চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার আইডিয়া: বাড়তি আয়ের দারুন সুযোগ

আপনি কি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসার চিন্তা করছেন? কিন্তু কিভাবে শুরু করবেন বুঝতেছেন না। তাহলে আমি আপনাদের বলব যে কিভাবে আপনি চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করা যায়।

 

১। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য আপনার মাধ্যমে সেল করাকে বোঝায়। এখন অনলাইন কেনা বেচার মাধ্যম অনেক। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ পণ্য বিক্রি হয় অনলাইনের মাধ্যমে। আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করে দিতে পারেন তাহলে আপনি ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশন পাবেন। এভাবে আপনি অনলাইনের অনেক প্রতিষ্ঠান বা অনলাইনের বাইরেও অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে ডিল করে আপনার এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন। আপনি যত বেশি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন তত বেশি কমিশন পাবেন। আমার জানা এমন অনেক লোক আছে যারা প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা ইনকাম করতে এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে।

 

২। ই-কমার্স

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আর ই-কমার্স প্রায় একই রকম। এখন ই-কমার্স হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটা অনলাইন ব্যবসা। এখানে আপনি আপনার নিজের পণ্য গুলো অনলাইনে ঘরে বসেই বিক্রি করতে পারবেন। আর সারাদেশে আপনার পণ্য পৌছে দিতে পারবেন ঘরে বসেই। এখন ই-কমার্স ব্যবসার অনেক ডিমান্ড। এখান থেকে প্রচুর পরিমাণ আয় করা সম্ভব। যেহেতু এটা একটা অনলাইন মাধ্যম, যার কারণে এই ব্যবসায় সময় যেমন কম ব্যয় হয় তেমনি কষ্টও কম হয়। আর আয় হয় অনেক গুণ বেশি। আপনাকে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম ইউজ করে আপনার পণ্য গুলো শেয়ার করতে হবে। এভাবে আপনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারবেন।

 

৩। অ্যাডসেন্স

অ্যাডসেন্স গুগলের একটি অ্যাড নেটওয়ার্ক। অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে আপনার সাইটগুলোতে ম্যানুয়ালি বা অটোমেটিকভাবে অ্যাড শো করাতে পারবেন। তাছাড়া আপনি পিসি গেম বা মোবাইল গেম তৈরি করেও অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারেন। আপনি বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপস বা কম্পিউটার অ্যাপস তৈরি করে অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন। চাকরির পাশাপাশি এটা ব্যবসার একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হতে পারে।

 

৪। ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং একটা প্লাটফর্ম। এখানে পাবেন হরেক রকমের কাজ। চাকরির পাশাপাশি এখানে আপনি হিউজ পরিমাণ কাজ পাবেন। অনলাইনে সবচেয়ে বেশি ইনকামের একটা মাধ্যমে এটা। এখানে আপনি বিভিন্ন কম্পানির জন্য তাদের ডিমান্ড অনুয়ায়ী কাজ পাবেন। গ্রাফিক্স ডিজাইন করে দিতে পারেন কোন কম্পানির জন্য। কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য আপনি বিভিন্ন অ্যাপস তৈরি করেও এই প্লাটফর্ম থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারেন। ওয়েবসাইট ডিজাইন বা ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের কাজও পাবেন। এখানে প্রায় সব ধরনের অনলাইন ভিত্তিক কাজ পাওয়া যায়। আপনার মেধা অনুযায়ী আপনাকে শুধু কাজগুলো লুফে নিতে হবে। আপনার যোগ্যতা এখানে প্রমাণ করতে পারলেই আপনি হিউজ পরিমাণ কাজ পাবেন।

 

৫। ইউটিউব

আপনি নিশ্চয়ই চাকরির শত ব্যস্ততার মধ্যেও গান শুনতে বা ভিডিও দেখতে পছন্দ করেন। কিন্তু এই গান বা ভিডিও দিয়ে যদি আপনি নিজেই ইনকাম করতে পারেন তাহলে মনে হয় একটু বেশিই ভাল হয়। কারণ ইউটিউব এমন একটা মাধ্যম যেখানে আপনার নিজের তৈরি করা গান বা ভিডিও চ্যানেলে আপলোড করে প্রচুর টাকা পাবেন, যদি আপনার গান বা ভিডিও গুলো মানুষ দেখে। এই যুগে ইন্টারটেইনমেন্টের মধ্যে ইউটিউব একটা জনপ্রিয় নাম। আপনি চাইলেই চাকরির পাশাপাশি কাজ করতে পারেন এখানে।

 

৬। ব্লগিং

ব্লগিং এর নাম হয়তো শুনেছেন। আপনি এখানে জনপ্রিয় সব কনটেন্ট লিখে আয় করতে পারবেন। আপনি যেমন ভিজিটর আনতে পারবেন তেমন আয় হবে আপনার ব্লগিং থেকে। আপনি এখানে বিভিন্ন ঘটনা লিখতে পারেন, লিখতে পারেন কোন টেকনিক্যাল উপায়, যার মাধ্যমে মানুষ উপকৃত হয়। আপনার কনটেন্ট যদি র‍্যাঙ্ক করে তাহলে আপনার ব্লগটা বেশি বেশি মানুষ ফলো করবে। আর যতবেশি মানুষ ভিজিট করবে তত বেশি আয় আসবে। চাকরির পাশাপাশি এটাও হতে পারে আয়ের উৎস।

 

সময় নষ্ট করবেন না। কিছু একটা করুন। হয়তো আপনিই হয়ে উঠবেন অনলাইন ব্যবসার একজন দক্ষ কারিগর।

 

প্যাসিভ ইনকাম কি ও কিভাবে তা করা যায়?

আপনার ব্যবসার লাভ বাড়াতে চাইলে পড়ুন

Leave a Reply