ঘরোয়া ব্যবসা

আসসালামুআলাইকুম প্রিয় ভাই ও বোনেরা কেমন আছেন সবাই? আশা করি মহান আল্লাহ তা’আলার অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।

ব্যবসা কে না করতে চায়। ব্যবসা প্রায় সকলেরই পছন্দের একটি পেশা। কারন এতে ইচ্ছা সাধীন ভাবে কাজ করা যায়। আপনি আপনার সময় মতো কাজ করতে পারেন। নিজেই সব সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এতে করে আপনার মত কাজ করতে পারেন। কিন্তু অনেকে টাকার অভাবে বা সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারার কারনে ব্যবসা করতে পারে না। আবার অনেকে নিজের বাড়ি থেকে দূরে গিয়ে ব্যবসা করতে চায় না তাই সবার সব দিক বিবেচনা করে আজ আমরা ঘরোয়া পরিবেশে কয়েকটি ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করি আপনারা পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়বেন ইনশাআল্লাহ।

ফ্রিল্যান্সিং

তো ঘরোয়া পরিবেশে কোনো কাজ করতে গেলে প্রথমেই অনেকের মাথায় আসে ফ্রিল্যান্সিং। এখন কথা হলো আমি বললাম ব্যবসা তার ভিতর আবার কাজের কথা কেনো বললাম? আপনাদের এইটা মনে হওয়া সাভাবিক। আমি এখন বিষয়টি ক্লিয়ার করে বলছি। এই ফ্রিল্যান্সিংও ব্যবসায় কারন ফ্রিল্যান্সিং শেয়ার জন্য আপনাকে এই ফিস প্রদান করতে হয়। এরপর আপনাকে একটি মোটামুটি ভালোমানের ল্যাপটপ ও একটি স্ট্যাবেল নেট অর্থ্যাৎ ওয়াইফাই লাগাতে হয় যার জন্য এককালিন অনেক টাকা খরচ হয়। এই যে টাকা খরচ হলো এইটি হলো আপনার ইনভেস্টমেন্ট। এরপর আপনার ফ্রিল্যান্সিং এর কোর্স যখন শেষ হবে আপনি যখন কাজ শুরু করবেন তখন আপনার ব্যবসা শুরু হল। এরপর আপনি কাজ করবেন আর আয় করবেন। অন্যান্য ব্যবসায়ের আপনাকে একটি নির্দ্দিস্ট সময় পর পর টাকা ইনভেস্ট করতে হয় কিন্তু এই ব্যবসায়ে আপনাকে ওই একবার ইনভেস্ট করলেই হয় এরপর আর টাকা ইনভেস্ট করতে হয় না। এখন মেইন যে কথা তা হল ফ্রিল্যান্সিং এ কাজের জন্য আপনাকে একটি ভালো রুটিন করতে হবে। তার কারন হল অনেকে কাজ প্রথমে ভালোভাবে করলেও পরে কাজে অনেক ঢিলা হয়ে যায় যার ফলে ইনকাম কমতে থাকে। তাই আপনাকে এমন হলে চলবে মন দিয়ে কাজ করতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ ছেলে মেয়ে উভয়ই করতে পারে তাই মেয়েরা চাইলেও কাজ করতে পারে।

নার্সারি

আমাদের বাড়ির আসে পাশে বা ছাদে অনেক ফাঁকা যায়গা থাকে সেখানে আপনারা নার্সারি করতে পারেন। নার্সারি বর্তমানে বেশ ভালো একটি ব্যবসা এবং লাভজনকও বটে। আপনি আপনার নার্সারি বিভিন্ন ধরনের ফুলের চাষ করতে পারেন। এখনকার সময়ে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে তাই আপনি যদি ফুলে দিয়ে শুরু করেন আশা করা যায় খুব ভালো একটি ফল পাবেন। তাছাড়া আপনাদের বাসার যায়গা গুলি ফাকাই থাকে এই জন্য ফুলের চাষ করলে যায়গাটিও ব্যাবহার হলো আপনারো লাভ হলো। ফুলের চাষে খুব বেশি কস্ট করতে হয় না দিনের ভিতর যেকোনো কাজ করলেই হয়। তাছাড়া আপনি চাইলে ফুলের সাথে সাথে বিভিন্ন শাকসবজিরও চাষ করতে পারেন। ফুলের থেকে শাকসবজি চাষ তুলনা মূলক সহজ। এবং ফুল চাষের থেকে শাকসবজিতে অধিক লাভ করা সম্ভব।

ইউটিউবিং

ইউটিউবিং ও ঘরোয়া ব্যবসা। কি আমার কথা শুনে হাসি পাচ্ছে? মনে মনে ভাবছেন ইউটিউবিং আয়াবার ব্যবসা হলো কি ভাবে?। জি প্রিয় ভাই ও বোনেরা ইউটিউবিং বেশ ভালো একটি ব্যবসা। অন্যান্য সব ব্যবসায়ের তুলনায় এই ব্যবসা বেশ ভালো এতে তুলনা মুলক কম সময়ের ভিতর ভালো টাকা লাভ করা সম্ভব।

ইউটিউবে ভিডিও দেখে না এমন মানুষ এখন খুজে পাওয়া যাবেনা বল্লেই চলে। অন্য মানুষ আপনার ভিডিও দেখবে আর আয় হবে আপনার । সর্বপ্রথম প্রয়োজন ভালো কনটেন্ট বানানোতে এক্সপার্ট হওয়া। কিন্তু কথা গুলি শুনে অনেক সহজ মনে হলেও আসলে কাজটা একটু কঠিন আছে কারন ইউটিউব রয়েছে কিছু রুলস এন্ড রেগুলেশন যেটি আপনাকে মানতে হবে তা না হলে আপনার চ্যানেলটি ব্যান হয়ে যেতে পারে। উদাহরণ দিয়ে বলা যায় আপনি কোন এডাল্ট ভিডিও বা সুইসাইডাল টাইপের কোন ভিডিও আপলোড করতে পারবেন না। আপনাকে শিক্ষামূলক বা কমেডিয়ান বা টিউটোরিয়াল বা মিউজিক ভিডিও বা নাটক বা কোনো জিনিসের রিভিউ ইত্যাদি নিজের মত করে বানিয়ে আপলোড করতে পারেন। তবে অন্য কারোর ভিডিও নিজের চ্যানেলে আপলোড করা যাবে না। অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে আপনি কিভাবে টাকা ইনকাম করতে পারবেন? সেটিও বলবো একটু মনোযোগ সহকারে পড়লেই বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। টাকা ইনকামের জন্য আপনার চ্যানেল মাইটাইজ করতে হবে এবং অ্যাডসেন্স অ্যাড করতে হবে। অ্যাডসেন্স অ্যাড করতে হলে মিনিমাম ১০০০ সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। আর আপনার চ্যানেলের সমস্ত ভিডিও মিলে লাস্ট ১ বছরে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ ভিউ থাকতে হবে।

এই কাজ যখন আপনার চ্যানেল পরিপূর্ণ করতে পারবে, তখনই আপনি অ্যাডসেন্সের জন্য অ্যাপলিকেশন করতে পারবেন। অ্যাপলিকেশনের পর অ্যাডসেন্স কর্তৃপক্ষ আপনার চ্যানেলটি ভাল করে রিভিউ করবে এবং আপনার চ্যানেলটি অ্যাপ্রুভ করে দেবে।

আর অ্যাপ্রুভ হয়ে গেলেই আপনি আপনার ভিডিও গুলো থেকে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আমার দেখা অনেকেই আছে যারা রাতারাতি অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে এই ইউটিউব থেকেই। আবার এমন লোকও জানা আছে যারা ইউটিউবে সারা বছর কাজ করেও কিছু করতে পারে নি। তো এই জন্য আপনাকে মন দিয়ে কাজ করতে হবে এবং প্রতিনিয়ত ভিডিও বানাতে হবে তাহলে আপনি সফল ব্যবসায়ী হতে পারবেন।

একটি কথা মনে রাখবেন অনেকে একটি ভুল করে তা হল ইউটিউবিং শুরু করা আগে ইন্সট্রুমেন্ট কিনে ৪০০০০/ ৫০০০০ টাকা নস্ট করে ফেলেন এটি আসলে আপনাদের মস্তবড় একটি ভুল। আপনাদের উচিত ইউটিউবিং যখন শুরু করবেন প্রথম আপনার যে ডিভাইস গুলি রয়েছে সে গুলি ব্যাবহার করবেন। এরপর আস্তে আস্তে যখন আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি গ্রো করবে এবং মানিটাইজ করে যখন টাকা আসা শুরু করবে তখন আপনি দামি ইন্সট্রুমেন্ট কিনবেন। এই ব্যবসা ঘরোয়া হওয়ায় মেয়েরাও চাইলে এই ব্যবসা করতে পারেন।

