১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে এই স্বাধীন দেশ অর্জন করেছিলাম আমরা। যে যুদ্ধে দেশের সব জায়গা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাক হানাদার বাহিনীদের উপর। লক্ষ লক্ষ বাঙালির আত্মত্যাগে আমরা এই দেশ পেয়েছি। সারাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমার্পন করেছিল। আমি আজ আমার প্রাণের দেশ এই বাংলাদেশের খুলনা জেলার বিখ্যাত কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কথা বলবো। যাদের আত্মত্যাগ ছাড়া আমরা এই সোনার বাংলা পেতাম না।

 

তৎকালীন সময়ে যখন পাকিস্তান এই দেশে বাংলাকে উর্দু ভাষায় রূপান্তরের চেষ্টা চালিয়েছিল এবং এই বাংলা ভাষাকে কেড়ে নিয়ে চেয়েছিল তখন বাঙালি তা মেনে নিতে পারে নি। যার কারণে পাক হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর নির্মম গণ হত্যা, লুটপাট এবং মা বোনদের উপর ধর্ষনের মত অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে।

 

তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালিরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দেশের সকল জায়গা থেকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে পাক হানাদার বাহিনী দমন করতে যুদ্ধের ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর ডাকে বাঙালিরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। সকল শ্রেণির লোক যুদ্ধে গিয়েছিল এই সোনার বাংলাকে রক্ষা করতে। কিন্তু বাঙালিদের অস্ত্র না থাকায় এবং কোন ধরনের প্রশিক্ষণ না থাকায় তখন ভারত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

 

মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্রসহ ট্রেনিং দেওয়ার সমস্ত কাজ করে দেয় ভারত। তখন ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর উপর হামলা চালানো হয়। যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ্য নয় মাস যুদ্ধ করার পর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমার্পন করতে বাধ্য হয়। তখন আমরা পাই সুন্দর একটি স্বাধীন সোনার বাংলা।

 

খুলনার মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধে অবিস্বরণীয় অবদান রেখেছেন। নবম সেক্টর ভুক্ত ছিল খুলনার অনেক বড় একটি অংশ। যুদ্ধের পুরা নয় মাসই এখানে অবিরত ভাবে যুদ্ধ হয়েছে। এখানে গেরিলা যুদ্ধের পাশাপাশি হয়েছে প্রলয়ংকরী ট্যাংক যুদ্ধ। এই যুদ্ধের বেশ কিছু ঘটনাই সবার চোখে পড়ার মত।

 

ব্যাংক অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার সাতক্ষীরা থেকে ১ কোটি পঁচাত্তর লক্ষ টাকা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিল তখন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমার্পন করলেও খুলনায় তখনও যুদ্ধ হতে থাকে। খুলনা পাক বাহিনীদের থেকে স্বাধীন হয় একদিন পর। অর্থাৎ ১৭ ডিসেম্বর।

 

খুলনার শিরোমনিতে ঐতিহাসিক ট্যাংক যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। যা ছিল এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। নয় মাসের এই যুদ্ধে এই রকম ঘটনা অন্য জায়গায় খুব কমই হয়েছে।

 

দেশের মধ্যে আমাদের খুলনায় ঘটে গিয়েছিল এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। বাংলাদেশ সরকারের যুদ্ধ জাহাজ পদ্মা ও পলাশ ভারতীয় বিমানের আঘাতে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল শুধুমাত্র ভুল বোঝাবুঝির কারণে। যার ফলে সেখানে শহীদ হয়েছিলেন যুদ্ধ জাহাজ পলাশের প্রধান ইঞ্জিন রুমের আর্টিফিসার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

 

খুলনার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাদের নাম নিয়ে দেওয়া হলঃ

১। শেখ আব্দুল মান্নান

২। কাজী মাহমুদ আলম (খোকন)

৩। আসাদুল্লাহ আল ওয়াহিদ

৪। শেখ মোঃ বখতিয়ার উদ্দিন

৫। আবু সিনা ইবনে ওয়াহেদ

৬। আঃ বঃ মঃ নুরুল আলম

৭। নোমান উল্লাহ খাঁন

৮। তপন কুমার বিশ্বাস

৯। এ কে মকবুল হোসেন খাঁন মিন্টু

১০। শেখ আব্দুর রাজ্জাক

১১। মোঃ শাজাহান

১২। আবদুস সোবহান

১৩। খন্দকার খায়রুল কবির লনী

১৪। খন্দকার সাজ্জাদ আলী

১৫। মোঃ আঃ জলিল শিকদার

 

সহ আরো অনেকেই খুলনা থেকে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন।