আমাদের খুলনায় অপরূপ সৌন্দর্য্যের কিছু স্থান রয়েছে। যেখানে প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটপ ভিড় করে। আজ আমি খুলনার উল্লেখযোগ্য সেই সকল কিছু স্থান সম্পর্কে আলোচনা করবো।

 

খুলনা জেলার উল্লেখযোগ্য স্থানসমূহ

নিচে আমি খুলনা জেলার উল্লেখযোগ্য কিছু স্থানের নাম ও এর সাথে তাদের সম্পর্কে কিছু তথ্য আলোচনা করলাম।

 

খানজাহান আলী সেতু

এটি রূপসা নদীর উপর তৈরি করা। বাংলাদেশের দীর্ঘ্যতম সেতুর মধ্যে রূপসা সেতু অন্যতম। এটি রূপসা ব্রিজ নামে বেশি পরিচিত। খুলনার রূপসা থেকে এই সেতুটির দূরত্ব মাত্র ৪.৮০ কিলোমিটার। দক্ষিণাঞ্চলের জেলাসমূহের সাথে খুলনার সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

 

এই সেতুটিকে খুলনার প্রবেশদ্বারও বলা হয়ে থাকে। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এখানে ভিড় করে। রাতের বেলায় সেতুটি এক অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরে ওঠে। সেতুটি প্রায় ১.৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট্য। পর্যটকের জন্য সুন্দর করে নির্মিত করা হয়েছে এটি। যার জন্য সেতুটিতে পথচারীদের জন্য এলাদা করে রাস্তা নির্মাণ করা আছে।

 

তাই খুব সুন্দরভাবেই আপনি সেতুটির এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত দেখতে পারবেন। সপ্তাহের প্রতিটা দিনই সবসময় পর্যটকদের দেখার জন্য খোলা থাকে সেতুটি।

 

কবি কৃষ্ণ চন্দ্র ইনস্টিটিউট

এই ইনস্টিটিউটটি খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে অবস্থিত। কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদার ছিলেন বাংলার মোঘল কাব্যের অমর কবি ও নিউজ পেপার সম্পাদক। তাঁর উদ্দেশ্যই মূলত এই ইনস্টইটিউটটি তৈরি করা হয়েছে। এটি ১৯১৪ সালে নির্মিত হয়। স্থানীয় লোকজনদের সহায়তায় গড়ে ওঠে এই ইনস্টিটিউটটি।

 

এখানে বিভিন্ন ধরনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় নিয়মিত। বিভিন্ন ধরনের বই আছে এখানে যা পাঠকের পড়ার জন্য দেওয়া হয়। আপনি চাইলে এখানে ঘুরে দেখে আসতে পারেন।

 

খুলনা বিভাগীয় যাদুঘর

প্রতি বিভাগের মত করে খুলনায়ও যাদুঘর রয়েছে। আপনি চাইলে সেখানে ঘুরে দেখে আসতে পারেন অদেখা অনেক কিছুই। এখানেও প্রতিদিন অনেক মানুষ ভিড় করে। মূলত শুক্রবার বাদে বাকি সকল দিনেই সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত এটা খোলা থাকে।

 

খুলনা জেলার শিববাড়ি যাদুঘরটি অবস্থিত। ট্রাফিক মোড়ের কাছে জিয়া হলের পাশেই রয়েছে এই যাদুঘরটি। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই যাদুঘরটি। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম যাদুঘর বলা হয় এটিকে। এখানে অনেক ধরনের দুর্লভ নিদর্শন দেখতে পারবেন।

 

জাতিসংঘ পার্ক

এটি বাংলাদেশের খুলনা জেলায় অবস্থিত একটি শিশু পার্ক। এটি খুলনা জেলার সদর থানার শান্তিধাম মোড়ে অবস্থিত। ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের বিপরীতে এই পার্ক অবস্থিত। এটি তারের পুকুর নামেও পরিচিত। এই পার্কটি ছোট বড় সবার জন্যই উন্মুক্ত। ছোটদের আনন্দ দানের জন্য রয়েছে হরেক রকমের খেলার সামগ্রী।

 

এটি সকাল ৭ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রতিদিন অসম্ভব পরিমাণ লোক এখানে ঘুরতে আসে। বিভিন্ন অকেশন অনুযায়ী এই পার্কে বিভিন্ন রকমের মেলা হয়ে থাকে।

 

শহীদ হাদিস পার্ক

খুলনার শঙ্খ মার্কেটের বিপরীতে এটি অবস্থিত সবচেয়ে দীর্ঘ্য উন্মুক্ত পার্ক এটি। এখানে সর্বস্তরের লোকের আনাগোনা লেগেই থাকে। ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির গণুভ্যুত্থানের সময় আইয়ুব বিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ শেখ হাদিসুর রহমান বাবুর নামে এই পার্কের নাম করণ করা হয়।

 

এই পার্কে রয়েছে বিশাল বড় শহীদ মিনার। রয়েছে অনেক সুন্দর একটি লেক। লেকার মধ্যে তৈরি করা হয়েছে সুন্দর একটি বড় ঝর্ণা। যা দেখতে ভিড় করে মানুষ। বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি এই পার্ক। সুন্দর সুন্দর গাছ গাছালি এবং অনেক ধরনের ফুল গাছে চারিদিক ঘেরা রয়েছে। যা পার্কের সৌন্দর্য্য আরো বেশি বৃদ্ধি করেছে।

 

লিনিয়ার পার্ক

খুলনা জেলার গল্লামারী এলাকায় এই পার্কটি অবস্থিত। এটি ময়ূরনদীর তীরে নির্মিত। এটিও ছোট বড় সবার জন্য সুন্দর একটি দর্শনীয় স্থান। একটি পিকনিক স্পট বলা হয় এই পার্কটিকে। অনেক বড় এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে পার্কটি। তবে এখানে ঢুকতে হলে জনপ্রতি ২০ টাকা করে দিতে হবে কর্তৃপক্ষকে।

 

এখানে আছে ছবি তোলার জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর স্থান। রয়েছে ছোটদের খেলা করার স্থান। সাথে রয়েছে ছোটদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলনা সামগ্রী এবং রাইড।

 

এছাড়া আরো রয়েছে দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স, মসজিদকুঁড় মসজিদ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বসতভিটা, স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের বাড়ি।