অনলাইন ইনকাম নিয়ে এটি আমার জীবন থেকে নেওয়া সেরা দিক নির্দেশনা যা আপনাকে ব্যাপক অনুপ্রেরণা যোগাবে।

এস এম এন জামান

২০০৯ সালটা ছিল আমার জন্য খুবই খারাপ একটা সময় কারণ তখন আমি শারীরিকভাবে অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমার জন্ডিস হয়েছিল এবং টানা বেশ কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হয়েছিল ফলে আমি তখন যে কাজ করতাম তা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। একই সাথে ওই বছরের শুরুর দিকেই আমার এক ভাই যিনি ছিলেন আর্মির একজন কর্নেল পিলখানায় দরবার হলে বিডিআর বিদ্রোহে নিহত হন। আমাদের ১০ ভাইয়ের মধ্যে প্রথম কোন ভাইয়ের মৃত্যুটা ছিল অনেক বেশি বেদনাদায়ক।

 

Colonel Jamil

কর্নেল জামিল

এর আগেও আমার পরিবারের একজন সেনাবাহিনীতে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তবে সেটা আমার জন্মের অনেক আগে। তিনি হলেন কর্নেল জামিল যিনি ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর সাথেই নিহত হন। তিনি সম্পর্কে আমার দাদা হন।

 

সে যাই হোক সবকিছু মিলিয়ে কেমন যেন গোলমেলে ছিল সে সময়টা।

 

কোনভাবেই কোন কিছু মেলানো যাচ্ছিল না।

 

আমি জানতাম যে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে বিভিন্ন ধরনের ঝড়-ঝাপটা আসে এবং আমার জীবনটাও এর ব্যতিক্রম নয় তবে ২০০৯ সালের ঘটনাগুলো কেমন যেন অনেক বড় ঝড় যা থেকে রেহাই পাব কিনা এমন সন্দেহ আমার মনে বারে বারে দানা বেঁধেছিল।

 

এই সন্দেহের মধ্যে থাকতে থাকতে যে কিভাবে মহান আল্লাহ তায়ালা আমার জীবনটাকে সুন্দরভাবে একটা শেইপে নিয়ে এসেছেন যার জন্য আমি ওনার কাছে কৃতজ্ঞ।

 

তো চলুন না অনলাইনে কাজের ক্ষেত্রে আমার যাত্রাটা কেমন ছিল তা এখন জেনে নেবেন। দেখুন এটা আমার বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া সুন্দর একটি দিক নির্দেশনা যা জানতে পারলে আপনারা অনেকেই একেবারে কাছ থেকে একটা জিনিস বুঝতে পারবেন যে মানুষের জীবনে অর্থ উপার্জন কেমন কেমন অ্যাডভেঞ্চারাস জিনিসের মধ্য দিয়ে হয়ে থাকে।

 

আমার অনলাইনে আয় এর গল্প

২০০৯ সালে অসুস্থতার কারণে বেড রেস্টে থাকতে থাকতে যখন বুঝতে পারলাম যে আসলেই অফলাইনে এখন আর কাজ করার সুযোগ নেই তখন একটা জিনিস হঠাৎ মাথায় আসলো আমার একজন পরিচিত মানুষের কাছ থেকে। সে বলল যে সে নাকি অনলাইনে লেখালেখি করে এবং তা থেকে মাসে কিছু সংখ্যক টাকা আয় করে যদিও তা খুবই সামান্য।

 

শুনে আমি অবাক হয়ে যাই কারণ অনলাইনে লেখালেখি করে আয় করা যায় এটা আমার কাছে অনেকটাই আশ্চর্যজনক মনে হচ্ছিল।

 

সে বললো যে মাসে তার প্রায় ২০০০ টাকার মত আয় হয় এবং কিছু মাস পর পর সে তা তুলতে পারে যখন ডলারে ১০০ ইউএসডি ($100) হয়।

 

প্রথমে টাকার অংকটা শুনে অতটা আগ্রহ না পেলেও বিস্তারিত জানার পর অনেক বেশি ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম এরকম কাজ করতে কারণ ঘরে বসেই তা করা সম্ভব আর আমার মত ইন্ট্রোভারট টাইপের একটা ছেলের জন্য তা ছিল খুবই কাঙ্ক্ষিত একটি ব্যাপার।

