হ্যালো প্রিয় ভাই ও বোনেরা, কেমন আছেন সবাই?

 

আমি জামান আবার এসেছি আমার প্রাণপ্রিয় খুলনা নিয়ে অজানা কিছু তথ্য দিতে। খুলনা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত আজকে আমি সেটা বলবো। 

 

বাংলাদেশের ১০ টি জেলার মধ্যে খুলনা জেলা অন্যতম। কারণ খুলনা বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলার মধ্যে তৃতীয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরেই খুলনার অবস্থান। খুলনাকে শিল্প নগরী শহর বলা হয়। ৪,৩৯৫ বর্গ কিলোমিটারের এই খুলনা আমাদের দেশে নানা কারণে অনেক বিখ্যাত। এর দক্ষিণে রয়েছে বিশাল বঙ্গোপসাগর ও মনমুগ্ধকর সুন্দরবন যা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত নাম।

 

ওদিকে সন্দেশ, নারিকেল এবং গলদা চিংড়ির জন্য আমাদের এই খুলনা জেলা অনেকের কাছেই পরিচিত নাম। খুলনা জেলায় ব্যপক হারে নারিকেল গাছ রয়েছে। গলদা চিংড়ির জন্য বাংলাদেশে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে যে চিংড়ি বাংলাদেশের খুলনা জেলা থেকেই বেশি আসে।

 

খুলনার বিখ্যাত কি?

তো চলুন এই বিখ্যাত জিনিসগুলো সম্পর্কে একটু জেনে নেই।

 

সুন্দরবনঃ

খুলনার পরিচিতি বেশি এই সুন্দরবনের জন্য। যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন। আর এই সুন্দরবনেই শুধুমাত্র আমাদের বাঘ মামাকে দেখতে পাওয়া যায়। হয়তো সুন্দরী গাছ থেকেই সুন্দরবনের নামটা এসেছে। কারণ এখানে সুন্দরী গাছ প্রচুর পরিমাণে হয়। যদিও এই নাম করণ নিয়ে অনেক মতবাদ আছে। মূলত সুন্দরবন বলতে বোঝায় সুন্দর একটি বন বা জঙ্গল।

 

সুন্দরবন খুলনা জেলার দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত। এই বন বিশ্বের সব দেশে বিখ্যাত। এই বনের আয়তন প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার। সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বন নামেও পরিচিত। সুন্দরবন শুধু খুলনা নয় বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলা এবং ভারতের চব্বিশ পরগণা জেলা নিয়েও বিস্তৃত।

 

তবে সমগ্র সুন্দবনের প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটারই বাংলাদেশের। এই বনে সুন্দরী গাছ সহ নানা ধরনের চমৎকার চমৎকার গাছ গাছালি দিয়ে ভরপুর। এই বনে প্রায় ৩৩৪ ধরনের উদ্ভিদ প্রজাতি রয়েছে। যা ১৯০৩ সালে মিস্টার প্রেইন তার একটি সুন্দরবনের গাছপালা নিয়ে লিখিত গ্রন্থে বলেছিলেন।

 

এখানে অর্কিড রয়েছে প্রায় ১৩ প্রজাতির এবং শৈবাল রয়েছে প্রায় ১৬৫ প্রজাতির। পৃথিবীর বুকে মোট ৫০ টি প্রজাতির প্রকৃত উদ্ভিদের মধ্যে এই সুন্দরবনেই রয়েছে ৩৫ টি প্রজাতি। এই বনে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় সুন্দরী বৃক্ষ। তারপরেই আছে গেওয়া। তাই সুন্দরী এবং গেওয়াকে সুন্দবনের প্রধান বৃক্ষ বলা হয়ে থাকে।

 

তাছাড়া ধুন্দল, গরান, পশুর, কাঁকড়া, বাইন, কেওড়া সহ আরো প্রচুর পরিমাণে গাছ রয়েছে এই বনে। এই বনের সকল বৃক্ষই প্রাকৃতিক ভাবেই জন্মায়। বহুল বিখ্যাত রয়াল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের অন্যতম সম্পদ। আমাদের এই বনে স্থলজ প্রাণীই আছে প্রায় ২৮৯ প্রজাতির।

 

প্রায় ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৮ ধরনের উভচর এবং প্রচুর প্রজাতির মাছসহ রয়েছে প্রায় ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী। বিড়াল, বন্য শুকর, বানর, বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ, সজারু সহ হরেক রকমের প্রাণীর বসবাস এই সুন্দরবনে।

