ইউটিউবিং কি: সবথেকে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট সম্পর্কে কিছু কথা

ইউটিউবের নাম আমরা সকলেই শুনেছি। এই যুগে ইউটিউব দেখে না এমন লোক খুব কমই আছে। আজ এই বিষয়ে কথা বলব।

 

ইউটিউবিং কি?

ইউটিউব মূলত ভিডিও দেখার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। আর ভিডিও তৈরি করে আয় করার মাধ্যমকে ইউটিউবিং বলে। ইদানিং আমাদের তরুন সমাজ এই দিকে বেশি ধাবিত হচ্ছে। কারণ ইউটিউব এমন একটা মাধ্যম যেখানে আপনার ভিডিও সারা দুনিয়ার মানুষ দেখতে পারবে। আর রাতারাতি অর্থ আয়ের পাশাপাশি সেলিব্রেটি হয়ে যাবে খুবই শীঘ্রই। ইউটিউবে প্রায় সব ধরনের ভিডিও পাওয়া যায়। শুধু মাত্র পর্ণোগ্রাফী বাদে। এখানে কমেডি ভিডিও, টিউটোরিয়াল ভিডিও, প্রাঙ্ক ভিডিও, মডেলিং, সিনেমা, গেমিং, স্পোর্টস, বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ, নিউজ সহ প্রভৃতি ভিডিও আছে।

 

আপনি ভাবতে পারেন যে, কেমন ধরনের ভিডিও দিয়ে আপনি ইউটিউবিং শুরু করবেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলে এডাল্ট ভিডিও ছাড়া যে কোন ধরনের ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। আমাদের তরুন সমাজ কেউ গান গেয়ে তার চ্যানেলে ছাড়ছে, কেউ বা কমেডি অভিনয় করে চ্যানেলে আপলোড দিচ্ছে আবার কেউ বা বিভিন্ন ট্রিক্স নিয়ে কাজ করে ছাড়ছে।

 

আসুন কি কি নিয়ে আপনি ইউটিউবিং করতে পারেন তার কিছু ধারনা দেই।

 

১। কমেডি ভিডিও

আপনি যদি কমেডি করে মানুষ হাসাতে পারেন, তাহলে কমেডিও ভিডিওই হবে আপনার ইউটিউবিং এর জন্য বেস্ট উপায়। কারণ কমেডি ভিডিও যে কোন বয়সের মানুষ ভালবাসে। আপনি আপনার বন্ধুদের নিয়ে বিভিন্ন কমেডিও ভিডিও বানাতে পারেন। আমাদের দেশে সবচেয়ে কমেডি নির্ভর চ্যানেল বেশি চলে। ইউটিউবে এমন অনেক চ্যানেল আছে যারা একা একাই কমেডি ভিডিও তৈরি করে মানুষদের বিনোদন দিয়ে প্রচুর টাকা ইনিকাম করছে। তাই আপনি চাইলে কমেডি ভিডিও দিয়ে ইউটিউবিং শুরু করতে পারেন।

 

ঘরে বসে আয় করার উপায়

 

২। টিউটোরিয়াল ভিডিও

ধরুন আপনি কম্পিউটার বিষয়ে খুব ভাল জানেন। এখন আপনি স্ক্রিন রেকর্ডার দিয়ে কম্পিউটারের অনেক সমস্যা ও তার সল্যুশন বানিয়েও আপনি আপনার চ্যানেলে আপলোড দিতে পারেন। আমাদের দেশে টিউটোলিয়াল ভিত্তিক চ্যানেল গুলোরও অনেক বেশি ডিমান্ড। শুধু কম্পিউটার নয়, আপনি যে কোন ধরনের টিউটোরিয়াল বানাতে পারেন। আপনি যদি মোবাইল ফোন সম্পর্কে ভাল জানেন, তাহলে মোবাইল ফোনের অনেক ধরনের নতুন ফেচারের রিভিউ নিয়ে হাজির হতে পারেন বা সমস্যা সলভের ভিডিও নিয়ে কাজ করতে পারেন। তাছাড়া যে কোন ধরনের টিউটোলিয়াল নিয়ে ইউটিউবিং করতে পারেন।

 

বাড়তি আয়ের উপায়

 

৩। গানের ভিডিও

ভাল গান করতে পারনে এমন অনেক মানুষই আছে। আপনি যদি ভাল গান করতে পারেন তাহলে আপনি সেটা নিয়েও ইউটিউবিং শুরু করে দিতে পারেন। শুধু আপনার গান গুলো ভিডিও করে নিজের চ্যানেলে আপলোড দিতে হবে। আপনি নিজে ভাল গান গাইতে না পারলে সমস্যা নেই। আপনার এলাকায় এমন অনেকেই আছে যারা ভাল গান গাইতে পারে। আপনি তাদের গান ভিডিও করে ছাড়তে পারেন।

 

ছাত্র অবস্থায় আয়ের উপায়

 

৪। মডেলিং

মডেল কে না হতে চায়। আপনি যদি ভাল অভিনয় করতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই। এখন মডেলিং ভিডিও গানের ব্যপক জনপ্রিয়তা। আপনি কোন একটা গানের মডেলিং করে ইউটিউবিং করতে পারেন। একে মিউজিক্যাল ফ্লিম বলে। অর্থাৎ আপনি যদি কোন গানের সাথে মডেলিং বা অভিনয় করে সেটা গানের ভাষার সাথে ফুটিয়ে তুলে আপলোড করতে পারেন তাহলে আপনি নিজের অভিনয়ের জন্য ও চ্যানেলের জন্য অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারবেন। আপনি আপনার বন্ধু বান্ধবদের দিয়েও এই কাজ করাতে পারেন।

 

৫। পণ্যের রিভিউ

বাজারে প্রতিদিনই নতুন নতুন পণ্য আসছে। আপনি চাইলে সেই সকল পণ্যের ভাল দিক ও খারাপ দিক নিয়ে ভিডিও তৈরি করতে পারেন। এখন কেউ কোন পণ্য ক্রয় করার আগে ইউটিউবে সেই পণ্যের রিভিউ দেখে নেয়। তারপর সেটা ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয়। যেমন বাজারে নতুন একটা মডেলের মোবাইল ফোন আসল। আপনি সেটার ভাল দিক ও মন্দ দিক নিয়ে আলোচনা করতে পারেন আপনার ভিডিওতে। তাই আপনি চাইলে বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ নিয়ে ইউটিউবিং করতে পারেন।

 

এছাড়া আপনি আপনার পছন্দমত যে কোন ধরনের ভিডিও মেক করতে পারেন। তবে সাবধান থাকতে হবে যেন চ্যানেলে কোন এডাল্ট ভিডিও না থাকে। কারণ ইউটিউব কোন এডাল্ট ভিডিও এপ্রুভ করে না। মনে রাখবেন, আপনার সাধের চ্যানেল এক নিমিষে বিনা নোটিসে চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply