগুলি যেন আকর্ষণীয় ও বাস্তবসম্মত হয়।

 

কিছুদিন কন্টেন্ট পাবলিশ করতে থাকুন।

 

আপনার ওয়েবসাইটে বেশ কিছুসংখ্যক পোস্ট হয়ে যাবার পর বিভিন্ন এফিলিয়েট প্রোগ্রামে এপলাই করুন।

 

আপনি বিভিন্ন প্রোডাক্টের ওয়েবসাইটে যেয়ে এফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হতে পারেন আবার বিভিন্ন এফিলিয়েট মার্কেট প্লেসে যেয়েও যুক্ত হতে পারেন।

 

আবার চাইলে উভয়ভাবেই এফিলিয়েট মার্কেটিং এ প্রবেশ করতে পারেন।

 

তো বিভিন্ন এফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হতে আপনার ওয়েবসাইটের সাথে মিলে যায় এমন প্রোডাক্ট এর পেজে যান ও Affiliate Program নামক সেক্শনটি খুঁজে বের করুন।

 

Affiliate Program এ ক্লিক করে তাদের নির্দেশনা মোতাবেক আপনার এফিলিয়েট একাউন্টের জন্য আবেদন করুন।

 

আপনার আবেদনটি একসেপ্ট হলে আপনার ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড পেয়ে যাবেন যেখান থেকে আপনি আপনার এফিলিয়েট লিংক ও কুপন কোড ব্যবহার করে আয় করতে পারেন।

 

বিভিন্ন Affiliate Program এ যুক্ত হতে কোনো টাকাই খরচ হয় না।

 

আপনার সাইটটি যদি ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজে হয়, তবে আপনি CJ.com (ডিজিটাল প্রোডাক্টের জন্য) ও Amazon.com (ফিজিক্যাল প্রোডাক্টের জন্য) এ যেয়ে তাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রামসমূহে যোগ দিতে পারেন।

 

এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে আয় করতে হলে আপনার পোস্টগুলির জায়গায় জায়গায় (যেখানে প্রাসঙ্গিক) আপনার এফিলিয়েট লিংক বা কুপন কোড ব্যবহার করতে হবে।

 

যখনই কেউ আপনার রেফারেন্স এ কোনো প্রোডাক্ট কিনবে, তখনই আপনি একটি নির্দিষ্ট কমিশন পাবেন। এভাবে যত বিক্রি হবে, তত আপনার ইনকাম হতে থাকবে।

 

আপনি যেখানেই থাকুন না কেন আপনার সাইটের মাদ্ধমে বিক্রি হলেই হলো, আপনার ইনকাম হতেই থাকবে। একারণে এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ব্যাপক আয় করা যায়।

 

আপনি যদি চান, তবে এডসেন্স এর মাদ্ধমেও প্যাসিভ ইনকাম করা শুরু করতে পারেন।

 

এডসেন্স এ এপলাই করতে এখানে ক্লিক করুন ও তার পর এডসেন্স এর সাইন আপ পেইজে যেয়ে একটি এডসেন্স একাউন্ট এর জন্য আবেদন করুন।

 

তারা আপনার আবেদনটি রিভিউ করবে ও যদি গ্রহণযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য যেটাই হোক না কেন, তা কয়েকদিনের মধ্যেই আপনাকে জানাবে।

 

আশা করি আপনার এডসেন্স একাউন্টটি খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আপনি পেয়ে যাবেন।

 

এডসেন্স একাউন্ট পাবার পর আপনি বিভিন্ন বিজ্ঞাপন আপনার সাইটে প্রদর্শন করতে পারবেন।

 

আপনার বিজ্ঞাপনের কীওয়ার্ড এর সি, পি, সি (CPC) অনুযায়ী আপনি প্রতি ক্লিক এর জন্য একটি নির্দিষ্ট এমাউন্টের টাকা পাবেন।

 

তার মানে হলো আপনার প্রদর্শিত এডসেন্স বিজ্ঞাপনে যত ক্লিক পড়বে, আপনি ততো আয় করতে পারবেন, কিন্তু কখনোই নিজেই নিজের বিজ্ঞাপনে বা কাউকে উৎসাহিত করে আপনার বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার কথা চিন্তাও করবেন না কারণ সাথে সাথে আপনার এডসেন্স একাউন্টটি ব্যান্ড হয়ে যাবে, তাই সাবধান!

