ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়

আমার আজকের টপিক্স হল ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়। আমি আজ এই বিষয় নিয়ে কথা বলবো। কিভাবে একটি ওয়েবসাইট খুলে সেখান থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন সেটাই আমি ধাপে ধাপে বর্ণনা করবো।

 

তবে আমার এই পোস্টটি ভাল করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে। তা না হলে কিছুই শিখতে পারবেন না। কারণ আমি ওয়েবসাইট খোলা থেকে শুরু করে টাকা ইনকাম পর্যন্ত পাই টু পাই টিপস দিয়ে যাবো। যা ফলো করলে আপনি কনফার্ম টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আমি আমার সকল পোস্টে যে কোন টপিক্স এমন ভাবে উপস্থাপন করে থাকি যার ফলে আপনার অন্য কোন মাধ্যম থেকে এই বিষয়ে আর জানার প্রয়োজন হবে না।

 

কথা না বাড়াই। মূল বিষয়ে ফিরে যাই।

 

ওয়েবসাইট খুলে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

 

প্রথমেই জেনে নেই যে ওয়েবসাইট কি? ওয়েবে বা ইন্টারনেটে কোন তথ্য রাখার মাধ্যমকে ওয়েবপেজ বলে। আর একের অধিক ওয়েবপেজের সমন্বয়ে গঠিত হয় ওয়েবসাইট। অর্থাৎ ওয়েবপেজে বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমকে ওয়েবসাইট বলা হয়। এখানে আপনি নিজের পছন্দমত যে কোন ধরনের তথ্য জমা রাখতে পারবেন।

 

বর্তমান বিশ্বে প্রায় সকলেই তার নিজের বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য ওয়েবসাইটে সংরক্ষণ করছে। কারণ ওয়েবসাইটে তথ্য সংরক্ষণ করলে তা হারানোর ভয় খুবই কম থাকে এবং খুব সহজেই পৃথিবীর যে কোন স্থান থেকে সেগুলো কন্ট্রোল করা যায়। নিজের কোন লেখা, ভিডিও, অডিও, ছবি, সফটওয়ার, অ্যানিমেশন ইত্যাদি এখানে জমা রাখতে পারবেন।

 

ওয়েবসাইট এমন একটি ইন্টারনেট মাধ্যম যেখানে কম-বেশি বিশ্বের সারা দেশের মানুষ ভিজিট করতে পারে। অর্থাৎ আপনার তথ্য দেখতে পারবে বা জানতে পারবে। যেহেতু এখানে সকল শ্রেণীর মানুষ ও কম-বেশি সকল দেশের মানুষের আনাগোনা আছে, সেহেতু এটা আপনি ব্যবসা ক্ষেত্র হিসাবে বা ইনকামের সোর্স হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

 

এখন কথা হল, আপনার ওয়েবসাইটে মানুষ কেন আসবে এবং মানুষ আসলে কিভাবেই বা আপনার ইনকাম হবে?

 

আপনার ওয়েবসাইটে মানুষ শুধু শুধু আসবে না। নিশ্চয়ই কোন ইনফরমেশনের জন্য আসবে। আপনি যখন আপনার সাইটটা কোন একটা নির্দিষ্ট বিষয় নির্ভর করে বানাবেন এবং সেই সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জমা করবেন তখন মানুষ ওই সকল তথ্য সম্পর্কে জানার জন্য আপনার সাইটে প্রবেশ করবে।

 

আর যখন আপনার সাইটে অনেক লোকের সমাগম হবে তখন অনেকেই চাইবে আপনার সাইটে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য। যাতে করে তাদের বিজ্ঞাপন আপনার সাইটের ভিজিটররা দেখার পাশাপাশি সেই বিষয়ে জানতে পারে। এক কথায় যাকে বলে মার্কেটিং।

 

অর্থাৎ বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান আপনার সাইট ব্যবহার করতে চাইবে তাদের মার্কেটিং এর জন্য। আর বিনিময়ে তারা আপনাকে টাকা দিবে। এভাবেই আপনি ইনকাম করতে পারবেন। কিন্তু শুধু এইভাবে নয়, আরো অনেক উপায় আছে ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকামের জন্য। নিচে আমি সেইগুলো বর্ণনা করলাম।

 

(তবে তার আগে তো একটা ওয়েবসাইট থাকা চাই। একটা ওয়েবসাইট কিভাবে খুলবেন এবং তার জন্য কি কি করতে হবে তার সমস্ত কিছু বিস্তারিত ভাবে জানতে আমার নিচের পোস্টটি পড়ে আসুন। তাহলে নিজে নিজেই আপনি ওয়েবসাইট খুলতে পারবেন।)

 

আর একটা কথা। আপনার সাইটে যদি ভিজিটর না থাকে তাহলে কিন্তু ওয়েবসাইট থেকে কোন টাকাই ইনকাম করতে পারবেন না। তাই ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকামের জন্য আগে আপনার সাইটিতে ভাল ভাল কনটেন্ট বা তথ্য পাবলিশ করুন। আর যখন বেশি বেশি ভিজিটর আসা শুরু করবে তখনই নিচের পদ্ধতি অবলম্বন করে টাকা ইনকাম করা শুরু করে দিন।

 

ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকামের মাধ্যমঃ

 

অ্যাডসেন্স

ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকামের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হল অ্যাডসেন্স। যখন সাইটে অনেক বেশি বেশি ভিজিটর আসবে তখন আপনি আপনার সাইটটি গুগল অ্যাডসেন্সের সাথে যোগ করে দিন। গুগল অ্যাডসেন্সের সাথে যোগ করা হয়ে গেলে গুগল আপনার সাইটের উপর বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন শো করাবে। যার ফলে গুগল আপনাকে টাকা দিবে।

 

নিশ্চয়ই বুঝে গেছে যে অ্যাডসেন্সটা আসলে কি। অ্যাডসেন্স হল গুগলের একটি অ্যাড নেটওয়ার্ক। অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে। তবে আপনার ওয়েবসাইটটি অ্যাডসেন্সের সাথে যোগ করার জন্য গুগলের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

 

যা আপনি গুগলের অ্যাডসেন্সের কমিউনিটি গাইডলাইনে পাবেন। এটা খুব ভাল করে আগে পড়বেন। এখানে অনেক কন্ডিশন আছে। যা খুবই সহজে পূরণ করতে পারবেন আপনি।

 

ওয়েবসাইটে কখনই ভালগার বা এডাল্ট কোন কনটেন্ট পাবলিশ করা যাবে না। এই ধরনের কোন বাজে ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা যাবে না। অন্য কোন ওয়েবসাইট থেকে কপি করে কোন কিছু নিজের সাইটে পাবলিশ করা যাবে না।

 

এই ধরনের কিছু সাইটে থাকলে কোন অবস্থাতেই গুগল আপনার সাইটটি অ্যাডসেন্সের জন্য অ্যাপ্রুভ করাবে না।

 

মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কিভাবে আপনার সাইটে বিজ্ঞাপন শো করাবে অ্যাডসেন্স?

 

আপনি ইন্টারনেটে অনেক সাইটে ঢুকে দেখবেন যে, সাইটে পাবলিশকৃত পোস্টের ভিতরে বা উপরে বা নিচে বা সাইটে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে। মূলত এই ভাবেই আপনার সাইটে বিজ্ঞপন দেখাবে অ্যাডসেন্স। আপনার সাইটের যে সকল স্থান ফাকা থাকবে সেই সকল স্থান বেছে নিবে গুগল অ্যাড শো করানোর জন্য।

 

এছাড়া আপনি নিজেও আপনার অ্যাডসেন্স থেকে বিজ্ঞাপনের কোড কপি করে আপনার সাইটের যে কোন জায়গায় বসিয়ে দিতে পারবেন। এখন অধিকাংশ লোকই তাদের ওয়েবসাইট অ্যাডসেন্সের সাথে অ্যাড হয়ে ইনকাম করছে। এভাবেই মূলত অ্যাডসেন্স থেকে ইনকাম করা যায়।

 

এখন কথা হল, কিভাবে এই টাকা তুলবেন বা কোথায় আপনার ইনকামের টাকা অ্যাড হবে?