 

যখন তার কাছ থেকে জানতে পারলাম যে সে প্রতিদিন (তাও মাঝে মাঝে গ্যাপ দেয়) মাত্র আধাঘন্টা কাজ করে, তখন এটা বুঝতে পেরেছিলাম যে যদি আরো বেশি সময় ও আরো ভাল্ভাবে কাজ করা যায় তাহলে এ থেকে অনেক টাকা আয় করা সম্ভব।

 

সে জিনিসটাকে হালকাভাবে নিয়েছে অর্থাৎ সে জাস্ট পকেট খরচ মেটাচ্ছে। সে বলল

আমার তো পড়াশোনা করতে হয় তাই  বেশি অতটা সময় পাইনা। অল্প যে সময়টা পাই সেই সময়টাই এই কাজ করি।

 

তো এসব কথাই হচ্ছিল আমাদের বাসায় বসে। তার সাথে অনেক্ষণ এ ব্যাপারে কথা বলার পর যখন সে আমাদের বাসা থেকে চলে যায় তখন আমি গুগলে চলে আসলাম তখনকার গ্রামীণফোনের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

 

সোজা ইউসি মোবাইল ব্রাউজারে এসে Google.com এ আমার মোবাইল থেকে সার্চ করলাম How to make money online.

 

এ যেন অনলাইন ইনকাম এর এক বিশাল ঝুড়ি আমার সামনে হাজির হল। আমি একের পর এক সব আর্টিকেলগুলো গিলতে লাগলাম পৃথিবীর সবথেকে সুস্বাদু খাবারের মত।

 

অনলাইনে আয় করার উপায়সমূহ দেখছি আর ভাবছি কখন আমি নিজে এরকমভাবে কাজ করতে পারবো। প্রতিদিন আমার কাজ হল খাওয়াদাওয়া করা, বিশ্রাম নেওয়া আর ইন্টারনেটে অনলাইনে আয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি শেখা।

 

ব্লগিং এর ব্যাপারটা বেশ ভাল লাগলেও তা তখনও বুঝে উঠতে পারিনি। জাস্ট BlogSpot (ব্লগস্পট) এ একটি ব্লগ খুলে রাখলাম (আগে Blogger.com BlogSpot.com নামে পরিচিত ছিল)।

 

এরপরের দিন ওই পরিচিত মানুষটির সাথে আবার কথা হল এবং তখন সে বললো ফ্রিল্যান্সিং এর কথা। এটা আবার কি? এক একদিন এক এক রকম পেশার নাম শুনছি যা নাকি অনলাইনেই করা যায়।

 

এটা শুনে ওই রাতে Freelancer.com এ ডাটা এন্ট্রির ওপর একটি প্রোফাইল খুললাম। আসলে তখন বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সাররা এই ডাটা এন্ট্রির কাজই করতো।

 

তখনও সবকিছু ভালমত না জানার কারণে ডাটা এন্ট্রির মত একটি কাজ বেছে নেই যার ইনকাম করার রেট অনেক কম এবং যে ফিল্ডে অনেক বেশি কম্পিটিশন।

 

এটাতেও সেই ব্লগস্পটের মত অবস্থা। অর্থাৎ জাস্ট প্রোফাইল ক্রিয়েট করা। আর কিছুই করা হয়নি। কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং জব সার্চ করতে হয়, কিভাবে এপ্লাই করতে হয় তার কিছুই জানতামও না আর পরে জানলেও বিশ্বাস হতো না যে সত্যিই কি এসব জায়গায় কেউ কাজ দেয়। সবকিছু কেমন যেন রোবট রোবট মনে হতো।

 

যাই হোক অনলাইনে আয় নিয়ে কয়েকদিনের ব্যাপক পড়াশুনার ফলে জানতে পারলাম যে ব্লগিংটাই সবথেকে নির্ঝঞ্ঝাট একটা পেশা যা বাসায় থেকেই করা যায়।