 

এরপর আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট থেকে আপনার নিজস্ব ডিজিটাল প্রোডাক্ট ও প্রোমোট করতে পারেন।

 

আপনার জানা বিষয়ের ওপর একটি ইবুক লিখে ফেলুন ও তা আমাজন ডিরেক্ট পাবলিশিং (KDP) এ আপলোড করে পাবলিশ করুন অথবা আপনার সাইটে একটি পিডিএফ (PDF) ফাইল হিসেবে লক করে রেখে দিন।

 

একটি নির্দিষ্ট মূল্য ধার্য্য করে আপনার অডিয়েন্সের কাছে তা বিক্রি করে আয় করুন।

 

তো দেখলেন যে ৩ টি উপায়ে কিভাবে অনলাইনে একটি ওয়েবসাইটের মাদ্ধমে প্যাসিভ ইনকাম তৈরী করা যায়।

 

ওয়েবসাইটে বেশি বেশি ট্রাফিক আনতে থাকুন

 

এবার আপনার ওয়েবসাইটে বেশি বেশি ট্রাফিক নিয়ে আসতে হবে।

 

তো ওয়েবসাইট ট্রাফিক কি জিনিস?

 

ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের ওয়েব ট্রাফিক বলে, তার মানে হলো যত বেশি ট্রাফিক তত বেশি ভিজিটর আপনার সাইট ভিজিট করছে।

 

আপনার ওয়েবসাইট কে একটি দোকানের সাথে তুলনা করতে হবে কারণ একটি দোকানে যত বেশি ভিজিটর আসবে তত বেশি বিক্রি হবারই সম্ভাবনা থাকে!

 

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে শুধু ভালো ভালো কন্টেন্ট তৈরী করলেই যথেষ্ট নয়, বরং কিভাবে বেশি বেশি ট্রাফিক আপনার সাইটে আসে তার দিকে নজর দিতে হবে। আর এই অধ্যায়ে আমি তাই ই দেখাবো।

 

আরেকটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে, সেটি হলো আপনার টার্গেটেড ট্রাফিক এর ওপর নজর দিতে হবে তার মানে হলো আপনাকে দেখতে হবে করা আপনার ওয়েবসাইটের মূল অডিয়েন্স।

 

ধরুন আপনি যদি একটি সাইট করেন যেখানে কিভাবে অনলাইনে টাকা আয় করা যায়, তবে রিটায়ার্ড চাকুরিজীবীদের থেকে শিক্ষার্থী বা যারা এখন চাকুরী খুঁজছে তারা আপনার সাইটের অধিকতর টার্গেটেড ট্রাফিক।

 

তাই প্রথমেই আপনার সাইটের টার্গেটেড ট্রাফিক করা তাদের ঠিক করে নিন।

 

এবার আসুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে আপনার সাইটে বেশি বেশি ট্রাফিক নিয়ে আসবেন।

 

প্রথমেই জেনে নিন যে কোন কোন সোর্স থেকে একটি ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আসতে পারে।

 

মূলত নিম্নোক্ত ৪ ধরণের সোর্স থেকে একটি সাইটে ট্রাফিক নিয়ে আসা যায় –

  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • রেফারেল
  • ডিরেক্ট
  • সার্চ ইঞ্জিন

এই সব ধরণের সোর্স থেকে আপনি দুইভাবে ট্রাফিক পেতে পারেন – এক হলো ফ্রিভাবে ও আরেক হলো পেইডভাবে

 

আমি আপনাকে দুইভাবেই আপনার সাইটে ট্রাফিক নিয়ে আসার মাদ্ধমগুলি দেখাবো।

 

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ট্রাফিক আনবেন যেভাবে!

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ট্রাফিক আনার কথা সবার প্রথমে বলছি এই কারণে যে তা থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যেই কিছু সংখ্যক ট্রাফিক আপনি আপনার সাইটে নিয়ে আসতে পারেন।

 

সোশ্যাল মিডিয়া ট্রাফিক হচ্ছে সেই সমস্ত ভিজিটর যারা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেইসবুকটুইটারলিংকডইন ইত্যাদি থেকে আপনার সাইটে আসে।

 

তো কিভাবে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আপনার সাইটে ভিজিটর নিয়ে আসবেন?