 

যখন আপনার সাইটটি অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ করবে তখন অ্যাডসেন্সেই একটা অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে। যেখান থেকে আপনি আপনার ইনকামের টাকা দেখার পাশাপাশি আপনার সাইটের টোটাল ভিজিটর, টোটাল পেজ ভিউ, ক্লিক সব কিছুই দেখতে পারবেন।

 

সাইট থেকে প্রতিদিনের ইনকামের টাকা প্রতিদিনই সাথে সাথে অ্যাডসেন্সের অ্যাকাউন্টে অ্যাড করে দেয় গুগল। তবে পুরা মাসের ইনকামের টাকা তার পরের মাসের ১৫ তারিখে মূল ব্যালেন্সে অ্যাড করে দেয় গুগল।

 

যখন আপনার মূল ইনকাম ১০ ডলার বা তার বেশি হবে তখন গুগল অ্যাডসেন্স থেকে একটি চিঠি পাঠাবে আপনার ঠিকানায়। আপনি অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যে অ্যাড্রেসটা দিবেন সেই ঠিকানায় একটি চিঠি পাঠানো হবে। তাই ঠিকানা দেওয়ার সময় নিজের অরিজিনাল ঠিকানা ভাল ভাবে পূরণ করে দিতে হবে।

 

মূলত এই চিঠিটা পাঠানো হয় অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশনের জন্য। এই চিঠিতে একটি পিন নাম্বার থাকে। যে পিন নাম্বারটা আপনার অ্যাডসেন্সে দিলেই আপনার অ্যাকাউন্টায় অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশন হয়ে যাবে।

 

তবে অনেক ক্ষেত্রে চিঠি আসে না। সে ক্ষেত্রে চিন্তার কোন কারণ নেই। আপনি চিঠি না পেলে আবার চিঠি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই ভাবে মোট ৩ বার চিঠির জন্য আবেদন করা যায়।

 

তারপরেও যদি চিঠি না পান তাহলে যে নামে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট খোলা তার ন্যাশনাল আইডি কার্ড সাবমিট করে অ্যাড্রেস ভেরিফিকেশন করতে পারবেন। কিন্তু মনে রাখবেন যে, ৩ বারের পরেই ন্যাশনাল আইডি কার্ড সাবমিটের অপশন আসে। এর আগে অপশন পাবেন না।

 

তারপর আপনার কোন একটা অনলাইন সাপোর্টেড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অ্যাডসেন্সে অ্যাড করে দিলেই গুগল একটি নির্দিষ্ট টাইমে আপনার ইনকামের টাকা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দিবে।

 

বেশির ভাগ সময়ে প্রতি মাসের ২১ তারিখের দিকে পেমেন্ট ট্রান্সফার করে থাকে। তবে যদি কোন সরকারী ছুটি থাকে তাহলে পেমেন্ট আসতে মাঝে মাঝে একটু বেশি সময় নেয়।

 

আর একটা কথা, অ্যাডসেন্সে ১০০ ডলার না হলে কিন্তু টাকা তোলা যায় না। ১০০ ডলার হয়ে গেলে অটোমেটিকভাবেই টাকা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অ্যাড হয়ে যাবে।

 

অ্যাডসেন্সের মত আরো অনেক মাধ্যম আছে, যেগুলায় আপনি সাইটটি অ্যাড করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

 

ফ্রিল্যান্সিং

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন। তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য আপনার সাইট ব্যবহার করতে পারবেন। কারণ ফ্রিল্যান্সিং এ লক্ষ লক্ষ লোক থাকে কাজের আশায়। তাই ঐ সকল সাইটে কাজ পাওয়া একটু কঠিন হয়ে যায়। তাই আপনি আপনার কাজ গুলো আপনার সাইটে দিয়ে রাখলে অনেক লোকই আপনাকে নক করবে কাজ করে নেওয়ার জন্য।

 

এখন অনেকটাই বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে এই মাধ্যমটি। কারণ বেশির ভাগ কাজ দাতারা চায় যে, দক্ষ একজন ফ্রিল্যান্সারকে। আর এই কারণে বেশি ঝামেলার মধ্যে না জড়িয়ে সহজ মাধ্যম খুঁজে বেড়ায়। আর ওয়েবসাইটই হচ্ছে সেই সহজ মাধ্যম।

 

এখানে আপনি আপনার নিজের কাজের যোগ্যতার পাশাপাশি কোন কোন ধরনের কাজ করেন তার স্যাম্পল পাবলিশ করে রাখলে এবং আপনার যোগাযোগের মাধ্যম অ্যাড করে রাখলে অনেক বেশি কাজ পাবেন এখান থেকে।

 

আপনারা যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন তারা নিশ্চয়ই জানেন যে, একটি কাজের জন্য কত পরিমাণ লোক ভিড় করে। তাই কাজ পাওয়া বা কাজে উইন করা সহজ নয়। তাই আপনি চাইলে নিজের কাজের জন্য ক্লায়েন্ট ডেকে আনতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এতে করে আপনি অনেক বেশি কাজ পাবেন।

 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলতে বোঝায় যে, কোন প্রোডাক্ট নিজের রেফারেন্সে বিক্রি করে দেওয়া। অর্থাৎ আপনি যদি কারোর প্রোডাক্ট নিজে বিক্রি করে দিতে পারেন তাহলে তাকে অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেন্টিং বলে। তবে আপনাকে প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য বাইরে যেতে হবে না। এর জন্য আপনার ওয়েবসাইটই যথেষ্ট।

 

বর্তমানে প্রায় বেশির ভাগ লোকই ঘরে বসে মার্কেটিং করতে চায়। যার ফলশ্রুতিতে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন অনলাইন কেনা বেচার প্লাটফর্ম। যেখানে আপনি সব ধরনের পণ্য পাবেন। ঘরে বসে নিজের পছন্দমত প্রোডাক্ট অর্ডার করলেই সেই প্রোডাক্ট নির্দিষ্ট টাইমে আপনার বাসায় পৌছে যাবে।

 

আপনার ওয়েবসাইটে যদি অনেক ভিজিটর থাকে তাহলে আপনি বিভিন্ন অনলাইন কেনা বেচার সাইট থেকে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন আপনার সাইটে বসিয়ে দিতে পারেন। আর আপনার সাইটে বসানো বিজ্ঞাপন থেকে যদি কোন পণ্য সেল হয়ে তাহলে আপনি সেখান থেকে কমিশন পাবেন।

 

এর জন্য আপনাকে বিভিন্ন অনলাইন কেনা বেচার সাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। তারপর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের পছন্দমত পণ্যের রেফারেল কোড কপি করতে হবে। সেই কোড আপনার ওয়েবসাইটের কোন একটা জায়গায় বা বিভিন্ন জায়গায় বসিতে দিতে হবে।

 

তাহলে আপনার সাইটে ঐ সকল বিজ্ঞাপন শো করবে। তখন ওখান থেকে সেল হলে আপনি কমিশন পাবেন। এভাবেই নিজের ওয়েবসাইট দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

 

ই-কমার্স

এখন অনলাইনে কোন ব্যবসা করতে গেলে ওয়েবসাইট ছাড়া সেটা কল্পনাও করা যায় না। তাই আপনি যদি ই-কমার্স করতে চান তাহলে আপনাকে ওয়েবসাইটের স্বরণাপন্ন হতে হবে।

 

ই-কমার্স হল, নিজের পণ্য অনলাইনে বিক্রি করা। অর্থাৎ আপনার যদি কোন প্রতিষ্ঠান থাকে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের পণ্য অনলাইনে বিক্রি করে অনেক অধিক ইনকাম করতে পারবেন।

 

আপনার পণ্যগুলোর ছবি ভাল করে সাজিয়ে পুরা ডিটেইলস সহকারে পাবলিশ করতে হবে। তখন সেখান থেকে পছন্দমত প্রোডাক্ট আপনার ভিজিটররা অর্ডার করতে পারবে। তখন অর্ডারকৃত পণ্য আপনি কাস্টমারদের কাছে পৌছে দিলেই তারা আপনাকে পেমেন্ট দিয়ে দেবে।

 

