কোন ব্যবসা লাভজনক: কিছু ডিজিটাল বিজনেস যা থেকে অনেক লাভ করা যায়

ব্যবসা করতে চাইলেই ব্যবসা করা যায় না। এর জন্য চাই গভীর মন-মানসিকতার সাথে সাথে কঠর পরিশ্রম। কিন্তু যতই কঠর পরিশ্রম করেন না কেন, আপনি সফল হতে পারবেন না, যদি না সঠিক ব্যবসার পথে হাটেন।

 

ব্যবসা দুই ধরনের হতে পারে। যার একটা হল, ফিজিক্যালি ব্যবসা এবং অন্যটি হল অনলাইন ব্যবসা। এই দুই ধরনের ব্যবসার ফিজিক্যালি ব্যবসাটা সবাই করে। আর অনলাইন ব্যবসার নাম সবাই শুনলেও এটা অনেক কম মানুষই করে।

 

কিন্তু আপনি জানেন কি, ফিজিক্যালি ব্যবসার থেকে অনলাইন ব্যবসা অনেক বেশি লাভ জনক। হ্যা ভাই, এটাই সত্য কথা। আজ আমি এই বিষয়টা প্রমাণসহ আমি ব্যাখ্যা করবো।

 

ফিজিক্যাল ব্যবসা একটি ফিক্সড ব্যবসা। অর্থাৎ এই ব্যবসা আপনাকে ফিক্সড একটা জায়গায় থেকে করতে হবে, ফিক্সড কিছু পণ্য ছাড়া করা যাবে না। কিন্তু অনলাইন ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা যা সারা বিশ্বের কাছে পৌছে দিতে পারবেন আপনার পণ্য এবং হিউজ পরিমাণ পণ্য আপনি ইউজ করতে পারবেন।

 

ফিজিক্যাল ব্যবসা শুরু করতে হলে প্রথমেই অনেক টাকা ইনভেস্ট করতে হয়। কিন্তু অনলাইন ব্যবসার জন্য আপনাকে খুবই সামান্য ইনভেস্ট করলেই হবে। ফিজিক্যালি ব্যবসার জন্য মিনিমাম কয়েক লক্ষ টাকা ইনভেস্ট না করলে শুরু করা যায় না। কিন্তু অনলাইন ব্যবসার জন্য আপনাকে মাত্র কয়েক হাজার টাকা ইনভেস্ট করতে হবে।

 

ফিজিক্যালি ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে ইনভেস্টের পাশাপাশি অনেক খরচ করতে হবে। এই যেমন দোকান ভাড়া, কারেন্ট বিল, খাজনা, কর্মচারীর পেমেন্ট ইত্যাদি। কিন্তু অনলাইন ব্য্যব্যসার জন্য আপনাকে এই ধরনের কোন খরচই করতে হবে না।

 

দেশের বাইরে থেকেও আপনি অনলাইন কাজ করতে পারবেন। প্রাকৃতিক দূর্যোগেও আপনার অনলাইন ব্যবসার কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু ফিজিক্যালি ব্যবসা আপনি প্রতিষ্ঠানের বাইরে যেয়ে করতে পারবেন না এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতি হতে পারে প্রচুর।

 

এবার আপনিই বলুন কোন ব্যবসা বেশি লাভজনক? নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছেন এতক্ষনে। অনলাইন ব্যবসার মত সহজ মাধ্যম আর নেই। আসুন আমি কিছু অনলাইন ব্যবসার নাম সহ সংক্ষেপে বিস্তারিত আপনাদের জানাই।

 

কোন ব্যবসা লাভজনক?

১। ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং হল অনলাইন একটা ব্যবসা মাধ্যম। এখানে আপনি প্রায় সব ধরনের কাজই পাবেন। তবে এখানে কাজ করতে হলে আপনাকে অনেক মেধাবী হতে হবে। কারণ ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে লক্ষ লক্ষ মেধাবী লোক রয়েছে কাজ করার জন্য। তাদের সাথে কম্পিটিশন করতে হবে কাজ পেতে হলে।

 

আপনি আপনার বায়ারদের কাজের মাধ্যমে খুশি করতে পারলেই আপনার কাজের অভাব হবে না। গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট ডেভলমেন্ট, কনটেন্ট রাইটার, ওয়েব ডিজাইন, অ্যাপস মেকার, গেম মেকার, অ্যানিমেশন ক্রিয়েটর ইত্যাদি প্রায় সব ধরনের কাজ এখানে আছে।

 

২। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অনেকটা ফিজিক্যাল ব্যবসার মতই এটা। তবে পার্থক্য হল, ফিজিক্যাল ব্যবসায় নিজের একটা ফিজিক্যাল দোকান থাকা লাগে, ফিজিক্যালি কর্মচারী থাকা লাগে আর কিছু নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া এই ব্যবসার জন্য কোন গ্রাহক পাওয়া যায় না। কিন্তু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ এর কিছুই লাগে না বললেই চলে। কারণ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য সমগ্র দেশে আপনার গ্রাহক পাবেন। অর্থাৎ আপনি আপনার পণ্য সমগ্র দেশে সাপ্লাই দিতে পারবেন।

 

যে কোন জায়গায় বসে আপনি অনলাইনে এই ব্যবসা করতে পারবেন। আপনি যে কোন পণ্য এখানে সেল করতে পারেন। নিজের ওয়েবসাইটে বা স্যোসাল মিডিয়ায় আপনার পণ্য সাজিয়ে রাখে শেয়ার করে সেল দিতে হবে।

 

৩। অ্যাডসেন্স

অ্যাডসেন্স হল অনলাইনে ইনকামের আরেকটি বড় মাধ্যম। আপনার যদি একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকে। তাহলে আপনি সেখানে ভিডিও আপলোড এর মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন। তবে তার জন্য আপনার চ্যানেলটিকে অ্যাডসেন্সের সাথে জুড়ে দিতে হবে। তখন অ্যাডসেন্স আপনার ভিডিও এর উপর অ্যাড শো করাবে। আর ভিডিও দেখলে তার থেকে আপনার ইনকাম হবে। তবে এর জন্যও কষ্ট করতে হবে। কারণ ভিডিও এর কনটেন্ট ভাল না হলে ভিডিও কেউ দেখবে না।

 

আপনার যদি কোন সাইট থাকে, তাহলে ওই সাইটে কনটেন্ট পোস্টের মাধ্যমেও আপনি ইনকাম করতে পারবেন। তবে সাইটটা অ্যাডসেন্সে অ্যাড করে দিবেন। আবার আপনি মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের অ্যাপস বা গেম তৈরি করেও অ্যাডেসেন্সের সাথে অ্যাড করে দিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

 

তাই ফিজিক্যালি ব্যবসার চিন্তা না করে যুগের সাথে তাল মেলাতে অনলাইন ব্যবসা শুরু করুন।

 

সব কথার মূল কথা হল, পরিশ্রমই সফলতার চাবিকাঠি।

 

ছাত্র অবস্থায় আয়: ৮ টি অভাবনীয় পদ্ধতিতে আপনিও আয় করুন

ঘরে বসে আয় করার উপায়: অনেক কয়টি উপায় সম্পর্কে বলছি আজ

বাড়তি আয়ের উপায় ~ ৬ টি উপায়ে আপনিও বাড়তি আয় করতে পারেন

Leave a Reply