হাতের কাজ

হাতের কাজ মূলত মেয়েদের কাজ কিন্তু অনেক ছেলেরাও এখন এই কাজ করে। যেমনঃ হস্তশিল্প তৈরি, দর্জির কাজ ইত্যাদি। আমাদের দেশে আগে প্রচুর হস্তশিল্প পাওয়া যেত। এইসব হস্তশিল্প আমাদের দেশের থেকে বাইরের দেশে বেশি ডিমান্ড ছিল। এই সব শিল্প এক সময় প্রচুর রপ্তানি করা হত বাইরের দেশে। এখনো রপ্তানি করা হয় কিন্তু তুলনা মূলক খুবই কম। কারন এখন আর মানুষ এই সব কাজ করতে চায় না। তাদের এই কাজ না করার কারণ হল তারা তাদের কাজের সঠিক মূল্য পেত না। কিন্তু এখন আস্তে আস্তে এই গুলি হারিয়ে যাচ্ছে বা হারিয়ে গেছে বল্লেই চলে। এক সময় খুব জনপ্রিয় ছিলো এই জিনিষ গুলি কিন্তু এখন আর এই গুলি দেখা যায় না। এই গুলির কাজ করে খুব ভালো ব্যবসা করা সম্ভব এবং অনেক বেকারের কাজের ক্ষেত্র হবে ঠিক তেমন রক্ষা হবে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য। এবং আমাদের বর্তমান সরকার বেশ ভালো উদ্দোক গ্রহন করেছে যার ফলে আমাদের দেশে আয়োজন করা হচ্ছে হস্তশিল্প মেলা এবং এই মেলাতে হারিয়ে যাওয়া সব হস্তশিল্প তুলে ধরা হচ্ছে। তারই সাথে এই কাজে মেয়েরা অংশগ্রহন করে তারাও লাভবান হচ্ছেন এবং ছেলেদের পাশাপাশি তারাও ব্যাবসা করতে পারছেন।

আর্টিকেল রাইটিং

আজকের জন্য সর্বশেষ যে ব্যবসা নিয়ে কথা বলবো সেটি হলো আর্টিকেল রাইটিং। আপনারা হয়তো অনেকে ভাবছেন আর্টিকেল রাইটিং আবার কি? আমি বিষয়টি ক্লিয়ার করে দিচ্ছি ধরুন আমাদের এই ওয়েবসাইট এ বিভিন্ন বিষয় এর উপর লেখা যেমন আজকের যা নিয়ে লিখছি এইটাই একটা আর্টিকেল। এই আর্টিকেল রাইটিং প্রাথমিক ভাবে আপনার কিছু টাকা খরচ করতে হবে কিন্ত তারপর আপনি যে টাকা খরচ করেছেন তার থেকে ২/৩ গুন বেশি টাকা ব্যবসা করতে পারবেন। আপনার লেখা যত ভালো হবে ততো বেশি আপনি ইনকাম করতে পারবেন। আপনারা অনেকে হয়তো অনলাইনে নিউজ পড়েছেন। নিউজ পেপারে যে সকল খবর লেখা থাকে সবগুলোই কিন্তু একজন লেখে না। এক একটি বিষয়ের জন্য এক এক জন নির্ধারন করা থাকে। তারা প্রতিদিনই তাদের বিষয়ে কিছু না কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল লিখে। যা পরে পেপারে পাবলিশ করা হয়।

পেপারের প্রতিটা নিউজের শেষে বা প্রথমে দেখবেন যে, ঐ নিউজটা যে লিখে পাঠিয়েছে তার নাম দেওয়া আছে। তো যারা এই সকল আর্টিকেল লেখে তারা একটি নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত লোক। এখন কথা হলো আপনার ব্যবসা এইখানে কোথায়?? বলছি

আপনি হয়তো ওয়েবসাইট নাম শুনেছেন। এই কাজ করতে হলে আপনাকে প্রথমে একটি ওয়েবসাইট খুলতে হবে এরপর ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করতে ২০০০/৪০০০ টাকা লাগে ডোমেইন কেনার জন্য। ডোমেইন কিনলেই আপনার ওয়েবসাইট ক্রিয়েট হয়ে যাবে। আপনার ব্যবসায়ে জাস্ট এই অল্প টাকা ইনভেস্ট করলেই হবে। এরপর আপনাকে একটু কস্ট করে এই পেজে কাজ করতে হবে প্রতিনিয়ত আপনাকে কনটেন্ট লিখতে হবে।

আপনাকে যে শুধু নিউজ নিয়ে লেখতে হবে এমন কোনো কিছু নয় আপনি অন্যান্য জিনিষ নিয়েই লিখতে পারেন মেইন কথা হল আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে এরপর আপনাকে খুব সুন্দর ভাবে আর্টিকেল লিখে ভিউয়ারদের আকৃস্ট করতে হবে এবং প্রচুর ভিউয়ার আনতে হবে। যখন আপনার ওয়েবসাইটে যখন প্রচুর ভিউয়ার আসবে তখন আপনি গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করতে পারবেন তারপর গুগল আপনার পেজ ভ্যারিফাই করলে আপনার ওয়েবসাইটে এড আসা শুরু হবে এবং আপনার ব্যবসায়ও শুরু হবে।

এরপর যত ভিউয়ার আসবে আপনার তত টাকা ইনকাম হবে এবং আপনি অনেক টাকা আয় করতে পারবেন।

তো আজ এই পর্যন্ত আশা করি ঘরোয়া ব্যবসা সম্পর্কে ক্লিয়ার একটি ধারনা দিতে পেরেছি। এর পরেও যদি কোন বিষয় নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেনএবং পোস্টটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।
ধন্যবাদ

Leave a Comment