 

দেখুন আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কিন্তু সব জায়গাতেই বিচরণ করছে, তাই তাদেরকে আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়াতে জানান দিয়ে আপনার সাইটে নিয়ে আসা খুবই সহজ কাজ হতে পারে।

 

বেশি বেশি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ট্রাফিক পেতে গেলে প্রথমেই যে কাজটি করতে হবে সেটি হলো আপনার বিভিন্ন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াতে একাউন্ট খুলতে হবে।

 

আপনার প্রোফাইল এ সব তথ্য ও ছবি সুন্দর ও নির্ভুলভাবে দেয়ার চেষ্টা করুন যাতে আপনার অডিয়েন্স তাকে ফেইক না ভাবে।

 

এরপর দিনে দিনে আপনার কানেকশনস বাড়াতে থাকুন।

 

কানেকশনস বলতে বোঝাচ্ছি আপনার ফ্রেন্ডসদের কে যাদের আপনি আপনার প্রোফাইলের সাথে যুক্ত করছেন। তো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে থাকুন।

 

প্রতিদিন ২০ – ৩০ জন করে নতুন কানেকশনস তৈরী করুন দেখবেন মাস শেষে তা কয়েকশত হয়ে গেছে।

 

কানেকশনস বাড়ানোর প্রক্রিয়া কখনোই থামানো যাবে না।

 

এভাবে চলতে থাকলে দেখবেন যে এক সময় আপনার কাছেই অজস্র ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসতে শুরু করেছে।

 

এবার ফেসবুকে আপনার সাইটের নাম একটি পেইজ ও গ্রূপ খুলুন।

 

পেইজ ও গ্রূপ এও একইভাবে লোক জড়ো করুন ইনভাইট ও অ্যাড অপশনের মাদ্ধমে।

 

এবার আপনার যে কন্টেন্ট বা পোস্ট তৈরী করেছিলেন তা ফেইসবুক প্রোফাইল, পেইজ, ও গরূপে শেয়ার করুন।

 

অনন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে ও একইভাবে এগোতে থাকুন।

 

দেখেবন অনেকেই আপনার শেয়ার করা কনটেন্ট দেখার জন্য আপনার সাইটে ভিড় জমাচ্ছে।

 

শুধু নিজেই শেয়ার করলে চলবে না, আপনার বন্ধু-বান্ধব ও আত্নীয়-স্বজনকেও বলুন যেন আপনার কনটেন্টগুলি তারা তাদের টাইমলাইনে শেয়ার করে দেয়। এতে করে আপনার সাইটে বিভিন্ন লিংক থেকে ট্রাফিক আসতে থাকবে।

 

ফেইসবুক ও লিংকডইন এর বিভিন্ন গরূপে যোগ দিন ও সেখানকার মেম্বারদের সমস্যাগুলো দেখুন। যদি আপনার ব্যবসার নিশের সাথে মাইল যায়, তবে আপনি তাদের কে সমাধান দেয়ার চেষ্টা করুন, দেখবেন যে অনেকেই আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে গেছে ও আপনার এফিলিয়েট প্রোডাক্ট ও কিনতে তাদের কোনো টেনশন হচ্ছে না।

 

সব সময় একটি কথা মনে রাখবেন আর সেটি হলো আপনি কখনোই আপনার লাভের জন্য পরামর্শ দেবেন না।

 

সব সময় আপনার অডিয়েন্স বা ট্রাফিক এর লাভের কথা আগে চিন্তা করুন। এটা করলে দেখবেন যে আপনি অনেক দূর যেতে পারছেন।

 

আর আপনার মূল উদ্দেশ্যই যদি হয় টাকা আয় করা, তবে আপনি খুব বেশি কিছু করতে পারবেন না সে অনলাইনেই হোক আর অফলাইনেই হোক।

 

তো এটা গেলো সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিয়মিত ফ্রি ট্রাফিক পাবার উপায়।

 

এবার জেনে নেয়া যাক কি করে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পেইড ট্রাফিক পাওয়া যায়।

 

বর্তমানে সব সোশ্যাল মিডিয়া তাই পেইড মার্কেটিং করার উপায় আছে।

 

এজন্য আপনাকে ইনভেস্ট করতে হবে।

 

আর ইনভেস্ট করবেনই বা না কেন? আপনার যদি লাভ হয় তবে ইনভেস্ট করতে আপত্তি কোথায়?

 

এছাড়া আপনার মনে রাখতে হবে যে আপনি একটি ব্যবসা করছেন যেটি আপনার সম্পূর্ণ নিজেরই কারণ আপনার ব্যবসার নামেই আপনার একটি ওয়েবসাইট সারা বিশ্বে ওপেন রয়েছে।

 

যাই হোক আপনি চাইলে কোনো ইনভেস্ট না করেই শুধু ফ্রি ট্রাফিক পেতে পারেন, তবু ও যারা চান যে ইনভেস্ট করে আরো ব্যাপক ট্রাফিক নিয়ে আসতে, তাদের জন্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ার পেইড মার্কেটিং এর কথা আলোচনা করবো।

 

পেইড ট্রাফিক আনার জন্য সব থেকে ভালো মাদ্ধম হলো ফেইসবুক বুস্টিং। ফেইসবুক মাত্র ১ ডলার বা ৮২ টাকায় প্রায় ১০০০ মানুষের কাছে আপনার কন্টেন্ট পৌঁছে দিতে পারে।