 

সুন্দরবনের সরীসৃপ প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে সবয়েছে বেশি রয়েছে কুমির। যাদের মোহনার কুমির বলা হয়ে থাকে। এদের সংখ্যা এই বনে প্রায় ২০০ টির মত। বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে এই বনে। যা মধ্যে কেউটে, অজগর, রাজগোখরা বেশি রয়েছে। এই বনে প্রায় ২৪ প্রজাতির চিংড়ি মাছ রয়েছে।

 

বিভিন্ন প্রজাতির সুন্দর সুন্দর ঝিনুকের পাশাপাশি রয়েছে শামুক। এছাড়া রয়েছে প্রায় ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া। সুন্দরবনে যত ধরনের পাখি রয়েছে তার বেশির ভাগ পাখিই হাঁস প্রজাতির। যা রয়েছে প্রায় ৫০ প্রজাতির। আমাদের এই বনে অগণিত কীটপতোঙ্গ রয়েছে। যা গণনা করা অসম্ভব।

 

বাংলাদেশের সর্বশেষ জরিপ অনুয়ারী এই বনে ১০৬ টি বাঘ, ২০ হাজারের মত বানর ও প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজারের মত হরিণ রয়েছে।

 

সন্দেশঃ

খুলনা সন্দেশের জন্যও সারা বাংলাদেশে বিখ্যাত। বিভিন্ন ধরনের সন্দেশের মধ্যে নলেন গুড়ের সন্দেশ ও ছানার সন্দেশ বেশি বিখ্যাত। শীতের খেজুর রসের নলেন গুড়, দুধের ছানা দিয়ে তৈরি হয় নলেন গুড়। যার ঘ্রাণ খুবই সুন্দর এবং স্বাদ অতুলনীয়।

 

লোহা দিয়ে তৈরি বড় ধরনের কড়াইয়ে প্রথমে রস জ্বালিয়ে নেওয়া হয়। তারপর সেটার সাথে দুধের ছানার সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় নলেন গুড়ের সন্দেশ। শীতের এই সময় সকল গাছিরা ব্যস্ত হয় খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করার কাজে। আর ময়রারা তৈরি হয়ে যায় গুড় তৈরিতে।

 

নারিকেলঃ

খুলনার যে দিকেই চোখ দেন না কেন চারিদিকে শুধু চারিকেল গাছের সবুজ সমারহ দেখতে পাবেন। নারিকেল বাংলাদেশের অর্থকারী ফসলের মধ্যে অন্যতম। সকাল বেলার লাল সূর্য যখন নারিকেল গাছের সবুজ পাতায় পড়ে তখন চোখ ধাঁধানো দৃশ্য দেখতে পাবেন। মনে হবে এ যেন এক নতুন খুলনা দ্বীপ।

 

নারিকেল এমন একটি ফল যা মানুষের আহারের পাশাপাশি একই সাথে সুস্বাদু পানীয় সরবরাহ করে। ডাবের পানি রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া নারিকেলের ছাল দিয়ে জ্বালানির কাজ করা হয়।

 

গলদা চিংড়িঃ

খুলনা জেলার আলাদা করে অনেক পরিচিতি রয়েছে শুধুমাত্র চিংড়ির জন্য। এই জেলায় প্রচুর পরিমাণে চিংড়ির চাষ করা হয়ে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রার বেশির ভাগ অংশ আসে এই চিংড়ি রপ্তানিতে।

 

খুলনার সাতক্ষীরা সহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক বড় বড় ঘেরে চিংড়ির চাষ করা হয়। প্রতি বছরেই কোটি কোটি টাকা আয় হচ্ছে এই চিংড়ি থেকে। এছাড়া এই গলদা চিংড়ি খেতেও ভারি মজাদার। উল্লেখযোগ্য সুস্বাদু খাবারের মধ্যে চিংড়ি মাছ অন্যতম।

 

তো এই ছিল আজকের বিষয়। তবে শুধু এই কারণেই খুলনা বিখ্যাত নয়, আরো অনেক কারণ আছে। এই খুলনাতে অনেক নামীদামী মানুষের বসাবাস রয়েছে। এই খুলনাতেই কবি গুরু রবীন্দ্রনাথা ঠাকুরের শশুর বাড়ি। তাই জীবনের অনেকটা সময়ই কেটেছে তাঁর এই খুলনা জেলাতেই।

 

সবাই ভাল থাকবেন। ধন্যবাদ।