টিউশনির প্রথম দিন

আসসালামুআলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন সবাই? আশা করি মহান আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।

 

টিউশনি এই সম্পর্কে সবাই বেশ ভালো অবগত আছেন। টিউশনি স্টুডেন্ট লাইফের বেস্ট একটি মাধ্যম ইনকামের। আমরা অনেকে ছোট বেলা থেকে ফ্যামেলি থেকে নিজের খরচ এর জন্য টাকা চাইতে হয় কিন্তু টিউশনি পেলে আর তাদের কাছে টাকা চাইতে হয়না। টিউশনি করে আপনি স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় নিজের খরচ নিজেই চালাতে পারবেন এবং আপনি আপনার ফ্যামিলিতেও কিছু টাকা শেয়ার করতে পারবেন।

 

কিন্তু এই সময়ে টিউশনি এখন পাওয়া খুব টাফ। আবার অনেকে টিউশনি পেলেও বেশিদিন পড়াতে পারেন না। তো আজ আমি টিউশনি পড়ানো নিয়ে কিছু আলোচনা করবো আশা করি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পরবেন। চলুন কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

 

টিউশনি পড়াতে হলে আপনাকে আগে শিক্ষিত হতে হবে এবং আপনি যে যে বিষয় পড়াবেন সে সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে তাহলে আপনি ভালো ভাবে পড়াতে পারবেন। এছাড়াও আপনাকে আগে জানতে হবে। নিজে জানলেই তবে অন্যকে কিছু শিখাতে পারবেন। নিজের ছাত্র জীবনে ভালোভাবে শিখার চেষ্টা করুন। আপনি নিজে কোনো একটা টপিক ভালো করে বুঝলে তা অন্যকে সহজেই বুঝাতে পারবেন। তাই আগে নিজে প্রতিটি বিষয় খুব ভালভাবে শিখুন। এরপর আপনাকে একটি বেশ ভালো নোট তৈরি করতে হবে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন এখনকার সময়ে সব ছেলে মায়েরাই নোট খুজে যাতে কম পড়ে ভালো রেজাল্ট করতে পারে। তাই এইদিকে আপনাকে ভালো লক্ষ্য রাখতে হবে।

 

এরপর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল টিউশনির প্রথমদিন। এই দিনটির উপর আপনার সব কিছু নির্ভর করছে। আপনারা অনেকে প্রথমদিন টিউশনিতে যে খুব নার্ভাস হয়ে পড়েন এটি একদমই করা যাবে না। নার্ভাস থাকলে অবিভাবক এবং স্টুডেন্ট এর আপনার উপর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে তাই এটি এড়িয়ে চলার চেস্টা করুন। নরমাল ভাবে কথা বলুন তাইলে আপনি অবিভাবক ও স্টুডেন্ট এর মন জয় করতে পারবেন। আপনাকে টিউশনির প্রথম দিনেই বাজিমাত করতে হবে তাইলে আপনি বুঝে নিন যে আপনি একদম পারমানেন্ট হয়ে গেলেন।

 

আপনি আপনার স্টুডেন্ট এর সাথে ভালো ব্যাবহার করুন। অনেকে এই ভুলটি করেন যে তার স্টুডেন্টের সাথে খারাপ আচরণ করেন। অনেকে মনে করেন এটি করলে আপনাকে ভয় পাবে এটিই আসলেই ভুল ধারনা। ভয় দেখিয়ে কাউকে কিছু শেখানো সম্ভব নয়। তাই ভালো ব্যাবহার করুন। এরপর আপনি যে টপিক নিয়ে পরাবেন সেটি আপনি আগে থেকে পড়ে আসুন তারপর স্টুডেন্টকে পড়ান। পারলে যে টপিকটি পড়াবেন সেটি পারলে মজার ছলে স্টুডেন্টকে পড়ান এটি করলে সে খুব সহজে টপিকটি বুঝে যাবে এবং আপনারো কস্ট কম হবে ও আপনার প্রতি একটি ভাল ধারনা সৃস্টি করবে।

 

ওহ আপনাদের একটি কথা বলতে ভুলে গেছি সেটি হল একটি ভুল আপনারা খুব বেশি করেন তা হল আপনারা আগে থেকে সব কথা বলে রাখেন না যেমন দিনে কতক্ষণ পড়াবেন,সপ্তাহে কতদিন পড়াবেন, কত টাকা নিবেন এগুলো আগেই কথা বলে মিটমাট করে নিয়া ভালো যাতে পরে কোনো ঝামেলা না হয়। তাহলে পরে ঝামেলা হবেনা।