 

তবে ব্লগস্পটে ফ্রি ব্লগ দিয়ে নয়, বরং সেলফ হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগ সাইটে ব্লগিং করা সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ কারণ তাতে রিটার্ন অনেক বেশি ও অনেক দ্রুত পাওয়া যায়।

 

এজন্য একদিন সিদ্ধান্তই নিয়ে নিলাম যে একটি ব্লগ খুলবো এবং সেখানে ব্লগিং শুরু করবো। যেই চিন্তা, সেই কাজ। আমার নিজস্ব ইন্টারন্যাশনাল মাস্টারকার্ড না থাকায় আমার এক আত্নীয়কে বললাম যে সে যেন তার কার্ড দিয়ে আমার ডোমেইন ও হোস্টিং কিনে দেয়।

 

সে কিনে দেওয়ার পর আমি নিজেই আমার ব্লগ চালু করলাম। আসলে ব্লগ তৈরি করা খুবই সহজ কাজ যা ততদিনে খুব ভালভাবে শিখে নিয়েছিলাম।

 

ব্লগটা খুলেই প্রথম দিন থেকেই ব্যাপক লেখালেখি শুরু করে দিলাম। সবই ছিল ইংলিশে কারণ তখনও বাংলায় লিখে আয় করা পসিবল ছিল না কারণ এডসেন্স বাংলায় সাপোর্টেড ছিল না। তবে এখনতো আপনাদের অনেক সুবিধা ইংলিশ ভাল না পারলেও বাংলায় লিখেই অনলাইনে ভাল আয় করা সম্ভব।

 

প্রতিদিন অনেক অনেক ব্লগ পোস্ট ও আর্টিকেল লিখি আর পাব্লিশ করতে থাকি। এভাবে কেটে গেল কয়েক সপ্তাহ। দেখলাম যে সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ারের ফলে অল্প কিছু ট্রাফিক (ওয়েবসাইট ভিজিটরদের ট্রাফিক বলে) ছাড়া আর কোন ট্রাফিকই নেই যদিও ব্লগ শুরুর আগে ভেবেছিলাম হয়তো বা লেখার সাথে সাথে হাজার হাজার মানুষ আমার লেখা পড়ার জন্য ভীড় করে ফেলবে।

 

এর কিছুই হলো না। এভাবে কেটে গেল বেশ কিছুদিন। আমি অনেকটাই ফ্রাস্ট্রেটেড হতে থাকলাম। এরই মধ্যে জানতে পারলাম যে ব্লগিং এর মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনেক আয় করা যায়।

 

বিভিন্ন ডিজিটাল প্রডাক্টের এফিলিয়েট সাইনআপ করে তার লিংক আমার ব্লগের আর্টিকেলে দেওয়া শুরু করলাম। ভাবলাম যে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মনে হয় আমার লিংক থেকে মানুষজন সেসব প্রডাক্ট কিনবে এবং আমি অনেক আয় করতে পারবো।

 

আসলে এরকম কিছুই হলো এবং হবারও কথা ছিল না কারণ কোন কিছুই খুব দ্রুত হয় না। কিন্তু আমরা সবকিছু খুব সহজেই পেতে চাই।

 

এভাবে আরো কিছুদিন কাটার পর বুঝলাম যে অনেক অনেক টার্গেটেড অরগানিক ট্রাফিক ছাড়া কোনভাবেই ব্লগিং করে ভাল কিছু করা সম্ভব নয় যেহেতু আমার পক্ষে তখনও ইনভেস্ট করে কোন পেইড ট্রাফিক আনা সম্ভব ছিল না।

 

যেহেতু অনেক অনেক অরগানিক ট্রাফিক আনা এক-দুদিনের ব্যাপার না, তাই এমন কোন কাজ খুজছিলাম যা দিয়ে খুব দ্রুত কিছু আয় করা যাবে কারণ তখন আমার জমানো কিছু টাকা ছিল যাও শেষ হয়ে যাচ্ছিল।

 

তখন হঠাৎ আবারো ফ্রিল্যান্সিং এর কথা মাথায় এলো যে যদি কোন ক্লায়েন্ট হায়ার করে তবে দ্রুতই অনলাইন থেকে আয়ের মুখ দেখবো।