 

চিন্তা করে দেখুন যে এই ১০০০ মানুষের মধ্যে আপনার অনেক টার্গেট অডিয়েন্স থাকবে ও আপনি কিন্তু ৮২ টাকার থেকে অনেক বেশি লাভবান হতে পারেন।

 

ফেইসবুক বুস্টিং করতে গেলে আপনার ফেইসবুক পেইজে আপনার কন্টেন্ট শেয়ার করুন। এবার আপনার ফেইসবুক পেইজে গিয়ে দেখুন যে ওই কনটেন্ট এর ডানদিকে Boost Post একটি অপশন দেখা যাচ্ছে।

 

ওখানে ক্লিক করে আপনি আপনার অডিয়েন্স সিলেক্ট করুন ও আপনার একটি ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারকার্ড এর ইনফরমেশন দিন। আপনার মাস্টারকার্ড না থাকলে অন্য কারোটা ব্যবহার করুন।

 

এবার অডিয়েন্স সিলেক্ট হয়ে গেলে বুস্ট করে দিন।

 

ফেইসবুক ১৫ মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টা সময় রিভিউ এর জন্য নেয়। আপনার এডটি একসেপ্টেড হলে টা বুস্ট করা শুরু হয়ে যাবে ও দেখতে পাবেন যে ব্যাপক সংখ্যক ট্রাফিক আপনার সাইটে প্রবেশ করছে।

 

ফেইসবুক বুস্টিং থেকে ভালো ফল পেতে আপনার কনটেন্ট এর টাইটেল ও এর ভিতরকার জিনিসের দিকে খেয়াল রাখুন।

 

এছাড়া ফেইসবুক এ আপনার ব্যবসার প্রসার ঘটাতে আমার পরামর্শ নিতে পারেন।

 

কিভাবে রেফারাল ট্রাফিক পাবেন?

এবার আলোচনা করবো রেফারাল ট্রাফিক পাবার উপায়সমূহ নিয়ে।

 

প্রথমেই জানা যাক রেফারাল ট্রাফিক কি জিনিস!

 

রেফারাল ট্রাফিক হলো আপনার সাইটের সেইসব ভিজিটর যারা অন্য কোনো সাইট থেকে আপনার সাইটে এসেছে। অন্য সাইট থেকে আপনার সাইটে এসেছে মানে হলো যে তারা ওই সাইটে আপনার সাইটের লিংক পেয়েছে।

 

তো বেশি বেশি রেফারাল ট্রাফিক পাবার ভালো উপায় হলো আপনার সাইটের বেশি বেশি লিংক অন্য বিভিন্ন সাইটে থাকতে হবে।

 

কিভাবে এটা সম্ভব?

 

ঠিক আছে দেখুন তাহলে।

 

অন্য সাইটে কমেন্ট করুন

অন্য সাইটে কমেন্টের মাদ্ধমে আপনি নিয়মিত রেফারেল ট্রাফিক পেতে পারেন। আপনার ব্যবসার নিশের সাথে মিলে যায় এমন বিভিন্ন সাইটে কমেন্ট করতে থাকুন।

 

খেয়াল রাখবেন যেন আপনার কমেন্টগুলি সুন্দর হয়। তার মানে হলো কোনো গতানুগতিক কমেন্ট করবেন না। যে পোস্টে কমেন্ট করছেন সেটি ভালোভাবে পড়ে তারপর কমেন্ট করুন।

 

অন্য সাইটে গেস্ট পোস্ট দিন

গেস্ট পোস্টিং হলো রেফারেল ট্রাফিক পাবার আরেকটি উল্লেখযোগ্য উপায়। গেস্ট পোস্টিং এর মাদ্ধমে ব্যাকলিংক ও পাওয়া যায় এবং অথরিটি ব্যাকলিংক এর জন্য ভালো।

 

তাই মানসম্মত গেস্টপোস্টিং এর মাদ্ধমে আপনি একই সাথে ট্রাফিক ও ব্যাকলিংক পেতে পারেন।

 

তো গেস্টপোস্ট জিনিসটা কি?

 

গেস্টপোস্ট হলো অন্যের ওয়েবসাইটে আপনার পোস্ট পাবলিশ করা।

 

এভাবে কিছুদিন নিয়মিত করলে আপনি হাতে হাতে ফলাফল পেয়ে যাবেন বাদবাকি ট্রাফিক জেনারেশন টেকনিকগুলি নিম্নের গাইড থেকে জেনে নিন।

Leave a Comment