তবে আপনাকে প্রোডাক্ট ডেলিভারি করার জন্য কাস্টমারের বাসায় যাওয়া লাগবে না। এখন অনেক কুরিয়ার সার্ভিস চালু হয়েছে যারা অনলাইন পণ্য সাপ্লাই এর কাজ করে থাকে। এরা আপনার পণ্যটি আপনার কাস্টমারের ঠিকানায় সঠিকভাবে পৌছে দেবে। তবে তারা প্রোডাক্টটি দেওয়ার আগে নির্ধারিত মূল্য কাস্টমারের কাছ থেকে রেখে দেবে।

 

আপনি পরে সেই টাকা কুরিয়ার থেকে নিতে পারবেন। এভাবে ই-কমার্সের মাধ্যমে ওয়েবসাইট থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনি যদি ই-কমার্সের জন্য ওয়েবসাইট খোলেন তাহলে শুধু ই-কমার্সই নয়, এর সাথে অ্যাফিলিয়েন্ট মার্কেটিং এবং অ্যাডসেন্সের মাধ্যমেও এক সাথে ইনকাম করতে পারবেন।

 

কনটেন্ট রাইটিং

ওয়েবসাইট ব্যপক ভাবে ব্যবহৃত হয় কনটেন্ট রাইটের জন্য। কারণ এখন যত প্রকার নিউজ, স্পোর্টস, বিনোদন বা বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট আছে সবাই সেটা পাবলিশের জন্য ওয়েবসাইট ব্যবহার করে।

 

আপনি যদি লেখায় বেশি পারদর্শী হন তাহলে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট লিখে আয় করতে পারবেন। কারণ এখন কনটেন্ট ব্যপক ভাবে জনপ্রিয়। মানুষ যে কোন প্রব্লেমে পড়লে বা যে কোন বিষয়ে জানার জন্য গুগলে সেই বিষয়ে সার্চ দেয়। আর যে সকল ওয়েবসাইটে সেই সকল বিষয়ে লেখা আছে সেই ওয়েবসাইটগুলো গুগল শো করায়।

 

তাই আপনি আপনি যে কোন একটা টপিক্স ফিক্সড করে কনটেন্ট লেখা শুরু করে দিতে পারেন। আর আপনার সাইটটি যখন বেশি ফ্যামাস হবে বা অনেক ভিজিটর আসবে কনটেন্ট পড়ার জন্য, তখন আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

 

ভাবছেন কনটেন্ট লিখলে টাকা পাবো কিভাবে? একটু মন দিয়ে ভেবে দেখুন তো উত্তরটা পান কিনা। কারণ উত্তর আমি উপরেই দিয়ে এসেছি। আপনার ওয়েবসাইটের অনেক অংশ ফাকা থাকে। খেয়াল করে দেখলে বুঝতে পারবেন যে, হয় উপর না হয় নিচে কোন না কোন সাথে একটু ফাকা জায়গা থাকে।

 

এখানে আপনি বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন জুড়ে দিয়েও ইনকাম করতে পারেন। অথবা গুগলের অ্যাডসেন্সে ওয়েবসাইটটি অ্যাড করেও ইনকাম করতে পারবেন।

 

আমার এমন অনেক মানুষের সাথে পরিচয় আছে যারা তাদের ওয়েবসাইটে শুধু মাত্র কনটেন্ট লিখে অ্যাডসেন্সের মাধ্যমে মাসে ৩০ হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা ইনকাম করছে। তবে আপনি যদি ইংলিশে কনটেন্ট লিখেন তাহলে ইনকামটা অনেক গুণ বেশি হবে। আর বাংলায় কনটেন্ট লিখলে তুলনামূলক ভাবে অনেক কম ইনকাম হয়।

 

তবে যে ভাষাতেই কনটেন্ট লিখুন না কেন আপনার ওয়েবসাইটটিতে দিনে মিনিমাম ১ লক্ষ ভিজিটর আনতে পারলে মাসে ৩০ হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।

 

এছাড়া আরো অনেক উপায় আছে ওয়েবসাইট খুলে ইনকাম করার জন্য। আমার সাইটে এই রকম আরো অনেক টপিক্স আছে ইনকাম করার জন্য। যা ফলো করলে অনেক উপায়েই সহজে ঘরে বসে আয় করতে পারবেন। আজ এই পর্যন্তই। সবাই ভাল থাকবেন। আর আমার পোস্ট ভাল লেগে থাকলে অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ

Leave a Reply