 

তবে এবার আর ডাটা এন্ট্রি না, বরং আর্টিকেল ও ব্লগ পোস্ট রাইটিং এর জন্য কাজে নেমে পড়লাম। ফ্রিল্যান্সার ডট কমে না যেয়ে সোজা একটি একাউন্ট খুললাম ফাইভারে। গিগ ওপেন করে রাখলাম।

 

ওদিকে ওডেস্কেও (এখন যা এল্যান্স ও ওডেস্কের মারজের ফলে আপওয়ার্ক নামে পরিচিত একটি কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে প্রোফাইল খুলে রাখলাম।

 

পরদিন সকালে একের পর এক রাইটিং জবের জন্য এপ্লাই করে সব কানেক্ট শেষ করে ফেললাম। মজার ব্যাপার হলো দুপুরে গোসল শেষ করেই দেখি যে একজন আমেরিকান ক্লায়েন্ট একটি ম্যাসেজ দিয়েছেন যেখানে তিনি আমাকে দিয়ে ওনার বিভিন্ন সেক্স টয়েজ এর পেইজে পজিটিভ কমেন্ট করাতে চাইছেন।

 

আমি বিভিন্ন জিনিস ভেবে সে কাজ আর করিনি। যদিও কাজটি করা হলো না তথাপি মনে অনেক আত্নবিশ্বাস পেলাম যে আসলেই তো কাজ পাওয়া যায়।

 

এরপর অনেক অনেক ম্যাসেজ পেলেও কেউই আমাকে হায়ার করছিল না। এটা স্বাভাবিক যে আমি নতুন হওয়ায় আমার তখন কোন পজিটিভ ফিডব্যাক ও রেটিং ছিল না। যেহেতু অধিকাংশ ক্লায়েন্টই আগের কাজ দেখে তারপর হায়ার করতে চায়, তাই আমি আমার ব্লগের বেশ কিছু আর্টিকেল আমার প্রোফাইলে যুক্ত করে দেই আর আমার ব্লগের নামটা আমার প্রোপোজাল পাঠানোর সময় দিতে থাকলাম।

 

একদিন আমি বাসার বাইরে ছিলাম। কি কারণে মোবাইলের ইন্টারনেট অন করি এবং তখন হঠাৎ একটি ইমেইল পাই। ওটি ছিল ওডেস্ক থেকে একজন থাই ক্লায়েন্ট আমাকে ম্যাসেজ দিয়েছেন।

 

আমি তাড়াতাড়ি ম্যাসেজটি দেখতে ওডেস্কে ঢুকে দেখি যে তিনি লিখেছেন

Your blog is so beautiful! I want to work with you.

 

আমার মনটা আনন্দে ভরে গেল এবং দ্রুত বাসায় এসে মোবাইলের ইন্টারনেট দিয়ে কম্পিউটার চালালাম এবং তাকে রিপ্লাই দিলাম। প্রশংসা করার জন্য থ্যাংক্স জানালাম ও বললাম যে কিভাবে সাহায্য করতে পারি।

 

তিনি তখন আমাকে হেলথ ও ফিটনেসের ওপর লিখতে পারবো কিনা জানতে চেয়ে কিছু স্যাম্পল আর্টিকেল পাঠালেন। আমি তা দেখে হ্যা সূচক সম্মতি দিতেই তিনি ওই রাতে আমাকে হায়ার করেন।

 

কাজটা ছিল ১০০০ ডলারের ($1000)। যদিও অনেক আর্টিকেল লিখে দিতে হবে তবে আমার কাছে তা বিশাল একটা মাইলফলক ছিল। তিনি কাজের জন্য ৬০ ডলারের মাইলস্টোনও ডিপোজিট করলেন।

 

কাজ শুরু করে দিলাম। এরপর একে একে আমেরিকা, চায়না, ভিয়েতনাম, ইংল্যান্ডসহ আরো অনেক দেশের ক্লায়েন্টদের সাথেই কাজ করেছিলাম।

 

