ইন্টারনেট থেকে আয় করার সহজ উপায়ঃ না জানলে মিস করবেন!

আমাদের দৈনন্দিন জীবন ইন্টারনেটের সাথে ঘনিষ্ট ভাবে জড়িত। ইন্টারনেট ছাড়া আমরা প্রায় চলতেই পারি না। তবে ইন্টারনেট কে দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগানোর পাশাপাশি এ থেকে আয় করার অনেক উপায় আছে।

 

কিন্তু অনেক মানুষ এ সম্পর্কে জানেই না আবার যারা জানেন তাদের বেশির ভাগ মানুষই সেটা বাস্তবে করে দেখাতে পারে না।

 

এর মূল কারণ সঠিক দিক নির্দেশনার অভাব ও নিয়মিত কাজ না করা। যাই হোক আজ আমি অনলাইনে আয় করার কিছু বৈধ উপায় নিয়ে আলোচনা করবো। আশা করি আপনি এ থেকে অনেক বেশি উপকৃত হতে পারবেন। 

 

ইন্টারনেট থেকে আয় করার উপায়

তো আর কথা না বাড়িয়ে চলুন সবকটি উপায় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

 

১। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

ইন্টারনেট দুনিয়ায় সবচেয়ে সহজ একটা আয় করার উপায় হল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং যদিও এ কথাটি একই সাথে সত্য ও মিথ্যা। এর কারন হল এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরুর দিকে খুবই কস্ট করতে হয় আর যদি ঠিকঠাকভাবে এটি শুরু না করেন, তাহলে সাফল্য পাওয়া আরও অনেক কস্টকর হয়ে যায়।

 

তবে একবার যদি আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং এ একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিতে পারেন, তাহলে কেল্লা ফতে! হ্যা, তখন আপনাকে আর আয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

 

এফিলিয়েট মার্কেটিং হল আরেকজনের একটি প্রডাক্ট কমিশনের আশায় প্রোমোট করা। যে এই প্রোমোট করেন তাকে এফিলিয়েট মার্কেটার বলে আর যার প্রোডাক্ট প্রোমোট করা হয় তাকে মার্চেন্ট বলে।

 

এ ব্যবসাটি ঘরে বসে রোজগারের একটি অনন্য মাধ্যম।

 

তবে আমি অনেককেই দেখেছি যারা হুজুগে পড়ে এ ব্যবসা শুরু করেছিল, কিন্তু কিছুদিন পর আর টিকতে পারেনি। তাই আমি আপনাদের এ ব্যাপারে সতর্ক করতে চায় এ বলে যে ঠিকভাবে জেনেশুনে এ ব্যবসাটি শুরু করুন।

 

আমি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ওপর একটি পুরনাঙ্গ কোর্স তৈরি করেছি যা আপনি AffiliateMarketingBD.com এ ভিজিট করলেই পেয়ে যাবেন।

 

আমার দেখানো পথসমূহ অনুসরণ করুন তাহলে দেখবেন যে খুব স্মুথলি ব্যবসাটি করতে সক্ষম হচ্ছেন। আরেকটি কথা না বললেই নয় আর সেটি হল যে আপনারা একই সাথে এখাধিক রিসোর্স নিয়ে কাজ করবেন না। যেমন আপনাদের অনেকেই আছেন যারা একই সাথে হাজারটা ভিডিও দেখেন, ব্লগ পড়েন। এতে হয়কি আপনার শেখার বিভিন্ন পর্যায়ে একজনের শেখানোর সাথে আরেকজনের শেখানোর কনফ্লিক্ট হয়।

 

জেনে রাখুন! এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন?

 

২। অ্যাডসেন্স

আমরা সবাই টেলিভিশন দেখি। কিন্তু বলেন তো টেলিভিশন চ্যানেলের ইনকাম কিভাবে হয়?

 

আমিই বলি, টেলিভিশন চ্যানেল তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাঝে মাঝে যেসকল কম্পানির বিজ্ঞাপন প্রচার করে থাকে সেই সকল কম্পানি টেলিভিশন চ্যানেলকে টাকা দেয়। ঠিক অ্যাডসেন্সও বিজ্ঞাপন দাতাদের বা যাদের ওয়েব প্রোপার্টিতে শো করা হয় তাদেরকে টাকা দেয়।

 

টিভির থেকে আরো একটি ভাল উদাহরণ হতে পারে সংবাদপত্র যেটিতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতা অর্থের বিনিময়ে তাদের নানা বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে থাকেন।

 

যদিও টিভি ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনদাতারা সরাসরি ওই সকল চ্যানেলের সাথে যোগাযোগ করেন, এডসেন্সের ক্ষেত্রে সকল বিজ্ঞাপন দাতাকে এডসেন্সে তাদের বিজ্ঞাপন সাবমিট করতে হয়। এরপর এডসেন্সে এর পাব্লিশারদের ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল বা মোবাইল অ্যাপস  এ বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। এভাবে এডসেন্স এর পাব্লিশারদের পে করে।

 

এডসেন্স যেহেতু সার্চ জায়ান্ট গুগোলের এড নেটওয়ার্ক তাই এটি খুবই রিলায়েবল একটি আয়ের মাধ্যম। এখানে আর এডসেন্স নিয়ে কথা বাড়ালাম না কারন ইতোমধ্যে এডসেন্স থেকে আয়ের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি।

 

৩। ইউটিউবিং

ইউটিউবিং সম্পর্কে জানে না এমন লোকের সংখ্যা নেই বললেই চলে। এই চ্যানেলে বিভিন্ন ভিডিও পাব্লিশিং এর মাধ্যমে আয় করা যায়।

 

তবে একটু আগে যে এডসেন্স নিয়ে আলোচনা করলাম তার সাথে ইউটিউবিং এর সম্পর্ক আছে কারন ইউটিউবাররা ইউটিউবিং করে মূলত এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করার জন্য যদিও আরো অনেক উপায়ে আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করতে পারবেন তথাপি এডসেন্স এর মাধ্যমে আয় করার লক্ষ্যেই ইউটিউবাররা মুখিয়ে থাকেন।

 

এডসেন্স ছাড়াও স্পন্সরড ভিডিওর মাধ্যমেও ইউটিবাররা ইন্টারনেট থেকে আয় করতে পারে। তাছাড়া এফিলিয়েট মার্কেটিংও কিন্তু ইউটিউবের সাহায্যে করা যায়।

 

এডসেন্সের মত ইউটিউবও গুগোলের একটি প্রতিষ্ঠান। অতীতে ইউটিউব থেকে আয় করা অনেক সহজ হলেও এখন এটি একটু কঠিন হয়ে গেছে। এর কারন হল এখন ইউটিউব যাকে তাকে তার চ্যানেল মানিটাইজ করার সুযোগ দেয় না।

 

এখন ১০০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৪০০০ ঘন্টা ভিউ হবার পর মানিটাইজেশনের জন্য এপ্লাই করা যায়। ফলে অনেকেই এই সময়টুকু অপেক্ষা করতে পারে না আর এর ফলাফল হল ইউটিউবিং ছেড়ে দেওয়া।

 

যাই হোক আপনি যদি আপনার মনোবল ঠিক রেখে নিয়মিত ভাল ভাল ভিডিও বানাতে থাকেন তবে আপনি এক্ষেত্রে সফল হতে পারবেন ইনশা আল্লাহ।

 

তবে যাই করুন না কেন খেয়াল রাখবেন আপনার ভিডিও সমূহ যেন আপনার অডিয়েন্সকে উপকার করার লক্ষ্যে হয়। তাহলে দেখবেন যে আপনার ভিডিওসমূহ আপনার অডিয়েন্স পাবার জন্য অস্থির হয়ে আছে।

 

৪| ব্লগিং

আমাদের দেশে ব্লগিং অনেক জনপ্রিয় হওয়া শুরু করেছে। ব্লগিং হল নিজের ডায়েরি লেখার মত একটি ব্যাপার যেটি আপনি ডিজিটালি করতে পারছেন।

 

আর ব্লগিং এমন একটি আয়ের মাধ্যম হতে পারে যেটির সাহায্যে আপনি একই সাথে এডসেন্স, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ও অন্যান্য আরো অনেকভাবে আয় করতে পারেন। আসলে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আয় করার অন্যতম একটি উপায় হল ব্লগিং। আবার এডসেন্সের ক্ষেত্রেও এ কথাটি প্রযোজ্য।

 

ব্লগিং এর মাধ্যমে অনেক বেশি কন্টেন্ট গুগোলের প্রথম পেইজে আনা যায় আর এজন্য ব্লগিং করে অনেক ভিজিটর আপনার সাইটে নিয়ে আসতে পারবেন। আর সাইটে ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারলে তা থেকে আপনি বিভিন্নভাবে আয় করতে পারবেন।

 

৫। ফেসবুকিং

ফেসবুক ইউজ করে না এমন লোক খুজে পাওয়া আসলেই কঠিন। আমরা সময় পেলেই ফেসবুকে একটু ঢু মেরে আসি। কিন্তু আপনি কি জানেন এই ফেসবুকের মাধ্যমে আপনি অনেক অনেক টাকা ইনকাম করতে পারেন? হয়তো জানেন না। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এখন এই টাকা ইনকামের সিস্টেমটা চালু করেছে। আপনার ফেসবুক পেজের ফলোয়ার সংখ্যা বেশি হলে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে আপনার পেজে ভিডিও আপলোড করতে হবে। যে ভিডিও এর মাঝে অ্যাড শো করবে। যার ফলে আপনার ইনকাম হবে। তবে ভিডিও এর মাঝে অ্যাড শো করানোর জন্য মনিটাইজ করে নিতে হবে।