 

আরেকটা বিষয় হলো আপনারা প্রথম টিউশনিতেই অনকে টাকা চেয়ে ফেলেন এটি উচিত নয়। প্রথমে কম বেতনের টিউশন পেলেও পড়ান। তার কারণ আপনি যাকে পড়াচ্ছেন তার অবিভাবকের কাছে আপনার পড়া ভালো মনে হলে তারা আরেকজনকে আপনার কথা বলবে। অন্যদিকে আপনার ছাত্র বা ছাত্রীর পড়া হঠাৎ করে ভালো হয়ে গেলে অনেকে আপনার ছাত্র বা ছাত্রকে জিজ্ঞেস করবে কার কাছে পড় এটি আপনার প্লাস পয়েন্ট। কারন এর পরেই আপনার টিউশনির সংখ্যা বাড়তে যাচ্ছে । যারা পড়তে ইচ্ছুক তারাও আপনার ছাত্র বা ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করবে আর আপনার ভালো পড়ানোর কথা শুনলে আপনার কাছে পড়তে চাইবে।

 

তাছাড়া সহজ উপায় হচ্ছে কোচিং সেন্টার গুলির সাথে সাথে যোগাযোগ রাখতে পারেন । তাদের কাছে টিউশনির অনেক অফার থাকে। আপনি তাদেরকে বলে রাখলে তারা হয়তো আপনাকে টিউশনিটা দিতে পারে। বিনিময়ে হয়তো তাদেরকে কিছু টাকা দিতে হতে পারে কিন্তু এতে খারাপের কিছু নেই কারন আপনিতোএকটা টিউশনি পেলেন এবং আপনার আয়ের ক্ষেত্র বৃদ্ধি পেল।

 

টিউশনির ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই আপনা ড্রেস এর উপর খেয়াল রাখতে হবে। ড্রেস আপের ক্ষেত্রেও ভাল ধারনা রাখতে হবে। একটি মানিষের পার্সোনালিটি বিচার করতে হলে প্রথমে প্রথমে দেখবেন আপনার পোষাকের দিকে। সাধারণ ধারণা হচ্ছে যার পোষাক যত সুন্দর এবং মার্জিত সে ততো ভাল ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হয়ে থাকে । আপনি সবসময় অফিসিয়াল শার্ট পরে যাবার চেস্টা করুন। এতে আপনার ব্যক্তিত্ব খুব ভালোভাবে ফুটে উঠবে। সবসময়ই টি শার্ট না পরে যাবার চেষ্টা করুন। এটা খুব একটা মানানসই নয়। সম্ভব হলে শার্ট ইন করে যাবেন এতে আপনাকে যথেষ্ট অফিশিয়াল ও কাজের প্রতি মনোযোগী মনে হবে।

 

অনেকের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে তারা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন এটি আপনার জন্য খুব খারাপ হতে পারে কারন আত্মবিশ্বাস সফলতার মূল চাবিকাঠি। আত্মবিশ্বাস থাকা খুবই জরুরি। এজন্য আপনি যখন পড়াবেন তখন নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। আপনি যদি কোন একটা বিষয় কনফিউজ হয়ে যান এবং সেটা স্টুডেন্টকে বলেন তাহলে সে সেটা ভালোভাবে নিতে পারবেনা। তাই আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়ান। কথাগুলি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলুন তাতেই আপনার ভালো। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ভাল নয়। আর নিজের পেশাদারিত্ব ফুটিয়ে তুলুন যাতে অভিভাবরা ভাবেন আপনি অনেক ব্যাস্ত এবং আপনার অনেক টিউশনি করাতে হয়। সবাই টাকার প্রয়োজনে পড়ায় কিন্তু যে আপনি টাকার অভাবে পড়াচ্ছেন এটা যেন আপনার আচরণে প্রকাশ না পায় এবং অভিভাবক যেন কোন ভাবেই বুঝতে না পারে। যদি তারা বুঝতে পারে তবে আপনার এই দূর্বলতার সুযোগ নিবে এতে আপনারই ক্ষতি হবে।

 

আপনি যতই ভাল পড়ান যদি আপনি অভিভাবকের সামনে আপনার প্লানিং স্পষ্ট করতে না পারেন তবে আপনি ব্যার্থআর হিসাব করে কথা বলুন। মানুষের কথাবার্তা তার চরিত্র ও ব্যক্তিত্বকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলে। যে মানুষে খুব চমৎকার করে কথা বলতে পারে তার কথা শুনতে কতই না ভালো লাগে। তার কথা শুনেই সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়। তার কথা গুরুত্বপূর্ণ না হলেও আমরা শুনি।