এক হাজার ডলার মাসিক আয়ের একটি টার্গেট নিলাম এবং সে অনুযায়ী কাজও করছিলাম। ভালোই চলছিল দিনকাল।

 

কিন্তু একের পর এক রাইটিং কাজ করে হাঁপিয়ে উঠছিলাম। প্রায়ই কাজ করতে ইচ্ছা করতো না কারণ এমন অনেক বিষয়ের ওপর আর্টিকেল লিখতে হতো যে বিষয়ে আমার কোন ইন্টারেস্ট নেই। ফলে অনেক বোরিং লাগতো।

 

কিছুই করার নেই।

 

এভাবে আর্টিকেল লিখতাম আর ভাবতাম যে ব্লগিং কি আবার শুরু করা যায় না সাইড বাই সাইড!!

 

এরই মধ্যে আমার একটা দাওয়াত আসলো অন্য শহর থেকে যেখানে এক সপ্তাহের জন্য যেতে হবে। ততোদিনে ফ্রিল্যান্সিং এর টাকায় একটা মোটামুটি মানের ল্যাপটপও কিনেছি। ভাবলাম যে কোন সমস্যা নেই। এই ল্যাপ্টপ থাকলে অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে থাকবো।

 

একজন ভিয়েতমিজ ক্লায়েন্টের কাছ থেকে বেশ কিছু ডলার এডভান্সও নিলাম প্লেনে করে ওই শহরে পরিবারসহ যাবার ও কেনাকাটা করার জন্য।

 

ওই ক্লায়েন্ট আমাকে অনেক ট্রাস্ট করতো কারণ আগে ভালো কাজ করেছি। যাই হোক আনন্দভ্রমণ শুরু হলো। প্রথমদিন ভাবলাম যে পৌঁছানোর পর রাতে কিছু আর্টিকেল লিখে ফেলবো। কিন্তু কিসের কি। টায়ার্ড লাগছিল, তাই শুয়ে পড়লাম।

 

এরপরদিন সকালে উঠে অনুষ্ঠানে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিলাম আর ভাবলাম যে সন্ধ্যায় ফিরে এসে কাজ করবো। হলো না। পরেরদিন ভাবলাম কাজ করবো। তাও হলো না।

 

এভাবে একে একে সাতদিন কেটে গেল। ওইদিকে ক্লায়েন্টরা চাপ দিচ্ছে আর্টিকেল দেওয়ার জন্য। ভিয়েতনামিজ ক্লায়েন্টতো ভেবেই বসলো যে আমি মনে হয় ওনার টাকাটা মেরে দিয়েছি।

 

যাই হোক আমি তাদের কোনমতে আশ্বস্ত করে বাসায় ফিরে দিনরাত কাজ করতে থাকলাম।

 

তখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম যে আমি যা করছি তাতো আমার ক্লায়েন্টের নিয়মিত আয়ের মাধ্যম হচ্ছে, কিন্তু আমি এককালীন একটা নামমাত্র পেমেন্ট পাচ্ছি যাতে আমার হ্যাসেল কোনভাবেই শেষ হবে না। বরং দিনে দিনে বাড়তে থাকবে।

 

কাজ করলে টাকা পাবো, না করলে নাই।

 

তখন প্যাসিভ ইনকামের বিষয়টি বেশ ক্লিয়ার হয়েছে। অনেককেই দেখতাম যে কি সুন্দর আয়েশ করে ব্লগিং করছে আর আয় করছে।

 

একসময় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম যে না আর এভাবে না। অনেক ভাল ফ্রিল্যান্সিং প্রোফাইল তৈরি হবার পরও মনে হলো যে না নিজের কিছু একটা করতে হবে।

 

অনেক ক্লায়েন্টকে তাদের ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে সরাসরি আর্টিকেল পাব্লিশ করে দেওয়ার মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিংটাও ভালো করে শিখতে পেরেছিলাম।

 

তাই এবার আবার শুরু করে দিলাম অনলাইন ইনকামের নতুন যাত্রা। অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল এ সময়টা কারণ একটা মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত জায়গা থেকে শিফটিংটা মোটেও সহজ একটা সিদ্ধান্ত ছিল না।