 

ফেসবুক থেকে যে শুধু এড শো করিয়েই আয় করা যায় তা কিন্তু নয় বরং আরো অনেকভাবে এই সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম থেকে আয় করা যায়।

 

যেমন আপনি চাইলে ফেসবুকে একটি অনলাইন শপ খুলতে পারেন যেখানে আপনার বিভিন্ন পন্য প্রদর্শন করতে পারবেন।

 

এছাড়াও একটি গ্রুপ যদি আপনি ভালভাবে গ্রো করতে পারেন তবে আপনি বিভিন্ন লোকাল এড থেকেও আয় করতে পারেন।

 

তো এ থেকে দেখতে পেলেন যে এ প্লাটফর্মটি নানাভাবে অনলাইনে আয় করার সহায়ক হতে পারে।

 

আর একটি কথা না বললেই নয় সেটি হল ফেসবুক কিন্তু এফিলিয়েট, এডসেন্স, ইউটিউব ইত্যাদি থেকে আয় অনেকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে এবং ফেসবুক কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার যেকোন ব্যবসার ও সম্প্রসারণ করতে পারেন।

 

৬|ফ্রিল্যান্সিং

ইন্টারনেট জগতে আরেকটি পরিচিত নাম হল ফ্রিল্যান্সিং। এই মার্কেটপ্লেসে এমন কোন কাজ নেই যে পাওয়া যায় না। আপনি যদি চান তাহলে এখান থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে কাজ জানতে হবে। কারণ এই মার্কেটপ্লেসে কাজ না জানা লোকের কোন ঠাই নেই। লক্ষ লক্ষ মেধাবী লোক এখানে কাজের জন্য হুমড়ি খেয়ে বসে আছে। আপনাকে তাদের পেছনে ফেলে কাজ পেতে হবে। আর একবার এই মার্কেট প্লেসে কাজ পেলে আপনার কাজের অভাব হবে না। আপনার বায়ার তখন আপনাকে আগে থেকেই কাজ দিয়ে রাখবে।

 

আমাদের দেশে কিছু জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম হল আপওয়ারক, ফ্রিল্যান্সার, ফাইভার ইত্যাদি। এ সব প্লাটফর্ম এ অজস্র লোক তাদের স্কিল অনুযায়ী ক্যারিয়ার গড়তে সক্ষম হয়েছে।

 

তো ট্রাই করে দেখুন। আপনিও ভাল করতে পারবেন বলে আসা করি।

 

৭। ওয়েবসাইট ফ্লিপিং

এটা আরেকটি সহজ কাজ। আপনি যদি ওয়েবসাইট কিভাবে গ্রো করতে হয় তা জানেন তাহলে আপনার জন্য এর চেয়ে সহজ কাজ আর ইন্টারনেটে নেই। আপনি স্বল্প খরচে একটা সাইট বানিয়ে সেটা নিজের মত করে ডিজাইন করে গ্রো করতে পারলেই খরচের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে সেল করতে পারবেন। এভাবে আপনি অনেক টাকা আয় করতে পারবেন।

 

ইন্টারনেটে আয় করার জন্য অনেক পথ আছে। তবে বেশির ভাগ মানুষই ভুল পথে পা বাড়ায়। যার ফলে তার ইন্টারনেটে আয় করার ধারণা মিথ্যা বলে মনে হয়। কিন্তু সঠিক পথ বেছে নিয়ে পরিশ্রম করে গেলে আ

 

তো বন্ধুরা এই হল ইন্টারনেট থেকে আয় করার বেশ কিছু বৈধ উপায়। চাইলে আপনিও এর এক বা একাধিক উপায়ে অনলাইনে কাজ করে আয় করতে পারেন।

 

তবে আপনাকে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যেন নানা দিকে কাজ করতে যেয়ে যেন সমস্যায় না পড়েন কারন যে কোন একটি মাধ্যমে একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারলেই সফলতা পাওয়া যায়। যখন দেখবেন যে একটি বিষয়ে ভাল করতে পেরেছেন তখন আরো কিছু কাজ শুরু করতে পারেন, কিন্তু একসাথে একাধিক বিষয়ে কাজ করলে আপনার মনযোগ নস্ট হবে ও কোন কাজেই সফল হবার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

Leave a Reply