 

আবার কেউ আছেন ঠিক করে কথা বলতে পারেন না। তার কথা খুব দরকারি হলেও আমরা শুনতে চাইনা। কারণ তার কথা বলার ধরণ ঠিক নয়। তাই কথা বলার সময় শুদ্ধ বাংলায় কথা বলা উচিৎ।

আপনি যতই পড়ালেখা জানেন না কেন, অভিবাবক ও শিক্ষার্থীর সাথে ঠিকভাবে কথা বলতে না পারলে আপনার টিউশনি বেশিদিন টিকবেনা।বেফাঁস কথাবার্তা থেকে বিরত থাকুন। এমন কোন কথা বলবেন না যাতে আপনার সম্মান কমে যায়। তাই কিছু বলার আগে কয়েকবার ভেবে নিন।

 

অনেকেই আছেন যারা সন্মান নিজেদের সন্মানের দিকে সচেতন নয়। এটি আপনাদের একটি অন্যতম ভুল।
অনেকেই মনে করেন স্টুডেন্টের অবিভাবকের সাথে ফ্রি হলে মনেহয় তারা আর আপনাকে বাদ দেবেনা। কিন্তু এটা ভুল ধারণা। তারা আপনার যোগ্যতা দেখে আপনাকে বিবেচনা করবে আপনাকে রাখবে কি রাখবে না । আর যদি অভিভাবকের সাথে বেশি ফ্রি হয়ে যায় তাহলে দেখবেন তারা আপনাকে তুমি বলে ডাকবে এবং আপনাকে মাঝে মধ্যে আপনাকে বলে উমুক স্যার ২ ঘন্টা পড়ায় তুমুক স্যার ৭ দিন পড়ায় ইত্যাদি গল্প শুনাবে । অতিরিক্ত ফ্রি হয়ে গেলে তা আপনার জন্য ক্ষতি বয়ে আনবে।

 

স্টুডেন্টকে ফার্স্ট দিনেই সব কথা ক্লিয়ার করে দেবেন যে আপনি শিক্ষক সুতরাং আপনাকে স্যার ডাকতে হবে। স্টুডেন্টকে যা শেখাবেন তাই শিখবে। অনেক বেয়াদব স্টুডেন্ট আছে আপনাকে সালাম দেবেনা। এটা এক প্রকার অহংকারের প্রকাশ কারন তাদের ধারণা আপনি গরিব তাই টিউশনি করেন এবং আপনাকে অনেক ছোট ভাব্বে তারা টিউটরের প্রতি নেগেটিভ হয়ে থাকে। আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সেই স্টুডেন্টকে পড়াতে গিয়ে নিজেই আগে সালাম দেবেন যদি তাতে কাজ না হয় তবে অভিভাবককে জানান যে তাদের সন্তান আপনাকে সালাম দেয়না। তাতেও কাজ না হলে অভিভাবককে জানিয়ে দিন স্টুডেন্ট সালাম না দিলে পড়াবেন না যোগ্য স্টুডেন্ট গড়ে তুলতে চান কিন্তু আপনাকেই সালাম দেয়না সে ভবিষ্যতে কাউকে সম্মান করতে পারবেনা।

 

এই বিষয় গুলি ছাড়াও আপনাদের আরো কিছু বিষয় মমে রাখতে হবে তা হল আপনাদেরকে অবিভাবকের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখতে হবে। এবং যাকে পড়াচ্ছেন তার সম্পর্কে অন্তত মাসে একবার হলেও তার পড়াশুনার ব্যাপারে রিপোর্ট দিন।

 

অনেকে পড়াতে গিয়ে মোবাইল ইউজ করেন এই গুলি একদম করা যাবে না এবং জরুরি ফোন ছাড়া ফোন রিসিভ করবেন এতে করে অবিভাবকদের আপনার প্রতি বিরুপ ধারনা সৃস্টি হবে যা আপনি অবশ্যই চাইবেন না। আশা করি সব মেনে চললে আপনার টিউশনি পেতে কস্ট হবে না। একই সাথে আপনি খুব ভালো একজন টিউটর হতে পারবেন।

 

তো আজ এই পর্যন্ত আশা করি টিউশনির প্রথম দিন সম্পর্কে মোটামুটি ক্লিয়ার একটি ধারনা দিতে পেরেছি। এর পরেও যদি কোন বিষয় নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেনএবং পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।
ধন্যবাদ

Leave a Comment