 

তখন ফ্রিল্যান্সিং এর পাশাপাশি আবার ব্লগিং শুরু করি। তবে এবার নতুন করে একটা নিশ ব্লগ খুলি একটা স্পেসিফিক বিষয়ের ওপর। আমি যেহেতু কন্টেন্ট রাইটিং করে সফল হয়েছিলাম, তাই আমার নতুন ব্লগে এ বিষয়ে কিভাবে কি করতে হবে তার ওপর আর্টিকেল লেখা শুরু করলাম।

 

এবার খুব অল্প সময়ের মধ্যে কিছুটা সাফল্যের মুখ দেখলাম। এটা একেবারে কাকতালীয়ভাবে হয়েছিল। আমি ইন্ডিয়ান একজন ব্লগারের ব্লগ দেখছিলাম। তখন কারো ব্লগ পেলেই সেটার এনালিটিক্স বিভিন্ন টুলস এ দিয়ে দেখতাম।

 

এমনিভাবে তারটাও একটা এসইও টুল নাম SEMrush এ দিয়ে চেক করলাম। দেখলাম যে একটা খুবই লো কম্পেটিটিভ কিওয়ারড এ তার অনেক কয়টা আর্টিকেল র‍্যাংক করা।

 

আমি পরের দিনই ওই কিওয়ার্ড এর ওপর একটি ভাল আর্টিকেল লিখে ফেললাম এবং আরো কিছু রিলিভেন্ট আর্টিকেল লেখলাম। এসব আর্টিকেলের সাথে গ্রামারলির এফিলিয়েট লিংকও জুড়ে দিলাম কারণ আর্টিকেলগুলো ছিল অনলাইন গ্রামার রিলেটেড।

 

আমি বুঝতেও পারিনি যে এটা এতো কাজে দেবে। তখন একটা অভ্যাস ছিল যে প্রত্যেক দিন কয়েকবার আমার এফিলিয়েট একাউন্টে প্রবেশ করে পারফর্মেন্স দেখা। হঠাত একদিন রাতে আমার এফিলিয়েট ড্যাশবোর্ড এ যেয়ে নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

 

৪০ ডলার আমার একাউন্টে দেখে আমি তো অবাক হয়ে গেলাম। সাথে সাথে রিপোর্ট দেখলাম যে কোথা থেকে এলো এই কমিশন। দেখলাম যে গ্রামারলি ওই সফটওয়্যার দুইবার সেল হয়েছে আমার দেওয়া এফিলিয়েট লিংক থেকে।

 

এবার অনেক আত্নবিশ্বাসী হয়ে উঠলাম এবং সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেললাম যে ফ্রিল্যান্সিং পুরোপুরি ছেড়ে দিয়ে (শুধু অল্প কয়েকজন পার্মানেন্ট ক্লায়েন্ট এর কাজ করবো) ব্লগিং এ ফুল টাইম দেব।

 

কয়েকদিনের মধ্যে কাজেও নেমে পড়লাম। ভেবেছিলাম হয়তো খুব দ্রুত ব্লগ থেকে ভালো আয় হবে, কিন্তু না ওই যে দুইটি বিক্রি হলো। এরপর আর তেমন কোন কমিশন পাচ্ছিলাম না।

 

একদিকে ব্লগিং থেকে আয় শূন্য আর অন্য দিকে ফ্রিল্যান্সিং থেকেও আয় অনেক কমে গেল। তখনও হাল ছাড়িনি। মাঝে মাঝেই ফ্রিল্যান্সিং কাজগুলো করতে হচ্ছিল Online Income ঠিক রাখার জন্য।

 

অনেক কয়মাস পরে আমার এফিলিয়েট ড্যাশবোর্ডে ১০০ ডলার জমা হলো এবং আমি তা তুলতে পারলাম। এভাবে তো আর টিকে থাকা যায় না। এরপর একসময় এডসেন্স এ এপ্লাই করলাম। তা প্রথমবার এপ্রুভ না হলেও দ্বিতীয়বার হলো।

 

তখন অনলাইন থেকে তিনভাবে আয় হতে থাকলোঃ ১। ফ্রিল্যান্সিং ২। এফিলিয়েট কমিশন ৩। এডসেন্স

 

তিন উপায়ে আয় হলেও তখনও ব্লগ থেকে আহামরি আয় শুরু হয়নি। আস্তে আস্তে একটা ভাল আয়ের মুখ দেখতে পেলাম যখন অনলাইনে আয়ের আরো আরো উপায় সামনে আসতে থাকলো।

 

বিদেশী ক্লায়েন্টদের কাজ করতে করতে মনে হলো যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লায়েন্টের কাজও করা যেতে পারে কারণ ততদিনে ভারতীয় অনেক ক্লায়েন্টের কাজও করেছি।

 

এজন্য বাংলাদেশী বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা দিতে শুরু করলাম। এটা ছিল খুবই হতাশার কারণ তখনও ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যপারে অধিকাংশ ক্লায়েন্টদের অতটা আগ্রহ ছিল না বা এটার গুরুত্ব ওনারা বুঝতে পারতেন না। ভাবতেন যে অনলাইন থেকে মানুষ এসে কি আমাদের প্রডাক্ট কিনবে এটা আবার হয় নাকি ইত্যাদি ইত্যাদি।

 

যাই হোক পরে অবশ্য অনেকেই বুঝতে সক্ষম হচ্ছিলেন যে আসলে অনলাইনের যুগে ডিজিটাল মার্কেটিং করে ব্যবসার আয় বৃদ্ধি করাই অনেক সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী একটা মাধ্যম।

 

একসময় আমার স্ত্রী ইউটিউবে রান্নার একটি চ্যানেল খোলার সিদ্ধান্ত নিলো। আমি এসইও (SEO) ভাল পারায় তাকে তার চ্যানেল খুলতে ও কিভাবে ভিডিও বানাবে তার পদ্ধতি দেখালাম।

 

সে তার চ্যানেল থেকে কিছু মাস পর হতে ভাল ভিউ পেতে থাকলো, তখন আমি ভাবলাম যে চাইলে আমিও তো পারি আমার যেসব বিষয়ে দক্ষতা আছে তা মানুষকে জানাতে।

 

এ চিন্তা থেকে আমিও একে একে অনেক কয়টি ইউটিউব চ্যানেল ওপেন করি ও তাতে ভিডিও দিতে থাকি।

 

আমারও ভাল ভিউ ও সাবস্ক্রাইবার আসতে থাকে। এভাবে এক সময়ে মাল্টিপল সোর্স থেকে ইনকাম আসতে থাকে আলহামদুলিল্লাহ।

 

তো প্রিয় বন্ধুরা, এখানে আমি আমার জীবন থেকে নেওয়া অনলাইনে উপার্জনের ধাপগুলো দেখালাম। এটা আমার জীবনের স্টোরি যা আপনাদের অনেককেই অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি মনে করি।

 

আমার এই ব্লগজুড়ে অনলাইনে আয় ও কিভাবে ডিজিটাল মার্কেটিং কাজে লাগিয়ে একটি ব্যবসার আয় বৃদ্ধি করতে হয় সে সংক্রান্ত অসংখ্য আর্টিকেল পাবেন আর ভিডিওসমূহ পাবেন আমার ইউটিউব ও ফেসবুক পেইজে যা থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো শিখতে পারবেন বলে আশা করছি।

 

এছাড়াও যারা অনলাইনে একটা সুন্দর ফুলটাইম ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের জন্য আমি এফিলিয়েট মার্কেটিং, ব্লগিং, ফ্রিল্যাসিং, এসইও (SEO), ইউটিউবিংসহ বেশকিছু কোর্স করিয়ে থাকি যেখানে আমার লাইভ ক্লাসে অংশগ্রহণ করে হাতে-কলমে বিষয়গুলো শিখে নিতে পারেন।

 

কোর্স এ অংশগ্রহণ করতে ও বিস্তারিত জানতে এক্ষুনি ০১৭৯৭-১৭০২০০ নাম্বারে যোগাযোগ করুন